...
...
Next Story

সুগ্রীবের স্ত্রী ছিলেন রুমা, তাঁর কারণেই দুই ভাইয়ের যুদ্ধ হয়! রামায়ণের এই নারীর গল্প অনেকেই জানেন না

রামায়ণের কিষ্কিন্ধ্যা কাণ্ডে রুমার উল্লেখ পাওয়া যায়। তিনি ছিলেন বানররাজ সুগ্রীবের পরমাসুন্দরী এবং পতিব্রতা স্ত্রী। বালী ও সুগ্রীব অত্যন্ত স্নেহের সাথে রাজ্য পরিচালনা করলেও একটি ভুল বোঝাবুঝি তাঁদের জীবনকে তছনছ করে দেয়। আর সেই ঝড়ের কেন্দ্রে এসে পড়েন রুমা।

Published on: Feb 24, 2026, 11:02:29 IST
By
Prefer HTon Google
Advertisement

রামায়ণের বিশাল আখ্যানে আমরা সীতার হরণ এবং তাঁর উদ্ধারের কাহিনীকে কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে দেখি। কিন্তু এই মহাকাব্যের গভীরে এমন কিছু নারী চরিত্র রয়েছেন, যাঁদের আত্মত্যাগ এবং লাঞ্ছনা যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল। কিষ্কিন্ধ্যার রাজবধূ এবং সুগ্রীবের সহধর্মিণী রুমা তেমনই একজন স্বল্পালোচিত কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র। বালী ও সুগ্রীবের ভ্রাতৃঘাতী সংঘর্ষের মূলে কেবল রাজ্যলাভ ছিল না, বরং রুমার সম্মান রক্ষা এবং অধিকার পুনরুদ্ধারের বিষয়টিও ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে ছিল।

সুগ্রীবের স্ত্রী ছিলেন রুমা, তাঁর কারণেই দুই ভাইয়ের যুদ্ধ হয়! রামায়ণের এই নারীর গল্প অনেকেই জানেন না
সুগ্রীবের স্ত্রী ছিলেন রুমা, তাঁর কারণেই দুই ভাইয়ের যুদ্ধ হয়! রামায়ণের এই নারীর গল্প অনেকেই জানেন না

রামায়ণের কিষ্কিন্ধ্যা কাণ্ডে রুমার উল্লেখ পাওয়া যায়। তিনি ছিলেন বানররাজ সুগ্রীবের পরমাসুন্দরী এবং পতিব্রতা স্ত্রী। তৎকালীন প্রথা অনুযায়ী বালী ও সুগ্রীব অত্যন্ত স্নেহের সাথে রাজ্য পরিচালনা করলেও একটি ভুল বোঝাবুঝি তাঁদের জীবনকে তছনছ করে দেয়। আর সেই ঝড়ের কেন্দ্রে এসে পড়েন রুমা।

রুমার বন্দিদশা ও বালীর অধর্ম

কাহিনীটি শুরু হয় যখন মায়াবী নামক এক অসুরের সাথে বালীর যুদ্ধ বাধে। বালী অসুরকে তাড়া করে একটি গুহার ভেতর প্রবেশ করেন এবং সুগ্রীবকে বাইরে অপেক্ষা করতে বলেন। দীর্ঘ সময় পার হওয়ার পর গুহা থেকে রক্ত নির্গত হতে দেখে সুগ্রীব ভাবেন বালী নিহত হয়েছেন। তিনি গুহার মুখ বন্ধ করে কিষ্কিন্ধ্যায় ফিরে আসেন এবং মন্ত্রীদের অনুরোধে সিংহাসনে বসেন।

কিছুকাল পর বালী ফিরে এসে দেখেন সুগ্রীব রাজা হয়েছেন। ক্রোধোন্মত্ত বালী সুগ্রীবের কোনো যুক্তি না শুনেই তাঁকে রাজ্য থেকে বিতাড়িত করেন। কিন্তু বালীর অন্যায় এখানেই শেষ হয়নি। তিনি শাস্ত্র ও নীতি বিরুদ্ধভাবে অনুজ সুগ্রীবের জীবিতাবস্থায় তাঁর স্ত্রী রুমাকে জোরপূর্বক কেড়ে নেন এবং নিজের অন্তঃপুরে বন্দি করেন। ভারতীয় শাস্ত্র অনুযায়ী, ছোট ভাইয়ের স্ত্রী কন্যার সমান। বালীর এই কাজ ছিল চরম 'অধর্ম'।

সুগ্রীবের হাহাকার ও শ্রীরামের আগমন

রাম ও সুগ্রীবের মিত্রতার পর শুরু হয় সেই ঐতিহাসিক দ্বৈরথ। শ্রীরামের শরাঘাতে বালীর পতন ঘটে। মৃত্যুর আগে বালী তাঁর ভুল বুঝতে পারেন। বালীর মৃত্যুর পর সুগ্রীব কিষ্কিন্ধ্যার রাজা হিসেবে অভিষিক্ত হন। এর পরেই দীর্ঘ বন্দিদশা থেকে মুক্তি পান রুমা। সুগ্রীবের প্রধানা মহিষী হিসেবে তিনি পুনরায় সসম্মানে রাজপ্রাসাদে প্রবেশ করেন। রামায়ণের পরবর্তী অংশে দেখা যায়, সুগ্রীব যখন সীতা অন্বেষণে রামকে সাহায্য করছিলেন, তখন রুমা এবং তারা (বালীর স্ত্রী) উভয়েই প্রাসাদে থেকে সুগ্রীবকে পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করতেন।

কেন রুমার কাহিনি গুরুত্বপূর্ণ?

রুমার চরিত্রটি আমাদের শেখায় যে, ক্ষমতা বা বীরত্ব যখন নীতি হারায় (যেমনটা বালীর ক্ষেত্রে হয়েছিল), তখন তা ধ্বংস অনিবার্য করে তোলে। সুগ্রীবের প্রতি রুমার আনুগত্য এবং সেই কঠিন সময়েও নিজের মর্যাদা ধরে রাখা তাঁকে রামায়ণের অন্যতম আদর্শ নারী চরিত্রে উন্নীত করেছে। যদিও মন্দোদরী বা তারার মতো তাঁর কথা খুব বেশি চর্চিত হয় না, তবুও রুমার অধিকার পুনরুদ্ধারই ছিল সুগ্রীবের জীবনে রামের আশীর্বাদ লাভের অন্যতম কারণ।

 
ABOUT THE AUTHOR
Suman Roy

সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe