...
...
Next Story

মোক্ষদা একাদশী ব্রত পালনে মেলে পিতৃপুরুষের মুক্তি, জেনে নিন ব্রত কথা ও মাহাত্ম্য

হিন্দুধর্মে এই তিথির গুরুত্ব অপরিসীম। বিশ্বাস করা হয়, এই পবিত্র তিথিতে উপবাস ও ব্রত পালনের মাধ্যমে কেবল বর্তমান জীবনের পাপই নয়, বরং পূর্বপুরুষদের আত্মাও মুক্তি বা মোক্ষ লাভ করে।

Published on: Dec 1, 2025, 10:18:49 IST
By
Prefer HTon Google
Advertisement

প্রতি বছর মার্গশীর্ষ (অগ্রহায়ণ) মাসের শুক্লপক্ষের একাদশী তিথিটি মোক্ষদা একাদশী নামে পরিচিত। 'মোক্ষদা' শব্দের অর্থ হলো—যিনি মুক্তি দান করেন। হিন্দুধর্মে এই তিথির গুরুত্ব অপরিসীম। বিশ্বাস করা হয়, এই পবিত্র তিথিতে উপবাস ও ব্রত পালনের মাধ্যমে কেবল বর্তমান জীবনের পাপই নয়, বরং পূর্বপুরুষদের আত্মাও মুক্তি বা মোক্ষ লাভ করে। এই তিথিতেই ভগবান শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে কুরুক্ষেত্রের ময়দানে গীতার জ্ঞান দান করেছিলেন বলে মনে করা হয়।

মোক্ষদা একাদশী ব্রত পালনে মেলে পিতৃপুরুষের মুক্তি, জেনে নিন ব্রত কথা ও মাহাত্ম্য
মোক্ষদা একাদশী ব্রত পালনে মেলে পিতৃপুরুষের মুক্তি, জেনে নিন ব্রত কথা ও মাহাত্ম্য

মোক্ষদা একাদশী পালনের নেপথ্যে যে কিংবদন্তি প্রচলিত আছে, তা নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন নিচে দেওয়া হলো:

১. মোক্ষদা একাদশীর ব্রত কথা (Vrat Katha)

এই ব্রত কথার কেন্দ্রে আছেন বৈখানস (Vaikanas) নামক এক ধর্মপ্রাণ রাজা, যিনি চম্পক নগর শাসন করতেন।

ক. রাজার স্বপ্ন ও পিতার কষ্ট

এক রাতে রাজা বৈখানস এক বিভীষিকাময় স্বপ্ন দেখেন। তিনি দেখেন যে তাঁর স্বর্গীয় পিতা নরকে বা অত্যন্ত কষ্টকর পরিস্থিতিতে কষ্ট পাচ্ছেন। এই দৃশ্য দেখে রাজা গভীরভাবে বিচলিত হন। ঘুম ভাঙার পর তিনি সঙ্গে সঙ্গে রাজ্যের বিদ্বান ব্রাহ্মণ ও পন্ডিতদের ডেকে তাঁর স্বপ্নের কথা জানান এবং পিতার মুক্তির উপায় জানতে চান। কিন্তু কেউ এই সমস্যার সঠিক সমাধান দিতে পারেননি।

খ. পর্বত মুনির উপদেশ

অবশেষে রাজা বৈখানস এক মহান সাধক, পর্বত মুনি (Parvata Muni)-এর আশ্রমে যান। পর্বত মুনি তাঁর যোগশক্তির মাধ্যমে রাজার পিতার অবস্থা জানতে পারেন। মুনি রাজাকে জানান যে, তাঁর পিতা তাঁর পূর্বকৃত একটি গুরুতর পাপের কারণে নরক যন্ত্রণা ভোগ করছেন।

গ. মুক্তির পথ

পর্বত মুনির কথা শুনে রাজা যথাসময়ে ভক্তি সহকারে সমস্ত নিয়ম মেনে মোক্ষদা একাদশী ব্রত পালন করেন। ব্রত শেষে, রাজা তাঁর সমস্ত পূণ্য তাঁর পিতার উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করেন। এই পূণ্যের প্রভাবে রাজার পিতা সঙ্গে সঙ্গে নরক থেকে মুক্তি পান এবং স্বর্গ বা বৈকুণ্ঠের পথে যাত্রা করেন।

২. মোক্ষদা একাদশীর মাহাত্ম্য

  • মোক্ষ লাভ: এই ব্রত পালনের মূল উদ্দেশ্যই হলো মুক্তি। বিশ্বাস করা হয় যে, এই দিনে উপবাস করলে সকল পাপ থেকে মুক্তি লাভ করা যায়।
  • গীতা জয়ন্তী: এই দিনেই কুরুক্ষেত্রের ময়দানে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার জ্ঞান দান করেছিলেন। তাই মোক্ষদা একাদশীর দিনে গীতা পাঠ করা অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়।
  • বিষ্ণু পূজা: এই একাদশীতে ভগবান বিষ্ণুর পূজা এবং ধ্যান করা হয়।

৩. পূজা পদ্ধতি (সংক্ষেপে)

মোক্ষদা একাদশীর দিন সকালে স্নান সেরে পরিষ্কার কাপড় পরিধান করতে হয়। এরপর সারা দিন উপবাস থেকে ভগবান বিষ্ণুর পূজা করতে হয়। এই দিন তুলসী পাতা অর্পণ করা এবং বিষ্ণু সহস্রনাম পাঠ করা শুভ বলে বিবেচিত। এই দিনে অবশ্যই দান-ধ্যান করা উচিত।

 
ABOUT THE AUTHOR
Suman Roy

সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe