...
...
Next Story

সোমবার শিব চালিশা পাঠের অলৌকিক সুফল! জানুন পাঠ করার সঠিক নিয়ম ও জ্যোতিষীয় মাহাত্ম্য

জ্যোতিষ এবং ধর্মশাস্ত্রের বিধান অনুযায়ী, ভোলেবাবা হলেন অত্যন্ত আশুতোষ, অর্থাৎ যিনি সামান্য ভক্তি ও শ্রদ্ধাতেই দ্রুত সন্তুষ্ট হন। তাই জটিল কোনো কঠিন মন্ত্র জপ করতে না পারলেও সহজ ভাষায় রচিত শিব চালিশা পাঠ করেই মহাদেবের অপার আশীর্বাদ লাভ করা সম্ভব।

Published on: Aug 3, 2026, 06:38:02 IST
Advertisement

সনাতন ধর্ম ও বৈদিক সংস্কৃতিতে সপ্তাহের প্রতিটি দিনই কোনো না কোনো দেব-দেবীর আরাধনার জন্য নির্ধারিত। এর মধ্যে সোমবার দিনটি দেবাদিদেব মহাদেবের পরম প্রিয় দিন হিসেবে গণ্য করা হয়। বৈদিক জ্যোতিষ ও শাস্ত্র মতে, সোমবার ভোলেবাবার পূজা-অর্চনা, শিবলিঙ্গে জলাভিষেক এবং পরম ভক্তিভরে ‘শিব চালিশা’ (Shiv Chalisa) পাঠ করলে জীবনের সমস্ত সংকট নিমেষে দূর হয়ে যায়।

সোমবার শিব চালিশা পাঠের অলৌকিক সুফল! জানুন পাঠ করার সঠিক নিয়ম ও মাহাত্ম্য
সোমবার শিব চালিশা পাঠের অলৌকিক সুফল! জানুন পাঠ করার সঠিক নিয়ম ও মাহাত্ম্য

শিব চালিশা হলো ৪০টি পদের এক অলৌকিক ও ছন্দময় স্তোত্র, যাতে মহাদেবের রূপ, মহিমা, করুণা ও ভক্তবাৎসল্যের বর্ণনা রয়েছে। প্রতি সোমবারে নিয়ম মেনে শিব চালিশা পাঠ করলে কেবল ধর্মীয় পুণ্যই মেলে না, বরং মানসিক ও বৈষয়িক জীবনেও মিলবে অভাবনীয় সুফল। সোমবার শিব চালিশা পাঠের উপকারিতা, শাস্ত্রীয় নিয়ম এবং জ্যোতিষীয় দিক জেনে নিন।

জ্যোতিষ এবং ধর্মশাস্ত্রের বিধান অনুযায়ী, ভোলেবাবা হলেন অত্যন্ত আশুতোষ, অর্থাৎ যিনি সামান্য ভক্তি ও শ্রদ্ধাতেই দ্রুত সন্তুষ্ট হন। তাই জটিল কোনো কঠিন মন্ত্র জপ করতে না পারলেও সহজ ভাষায় রচিত শিব চালিশা পাঠ করেই মহাদেবের অপার আশীর্বাদ লাভ করা সম্ভব।

সোমবার শিব চালিশা পাঠের অলৌকিক উপকারিতা

শাস্ত্র অনুযায়ী, নিয়মিত সোমবারে এই চালিশা জপ করলে ভক্তের জীবনে বেশ কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যায়:

  • মানসিক শান্তি ও মনশ্চাঞ্চল্য দূরীকরণ: জ্যোতিষশাস্ত্রে চন্দ্র গ্রহকে মন বা আবেগের কারক বলা হয় এবং সোমবারে চন্দ্রের অধিপতি ভগবান শিব। যাঁদের মন অস্থির, অতিরিক্ত মানসিক উদ্বেগে ভোগেন বা কুণ্ডলীতে চন্দ্র দুর্বল, সোমবারে শিব চালিশা পাঠ করলে তাঁদের মন শান্ত হয় এবং মানসিক জট কেটে যায়।
  • গ্রহদোষ ও নেতিবাচক শক্তি বিনাশ: কুণ্ডলীতে রাহু-কেতু, শনি বা বিষ যোগের মতো অশুভ গ্রহদশা থাকলে শিব চালিশার প্রভাবে তা প্রশমিত হয়। এটি বাড়ির চারপাশের সমস্ত অশুভ ও নেতিবাচক শক্তি দূর করে ইতিবাচক বাতাবরণ তৈরি করে।
  • পারিবারিক সুখ ও দাম্পত্য মধুরতা: বিবাহে বাধা বা দাম্পত্য জীবনে অশান্তি দেখা দিলে সোমবারে শিব চালিশা পাঠ করা পরম ফলদায়ক। অবিবাহিতদের মন মতো জীবনসঙ্গী পাওয়ার ইচ্ছা পূরণ হয় এবং বিবাহিত জীবনে ভালোবাসা বাড়ে।
  • রোগমুক্তি ও দীর্ঘায়ু লাভ: শিব চালিশার রেগুলার জপ শরীর ও মনে অমৃতময় শক্তির সঞ্চার করে। এটি জটিল রোগ-ব্যাধি থেকে মুক্তি দেয় এবং অকাল মৃত্যুর ভয় দূর করে।

জ্যোতিষ ও ধর্মশাস্ত্রের বক্তব্য

চালিশা পাঠ থেকে পূর্ণ ফল পেতে হলে কিছু সুনির্দিষ্ট শাস্ত্রীয় নিয়ম মেনে চলা জরুরি:

১. সূর্যোদয়ের পূর্বে স্নান ও পরিচ্ছন্নতা: সোমবারে সকালে ব্রহ্ম মুহূর্তে বা সূর্যোদয়ের পূর্বে উঠে স্নান সেরে পরিষ্কার সাদা বা হালকা রঙের পোশাক পরিধান করুন।

২. পূজার স্থান প্রস্তুতকরণ: ঘরের ঠাকুরঘরে বা শিব মন্দিরে মহাদেব ও মা পার্বতীর ছবি বা শিবলিঙ্গের সামনে বসুন। উত্তর বা পূর্ব দিকে মুখ করে বসা অত্যন্ত শুভ।

৩. প্রদীপ ও ধূপ প্রজ্জ্বলন: শিবলিঙ্গে জল, কাঁচা দুধ ও বেলপাতা অর্পণ করুন। এরপর একটি দেশি ঘিউয়ের বা তিলের তেলের প্রদীপ এবং সুগন্ধি ধূপকাঠি জ্বালান।

৪. একাগ্র চিত্তে পাঠ: প্রদীপের সামনে বসে বিশুদ্ধ উচ্চারণে ও শান্ত মনে শিব চালিশা পাঠ শুরু করুন। পাঠ করার সময় মন যেন অন্য কোনো চিন্তায় বিভ্রান্ত না হয়।

৫. আরতি ও পুষ্পাঞ্জলি: চালিশা পাঠ শেষ হলে মহাদেবের আরতি করুন এবং শেষে জানা-অজানা কোনো ভুলের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন।

ভগবান শিব কেবল ভক্তির কাঙাল। তাই অনাড়ম্বর আয়োজনেও যদি সোমবারে পরম শ্রদ্ধায় এই শিব চালিশা পাঠ করা যায়, তবে ভোলেবাবার পরম করুণায় জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে সাফল্য ও পরম শান্তি সুনিশ্চিত হয়।

 
ABOUT THE AUTHOR
Suman Roy

সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe