Raksha Bandhan bhadra kaal timing: সনাতন ধর্মে ভাই ও বোনের পবিত্র ভালোবাসার পরম প্রতীক হলো ‘রক্ষাবন্ধন’ বা রাখি পূর্ণিমা উৎসব। প্রতি বছর শ্রাবণ মাসের পূর্ণিমা তিথিতে অত্যন্ত আনন্দ ও উদ্দীপনার সাথে এই বিশেষ পর্ব উদযাপিত হয়। এই দিনে বোনেরা তাঁদের ভাইয়ের ডান হাতের কব্জিতে সুরক্ষার রাখি বেঁধে দীর্ঘায়ু ও সুখ-সমৃদ্ধি প্রার্থনা করেন, আর ভাইয়েরাও সারাজীবন বোনেদের পাশে থাকার এবং সুরক্ষার বচন দেন।

২০২৬ সালের রাখি পূর্ণিমার সঠিক দিনক্ষণ, শুভ মুহূর্ত, ভদ্রাকাল বা নিষিদ্ধ সময় এবং রাখি বাঁধার বিশেষ নিয়ম প্রকাশ করা হয়েছে। সঠিক সময়ে ও শাস্ত্রীয় নিয়ম মেনে কীভাবে বোনেরা ভাইকে রাখি বাঁধবেন, তা জেনে নিন।
রাখি বান্ধনের উৎসবে সঠিক শুভ মুহূর্তের খেয়াল রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বৈদিক পঞ্জিকা মতে, ভদ্রাকালের মতো অশুভ সময়ে রাখি বাঁধার নিয়ম নেই, কারণ শাস্ত্র মতে ভদ্রাকালে রাখি বাঁধলে ভাইয়ের জীবনে অমঙ্গল নেমে আসতে পারে।
রাখি পূর্ণিমা ২০২৬-এর শুভ দিনক্ষণ ও তিথি
শ্রাবণ মাসের পূর্ণিমা তিথিতে এই বছর রাখি উৎসব পালিত হতে চলেছে।
- শ্রাবণ পূর্ণিমা তিথি সূচনার সময়: ধর্মীয় তিথির সঠিক গণনা ও উদয়া তিথি মেনে সকাল থেকেই ভক্তেরা শুভ মুহূর্তে উদযাপিত করবেন এই বিশেষ উৎসব।
- ভদ্রাকালের সময়: রক্ষাবন্ধনের দিনে ভদ্রাকালের বিশেষ খেয়াল রাখা আবশ্যিক। শাস্ত্র অনুযায়ী, সূর্যোদয়ের পর যে নির্দিষ্ট সময়টুকু ভদ্রাকালের প্রভাব থাকবে, সেই সময়ে রাখি বাঁধা থেকে বিরত থাকা উচিত। ভদ্রাকাল সমাপ্ত হওয়ার পরই রাখির শুভ মুহূর্ত শুরু হয়।
রাখি বাঁধার সঠিক পূজাবিধি ও নিয়ম
রাখি বাঁধার সময় কিছু বিশেষ আচার মেনে চলা প্রথাগতভাবে শুভ বলে মনে করা হয়:
{{/usCountry}}রাখি বাঁধার সময় কিছু বিশেষ আচার মেনে চলা প্রথাগতভাবে শুভ বলে মনে করা হয়:
{{/usCountry}}১. পূজার থালি সাজানো: একটি শুভ থালিতে প্রদীপ, রলি বা সিঁদুর, অক্ষত (অখণ্ড চাল), চন্দন, সুস্বাদু মিষ্টি এবং রাখির সুতো সাজিয়ে নিন।
২. দিক নির্দেশ: রাখি বাঁধার সময় ভাইয়ের মুখ যেন পূর্ব বা উত্তর দিকে থাকে। ভাইয়ের মাথায় টুপি বা রুমাল জাতীয় বস্ত্র দিয়ে মাথা ঢেকে রাখা উচিত।
৩. তিলক ও অক্ষত: প্রথমে ভাইয়ের কপালে রলি ও চন্দনের শুভ তিলক লাগান এবং তার ওপর অক্ষত অর্থাৎ চাল অর্পণ করুন।
৪. রাখি বাঁধা ও আরতি: ভাইয়ের ডান হাতের কব্জিতে শুভ মন্ত্র জপ করে সুদৃশ্য রাখি বেঁধে দিন। এরপর থালির প্রদীপ দিয়ে ভাইয়ের আরতি করুন এবং মিষ্টি খাইয়ে মুখ মিষ্টি করান।
৫. শুভ মন্ত্র জপ: রাখি বাঁধার সময় এই পৌরাণিক মন্ত্রটি পাঠ করা অত্যন্ত শুভ গণ্য হয়—
“যেন বদ্ধো বলী রাজা দানবেন্দ্রো মহাবলঃ।
তেন ত্বামভিবধ্নামি রক্ষ মা চল মা চল।।”
রক্ষাবন্ধনের ধর্মীয় ও সামাজিক তাৎপর্য
পৌরাণিক কাহিনী মতে, দানবরাজ বলির পরম ভক্তিতে প্রসন্ন হয়ে ভগবান বিষ্ণু যখন পাতাল পুরীতে অবস্থান করছিলেন, তখন মাতা লক্ষ্মী শ্রাবণ পূর্ণিমায় রাজা বলিকে রাখি বেঁধে ভাই বানিয়েছিলেন এবং উপহার হিসেবে ভগবান শ্রী হরিকে ফিরিয়ে এনেছিলেন। সেই থেকে শ্রাবণ পূর্ণিমায় এই রক্ষাবন্ধন পালনের প্রথা শুরু হয়। এই উৎসব কেবল ভাই-বোনের স্নেহের বন্ধনই বাড়ায় না, বরং পরিবারে শান্তি ও ঐক্যের আবহাওয়া বজায় রাখতে সাহায্য করে।
রক্ষাবন্ধন কেবল সুতোর বন্ধন নয়, এটি হলো আত্মিক টান ও পবিত্র অঙ্গীকারের মেলবন্ধন। ২০২৬ সালের এই শুভ রাখি পূর্ণিমায় সঠিক মুহূর্ত মেনে ভাইকে রাখি বেঁধে এবং গুরুজনদের আশীর্বাদ নিয়ে এই বিশেষ দিনটিকে স্মরণীয় করে তুলুন।