বৈদিক জ্যোতিষশাস্ত্রে গ্রহের সেনাপতি মঙ্গলকে শক্তি, সাহস, ল্যান্ড-প্রপার্টি, পরাক্রম ও নেতৃত্বের প্রতীক হিসেবে গণ্য করা হয়। অন্যদিকে দেবগুরু বৃহস্পতি হলেন জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও সৌভাগের কারক। জ্যোতিষশাস্ত্রীয় গণনা অনুযায়ী, যখন কোনো গ্রহ তার নীচ রাশিতে অবস্থান করা সত্ত্বেও শুভ গ্রহের প্রভাব বা বিশেষ শুভ যোগের কারণে তার নীচত্ব বা অশুভ প্রভাব সম্পূর্ণ বিনষ্ট হয়ে চরম রাজকীয় ফল দিতে শুরু করে, তখন জন্ম নেয় পরম শক্তিশালী 'নীচভঙ্গ রাজযোগ' (Neech Bhang Rajyog)।

বৈদিক পঞ্জিকা অনুযায়ী, কর্কট রাশিতে মঙ্গলের গমনের পর শুভ গ্রহের প্রভাব ও সংযোগে গঠিত হতে চলেছে এই অলৌকিক নীচভঙ্গ রাজযোগ। কর্কট রাশি হলো মঙ্গলের নীচ রাশি হলেও, এই রাজযোগের প্রভাবে অশুভ ফল দূর হয়ে নির্দিষ্ট ৪টি রাশির জাতক-জাতিকাদের জীবনে থমকে থাকা কাজ দ্রুত গতিতে সম্পন্ন হবে। বিশেষ করে মেষ, বৃশ্চিক, ধনু ও মীন রাশির জাতক-জাতিকারা মঙ্গলের এই বলীয়ান প্রভাবে কর্মক্ষেত্রে পদোন্নতি, রিয়েল এস্টেটে মুনাফা এবং আকস্মিক বিপুল ধনলাভের মুখ দেখবেন। এই শুভ রাজযোগে কোন ৪ রাশির জীবনে গোল্ডেন টাইম শুরু হতে চলেছে—জেনে নিন।
১. বৈদিক জ্যোতিষশাস্ত্রে মঙ্গলের 'নীচভঙ্গ রাজযোগ'-এর বিশেষ গুরুত্ব
জ্যোতিষ শাস্ত্রীয় মানদণ্ডে সাধারণ রাজযোগের চেয়ে নীচভঙ্গ রাজযোগের প্রভাব বহুগুণ বেশি তীব্র ও অলৌকিক সাফল্য এনে দেয়:
- প্রতিকূলতা জয় করে চরম সাফল্য: নীচভঙ্গ রাজযোগের মূল বিশেষত্ব হলো, এটি জাতককে সমস্ত প্রতিকূল পরিস্থিতি থেকে বের করে এনে খ্যাতির শিখরে পৌঁছে দেয়।
- রিয়েল এস্টেট, সেনা ও প্রশাসনিক খাতে জয়: সেনাপতি মঙ্গলের কৃপায় প্রপার্টি ব্যবসা, জমি-জমা কেনাবেচা, পুলিশ, সেনা, প্রযুক্তি, আইন ও প্রশাসনিক পদের সাথে যুক্ত ব্যক্তিরা নজিরবিহীন মান-সম্মান ও সাফল্য অর্জন করেন।
২. নীচভঙ্গ রাজযোগে ভাগ্যের বন্ধ দুয়ার খুলবে যে ৪ রাশির
ক) মেষ রাশি (Aries): মেষ রাশির অধিপতি গ্রহ স্বয়ং মঙ্গলদেব। কর্কট রাশিতে গঠিত নীচভঙ্গ রাজযোগ মেষ রাশির জাতক-জাতিকাদের জন্য চরম সৌভাগ্য নিয়ে আসবে। গৃহ, যানবাহন বা প্রপার্টি কেনার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে। চাকুরিজীবীরা কর্মক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের ভূয়সী প্রশংসা পাবেন এবং প্রমোশন বা বেতন বৃদ্ধির ইঙ্গিত মিলতে পারে। আর্থিক স্থায়িত্ব বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।
{{/usCountry}}ক) মেষ রাশি (Aries): মেষ রাশির অধিপতি গ্রহ স্বয়ং মঙ্গলদেব। কর্কট রাশিতে গঠিত নীচভঙ্গ রাজযোগ মেষ রাশির জাতক-জাতিকাদের জন্য চরম সৌভাগ্য নিয়ে আসবে। গৃহ, যানবাহন বা প্রপার্টি কেনার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে। চাকুরিজীবীরা কর্মক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের ভূয়সী প্রশংসা পাবেন এবং প্রমোশন বা বেতন বৃদ্ধির ইঙ্গিত মিলতে পারে। আর্থিক স্থায়িত্ব বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।
{{/usCountry}}খ) বৃশ্চিক রাশি (Scorpio): বৃশ্চিক রাশির অধিপতিও মঙ্গলদেব। ফলে নবম বা শুভ ভাবে গঠিত এই নীচভঙ্গ রাজযোগ বৃশ্চিক রাশির ভাগ্যকে বহুগুণ শক্তিশালী করে তুলবে। দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা বড় অঙ্কের বকেয়া টাকা ফেরত আসবে। ব্যবসায়ীরা নতুন বড় চুক্তি বা পার্টনারশিপে যুক্ত হয়ে আকস্মিক ধনলাভ করবেন। ধর্মীয় বা শুভ যাত্রার যোগ তৈরি হচ্ছে।
গ) ধনু রাশি (Sagittarius): ধনু রাশির অধিপতি দেবগুরু বৃহস্পতির সাথে মঙ্গলের মিত্রতা থাকায় এই রাজযোগ ধনু রাশির জাতকদের জীবনে বরদানস্বরূপ। কর্মক্ষেত্রে প্রতিপক্ষের সমস্ত চাল ব্যর্থ করে নিজের আধিপত্য বজায় রাখবেন। নতুন চাকরির খোঁজ করা প্রার্থীরা আকর্ষনীয় অফার পেতে পারেন। পৈতৃক সম্পত্তি বা পুরোনো বিনিয়োগ থেকে বড় অঙ্কের অর্থ মিলতে পারে।
ঘ) মীন রাশি (Pisces): মীন রাশির জাতক-জাতিকাদের জন্য এই রাজযোগ আর্থিক সচ্ছলতা ও পারিবারিক সুখের সূচনা করবে। পঞ্চদশ বা পঞ্চম ভাব শক্তিশালী হওয়ায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় দারুণ সাফল্য আসবে। শেয়ার বাজার বা ক্রিয়েটিভ কাজের সাথে যুক্ত ব্যক্তিরা ভালো রিটার্ন পাবেন। সমাজে মান-সম্মান ও প্রতিষ্ঠা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।
৩. মঙ্গলের পূর্ণ কৃপা ও শুভ ফল বৃদ্ধির সহজ জ্যোতিষীয় প্রতিকার
নীচভঙ্গ রাজযোগের শতভাগ শুভ ফল পেতে এবং মঙ্গলের শুভ প্রভাব বাড়াতে কিছু সহজ বৈদিক নিয়ম মেনে চলা যেতে পারে:
- শ্রী হনুমান পুজো ও চালিসা পাঠ: প্রতি মঙ্গল ও শনিবার হনুমান চালিসা বা সুন্দরকান্ড পাঠ করুন এবং শ্রী হনুমানজীর সামনে সর্ষের তেলের প্রদীপ জ্বালান।
- গুড় ও লাল বস্তু দান: মঙ্গলবারে দুঃস্থ ব্যক্তিদের গুড়, মুসুর ডাল বা লাল রঙের বস্তু দান করা অত্যন্ত পরম শুভ।
- মঙ্গল বীজ মন্ত্র জপ: প্রতিদিন সকালে স্নানের পর অন্তত ১০৮ বার 'ওঁ ক্রাং ক্রীং ক্রৌং সঃ ভৌমায় নমঃ' অথবা 'ওঁ অঙ্গারকায় নমঃ' মন্ত্র জপ করলে মঙ্গল গ্রহ পরম শুভ ফল প্রদান করেন।
কর্কট রাশিতে মঙ্গলের সঞ্চারে গঠিত হতে চলা পরম রাজকীয় ‘নীচভঙ্গ রাজযোগ’ মেষ, বৃশ্চিক, ধনু ও মীন রাশির জাতক-জাতিকাদের জন্য অর্থ, সম্পত্তি লাভ ও কেরিয়ারে উচ্চ প্রগতির এক ঐতিহাসিক সুবর্ণ সুযোগ নিয়ে এসেছে। সঠিক কৌশল ও সাহসিকতার সাথে এগিয়ে চললে এই সময়টিতে জীবনের মোড় ঘুরে যাওয়া সুনিশ্চিত।