শ্রাবণ মাসের শুভ পূর্ণিমা তিথিতে পালিত হওয়া রাখিবন্ধন হলো ভাই-বোনের পারস্পরিক স্নহ, বিশ্বাস ও সুরক্ষার অঙ্গীকারের অন্যতম প্রধান পবিত্র উৎসব। বৈদিক পঞ্জিকা অনুসারে শ্রাবণী পূর্ণিমার এই পুণ্য লগ্নে বোনেরা তাঁদের ভাইদের দীর্ঘায়ু, সুস্বাস্থ্য ও সমৃদ্ধি কামনা করে হাতে শুভ রাখি বেঁধে দেন। অপরদিকে ভাইয়েরাও বোনদের আজীবন আগলে রাখার সংকল্প নেন ও উপহার তুলে দেন।

আগামিকাল ২৮ আগস্ট ২০২৬, শুক্রবার দেশজুড়ে উদযাপিত হতে চলেছে এই উৎসব। তবে উৎসবে রাখি বাঁধার সময় বৈদিক তিথি, শুভ মুহূর্ত এবং বিশেষ করে ‘ভদ্রাকাল’ (Bhadra Kaal)-এর সময়সূচী মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি। শাস্ত্র মতে, ভদ্রাকালে কোনো মাঙ্গলিক কাজ বা রাখি বাঁধার প্রথা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। আগামীকাল রাখিবন্ধনে কোন সময়ে রাখি পরাবেন, কোন সময়টি বর্জন করবেন এবং কী কী জ্যোতিষীয় আচার পালন করলে পরিবারে সুখ-সমৃদ্ধি বজায় থাকবে—তা নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন নিচে তুলে ধরা হলো।
১. আগামিকাল কখন রাখি পরাবেন আর কখন পরাবেন না?
বৈদিক পঞ্জিকার হিসাব অনুযায়ী, শুভ মুহূর্তে রাখি পরালে ভাইয়ের ভাগ্যোন্নতি ঘটে এবং গ্রহদের শুভ বল বৃদ্ধি পায়।
কখন রাখি পরাবেন না (ভদ্রাকাল সময়সূচী): শাস্ত্র মতে, ভদ্রাকাল চলাকালীন ভুলেও রাখি বাঁধা উচিত নয়। পৌরাণিক কথা অনুযায়ী, লঙ্কাপতি রাবণকে তাঁর বোন ভদ্রাকালে রাখি বেঁধেছিলেন, যার ফলে রাবণের রাজ্য ও বংশ ধ্বংস হয়েছিল।
- ভদ্রার সময়সীমা: আগামিকাল ২৮ আগস্ট ২০২৬ সকাল থেকে দুপুর ০১:৩৫ মিনিট পর্যন্ত ভদ্রাকালের ছায়া থাকছে। তাই এই সময়ে রাখি পরানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
কখন রাখি পরাবেন (সেরা শুভ সময়): দুপুর ০১:৩৫ মিনিটে ভদ্রাকাল সমাপ্ত হওয়ার পরই শুভ মুহূর্ত শুরু হবে।
- অপরাহ্ণ কালের সেরা সময়: দুপুর ০১:৪৫ মিনিট থেকে বিকেল ০৪:২০ মিনিট পর্যন্ত। (এটি রাখি বাঁধার সবচেয়ে উপযুক্ত ও শ্রেষ্ঠ সময়)
- প্রদোষ কালের শুভ সময় (সন্ধ্যাবেলা): সন্ধ্যা ০৬:৫৫ মিনিট থেকে রাত ০৯:১০ মিনিট পর্যন্ত।
২. রাখিবন্ধনের দিন কোন কোন জ্যোতিষীয় আচার পালন করবেন?
{{/usCountry}}কখন রাখি পরাবেন (সেরা শুভ সময়): দুপুর ০১:৩৫ মিনিটে ভদ্রাকাল সমাপ্ত হওয়ার পরই শুভ মুহূর্ত শুরু হবে।
- অপরাহ্ণ কালের সেরা সময়: দুপুর ০১:৪৫ মিনিট থেকে বিকেল ০৪:২০ মিনিট পর্যন্ত। (এটি রাখি বাঁধার সবচেয়ে উপযুক্ত ও শ্রেষ্ঠ সময়)
- প্রদোষ কালের শুভ সময় (সন্ধ্যাবেলা): সন্ধ্যা ০৬:৫৫ মিনিট থেকে রাত ০৯:১০ মিনিট পর্যন্ত।
২. রাখিবন্ধনের দিন কোন কোন জ্যোতিষীয় আচার পালন করবেন?
{{/usCountry}}উৎসবে পূর্ণ শাস্ত্রীয় ও জ্যোতিষীয় ফল পেতে এই আচারগুলো নিয়ম মেনে পালন করা উচিত:
১. থালি সাজানো: একটি পবিত্র থালায় রেশমি রাখি, অক্ষত (অখণ্ড চাল), চন্দন, সিঁদুর, প্রদীপ এবং তাজা মিষ্টি রাখুন।
২. দিক নির্দেশ: রাখিবন্ধনের সময় ভাইয়ের মুখ পূর্ব বা উত্তর দিকে এবং বোনের মুখ পশ্চিম বা দক্ষিণ দিকে থাকা জ্যোতিষ মতে অত্যন্ত শুভ।
৩. তিলক ও অক্ষত নিবেদন: প্রথমে ভাইয়ের কপালে চন্দন ও সিঁদুরের তিলক লাগান এবং তার ওপর সামান্য অক্ষত (চাল) দিন। জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী, কপালে তিলক দিলে ষষ্ঠ চক্র বা আজ্ঞাচক্র জাগ্রত হয়, যা ভাইয়ের মনোযোগ ও আত্মবিশ্বাস বাড়ায়।
৪. ডান হাতে রাখি বাঁধা: ভাইয়ের সব সময় ডান হাতের কব্জিতে রাখি বাঁধা উচিত। ডান হাত শুভ কাজের প্রতিনিধিত্ব করে।
৫. আরতি ও মিষ্টি মুখ: প্রদীপ জ্বালিয়ে ভাইয়ের আরতি করুন এবং মিষ্টি দিয়ে মুখ মিষ্টি করান। এরপর ভাই তাঁর বোনকে সাধ্যমতো উপহার ও আশীর্বাদ বা ভালোবাসা দেবেন।
৩. কীভাবে পাবেন দেব-দেবী ও গ্রহরাজের শুভ ফল?
জ্যোতিষ মতে, রাখি পরানোর সময় কিছু বিশেষ নিয়ম মানলে জীবন থেকে গ্রহদোষ কেটে গিয়ে শুভ ফল প্রাপ্তি ঘটে:
- প্রথম রাখি ইষ্টদেবকে অর্পণ: ভাইয়ের হাতে রাখি বাঁধার আগে পূজার ঘরে শ্রী গণেশ, ভগবান শিব অথবা শ্রী হরি বিষ্ণুকে একটি রাখি নিবেদন করুন। এর ফলে ঘরে ধন-সম্পদ ও শান্তি বজায় থাকে।
- রাশির রং মেনে রাখি বা উপহার চয়ন: ভাই বা বোনের রাশি অনুযায়ী শুভ রঙের রাখি (যেমন—মেষের জন্য লাল, বৃষের জন্য সাদা/রূপালী, মিথুনের জন্য সবুজ, সিংহের জন্য হলুদ) নির্বাচন করলে মঙ্গলাচরণ ঘটে এবং গ্রহের শুভ প্রভাব বহুগুণ বাড়ে।
- কালো রং পরিহার: রাখিবন্ধনের দিন কালো রঙের রাখি বা কালো বস্ত্র ব্যবহার করা এড়িয়ে চলুন, কারণ এটি অশুভ শক্তির প্রতীক।
আগামীকাল ২৮ আগস্টের রাখিবন্ধন ভাই-বোনের জীবনে নিয়ে আসুক আনোন্দ ও পরম সুরক্ষা। শাস্ত্রীয় নিয়ম মেনে ভদ্রাকাল কাটলে দুপুর ১:৪৫-এর পর শুভ মুহূর্তে ভাইয়ের হাতে রাখি বেঁধে এই পবিত্র উৎসব উদযাপন করুন।