Chandra in twelve houses: বৈদিক জ্যোতিষশাস্ত্রে চন্দ্র বা চন্দ্রদেবকে মনের কারক গ্রহ হিসেবে গণ্য করা হয়। প্রখ্যাত জ্যোতিষ গ্রন্থ ‘ফলদীপিকা’ (Phaladeepika) অনুসারে, কোনো জাতক বা জাতিকার জন্মকুণ্ডলীর ১২টি ঘরে চন্দ্রের অবস্থান তাঁর মানসিকতা, স্বাস্থ্য, আবেগ, ভাগ্য এবং জীবনযাত্রাকে সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণ করে। চন্দ্র যেহেতু অত্যন্ত দ্রুত গতিশীল একটি গ্রহ, তাই এর সামান্য পরিবর্তনও মানুষের মেজাজ ও ভাগ্যে বড় প্রভাব ফেলে।

কুণ্ডলীর প্রথম থেকে দ্বাদশ ঘরে চন্দ্রের অবস্থান কেমন প্রভাব ফেলে—তা নিয়ে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন নিচে তুলে ধরা হলো।
চন্দ্র যদি শুভ অবস্থানে থাকে, তবে জাতক অত্যন্ত শান্ত, দয়ালু এবং সৃজনশীল হন। অন্যদিকে চন্দ্র দুর্বল বা পাপদৃষ্ট হলে তা মানসিক অশান্তি ও অস্থিরতা তৈরি করে। নিচে ১২টি ঘরে চন্দ্রের ফল সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো:
প্রথম থেকে চতুর্থ ভাব: রূপ, ধন ও সুখের বিচার
- প্রথম ঘর (লগ্ন): প্রথম ঘরে চন্দ্র থাকলে জাতক অত্যন্ত আকর্ষক রূপ ও সুন্দর ব্যক্তিত্বের অধিকারী হন। এরা সাধারণত দয়ালু ও ভ্রমণপ্রিয় হন। তবে চন্দ্র দুর্বল হলে জাতক কিছুটা চঞ্চল মনের হতে পারেন।
- দ্বিতীয় ঘর: ধন ও বাণীর ঘরে চন্দ্রের অবস্থান জাতককে সুবক্তা এবং ধনী করে তোলে। এরা পারিবারিক সুখ লাভ করেন এবং সমাজে অত্যন্ত সমাদৃত হন।
- তৃতীয় ঘর: এই ঘরে চন্দ্র থাকলে জাতক অত্যন্ত পরাক্রমী, সাহসী এবং বুদ্ধিমান হন। ভাইবোনেদের সাথে এদের সম্পর্ক ভালো থাকে এবং এরা নিজের চেষ্টায় জীবনে উন্নতি করেন।
- চতুর্থ ঘর: সুখ ও মাতার ঘরে চন্দ্র অবস্থান করলে জাতক সমস্ত ধরণের জাগতিক সুখ, যেমন— ভালো বাড়ি ও গাড়ির মালিক হন। মায়ের সাথে সম্পর্ক অত্যন্ত মধুর থাকে এবং এদের মানসিক শান্তি বজায় থাকে।
পঞ্চম থেকে অষ্টম ভাব: শিক্ষা, শত্রু ও আয়ু
- পঞ্চম ঘর: এটি বুদ্ধি ও সন্তানের ঘর। এখানে চন্দ্র থাকলে জাতক তীক্ষ্ণ বুদ্ধিসম্পন্ন, ধার্মিক এবং একজন ভালো পরামর্শদাতা হন। এরা উচ্চশিক্ষা লাভ করতে সফল হন।
- ষষ্ঠ ঘর: ষষ্ঠে চন্দ্রের অবস্থান খুব একটা শুভ মনে করা হয় না। জাতক পেটের সমস্যা বা ঠাণ্ডা লাগার ধাত সংক্রান্ত রোগে ভুগতে পারেন। তবে এরা শত্রুদের ওপর বিজয়ী হন।
- সপ্তম ঘর: বিবাহের ঘরে চন্দ্র থাকলে জাতক অত্যন্ত সুন্দর, গুণী এবং বিশ্বস্ত জীবনসঙ্গী লাভ করেন। ব্যবসা বা পার্টনারশিপের কাজে এরা ভালো সাফল্য পান।
- অষ্টম ঘর: অষ্টম ভাবকে জ্যোতিষে আয়ু ও সংকটের ঘর বলা হয়। এখানে চন্দ্র থাকলে জাতকের স্বাস্থ্য কিছুটা দুর্বল হতে পারে এবং মনের মধ্যে এক ধরণের অজানা ভয় কাজ করে। তবে এদের আধ্যাত্মিক যোগ থাকে।
নবম থেকে দ্বাদশ ভাব: ভাগ্য, কর্ম ও মোক্ষ
- নবম ঘর: ভাগ্যের ঘরে চন্দ্রের উপস্থিতি জাতককে পরম ভাগ্যবান করে তোলে। এরা ধর্মপরায়ণ, সৎ এবং তীর্থভ্রমণ করতে ভালোবাসেন। সমাজে এদের মান-সম্মান থাকে আকাশছোঁয়া।
- দশম ঘর: কর্মক্ষেত্রে দশম চন্দ্র জাতককে অত্যন্ত সফল ব্যবসায়ী বা উচ্চপদস্থ সরকারি চাকুরিজীবী করে তোলে। এরা যেকোনো কাজে খুব দ্রুত নেতৃত্ব দিতে পারেন।
- একাদশ ঘর: আয়ের ঘরে চন্দ্রের অবস্থান জাতককে দীর্ঘায়ু এবং অত্যন্ত ধনী করে তোলে। বিভিন্ন উৎস থেকে এদের অর্থ উপার্জন হয় এবং বন্ধুদের থেকে এরা সবসময় সাহায্য পান।
- দ্বাদশ ঘর: ব্যয়ের ঘরে চন্দ্র থাকলে জাতক কিছুটা চিন্তাশীল বা একাকীত্ব পছন্দ করতে পারেন। এদের খরচের হাত বেশি থাকে, তবে বৈদেশিক সূত্রে বা বিদেশ ভ্রমণের মাধ্যমে এদের ভাগ্যোদয়ের সম্ভাবনা থাকে।
‘ফলদীপিকা’ গ্রন্থ অনুযায়ী, চন্দ্রের অবস্থান মানুষের ভেতরের মানসিক শক্তিকে ফুটিয়ে তোলে। তবে কুষ্টিতে চন্দ্রের এই ফলের তীব্রতা চন্দ্রের দশা, মহাদশা এবং শুভ বা অশুভ গ্রহের দৃষ্টির ওপর অনেকটাই নির্ভর করে।
{{/usCountry}}‘ফলদীপিকা’ গ্রন্থ অনুযায়ী, চন্দ্রের অবস্থান মানুষের ভেতরের মানসিক শক্তিকে ফুটিয়ে তোলে। তবে কুষ্টিতে চন্দ্রের এই ফলের তীব্রতা চন্দ্রের দশা, মহাদশা এবং শুভ বা অশুভ গ্রহের দৃষ্টির ওপর অনেকটাই নির্ভর করে।
{{/usCountry}}