...
...
Next Story

জটায়ুর কথা তো সবাই জানেন, কিন্তু তাঁর দাদা সম্পাতির কাহিনিও দুর্দান্ত! সেই কথা অনেকেই জানেন না

জটায়ুর জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা সম্পাতির করুণ অথচ বীরত্বপূর্ণ জীবনগাথা অনেকেই জানেন না। তাঁর আত্মত্যাগ ও পুনর্জন্ম, সূর্যতাপে ডানা হারিয়ে যেভাবে রামের সহায় হয়েছিলেন জটায়ুর বড় ভাই, সেই কাহিনি এখান থেকে জেনে নিন।

Published on: Feb 25, 2026, 10:26:13 IST
By
Prefer HTon Google
Advertisement

রামায়ণের এক বীরত্বগাথা বললেই আমাদের চোখে ভেসে ওঠে জটায়ুর ছবি, যিনি সীতাকে উদ্ধারের প্রচেষ্টায় রাবণের সঙ্গে যুদ্ধ করে প্রাণ বিসর্জন দিয়েছিলেন। কিন্তু জটায়ুর এই ত্যাগের নেপথ্যে এক মহান বড় ভাইয়ের আশীর্বাদ ও আত্মত্যাগের কাহিনী অধিকাংশ মানুষের কাছেই অজানা। তিনি হলেন সম্পাতি। যিনি কেবল নিজের ডানা হারিয়ে জটায়ুকে রক্ষা করেননি, বরং পরবর্তীকালে রামভক্ত হনুমানকে সীতার হদিশ দিয়ে লঙ্কাকান্ডে এক ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছিলেন।

জটায়ুর কথা তো সবাই জানেন, কিন্তু তাঁর দাদা সম্পাতির কাহিনিও দুর্দান্ত! সেই কথা অনেকেই জানেন না
জটায়ুর কথা তো সবাই জানেন, কিন্তু তাঁর দাদা সম্পাতির কাহিনিও দুর্দান্ত! সেই কথা অনেকেই জানেন না

জটায়ুর জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা সম্পাতির করুণ অথচ বীরত্বপূর্ণ জীবনগাথা অনেকেই জানেন না। তাঁর আত্মত্যাগ ও পুনর্জন্ম, সূর্যতাপে ডানা হারিয়ে যেভাবে রামের সহায় হয়েছিলেন জটায়ুর বড় ভাই, সেই কাহিনি এখান থেকে জেনে নিন।

সম্পাতি ও জটায়ু ছিলেন মহর্ষি কশ্যপ ও বিনতার পুত্র (কারও মতে অরুণের পুত্র)। পক্ষীরাজ সম্পাতি ছিলেন অসীম শক্তিশালী এবং তাঁর দৃষ্টি ছিল বহুদূর পর্যন্ত বিস্তৃত। বাল্যকালে দুই ভাই নিজেদের মধ্যে শক্তির প্রতিযোগিতায় মেতে উঠেছিলেন। কে কত উঁচুতে উড়তে পারে, তা দেখতে দেখতে তাঁরা একদিন আকাশের সর্বোচ্চ সীমায় পৌঁছে যান।

ভাইয়ের জন্য নিজের ডানা বিসর্জন

উড়তে উড়তে তাঁরা সূর্যের খুব কাছে চলে গিয়েছিলেন। সূর্যের প্রচণ্ড উত্তাপে কনিষ্ঠ ভ্রাতা জটায়ুর ডানা পুড়ে যাওয়ার উপক্রম হয়। ছোট ভাইকে আসন্ন মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচাতে সম্পাতি নিজের বিশাল ডানা দুটি মেলে ধরেন জটায়ুর ওপর। ফলস্বরূপ, জটায়ু রক্ষা পেলেও সূর্যের দহনে সম্পাতির দুই ডানা পুরোপুরি পুড়ে যায়। ডানা হারিয়ে তিনি দক্ষিণ ভারতের মহেন্দ্র পর্বতের ওপর আছড়ে পড়েন। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে তিনি সেখানে নিঃসঙ্গ ও অক্ষম অবস্থায় পড়ে ছিলেন। তাঁর বীরত্ব ও অহংকার সূর্যতাপে বিলীন হয়ে গেলেও রয়ে গিয়েছিল তাঁর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি এবং ধৈর্য।

সীতা অন্বেষণে হনুমানের সাথে সাক্ষাৎ

ডানা না থাকলেও সম্পাতির দিব্য দৃষ্টি ছিল অটুট। তিনি পর্বত শিখরে বসে সমুদ্রের ওপারে ১০০ যোজন দূরে লঙ্কা দ্বীপে বন্দি সীতাকে দেখতে পান। তিনিই প্রথম হনুমানদের নিশ্চিত করেন যে, সীতা রাবণের অশোক বনে জীবিত আছেন। সম্পাতি বলেছিলেন, "আমি আমার এই দূরদৃষ্টি দিয়ে দেখতে পাচ্ছি, রাবণ সীতাকে নিয়ে লঙ্কায় অবস্থান করছে। তোমরা সমুদ্র লঙ্ঘন করলেই তাঁর দেখা পাবে।" সম্পাতির এই তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই হনুমান সমুদ্র পাড়ি দেওয়ার সাহস সঞ্চয় করেন।

ডানা ফিরে পাওয়া ও মুক্তি

কথিত আছে, মহর্ষি নিশাকর সম্পাতিকে অভিশাপমুক্ত হওয়ার পথ বলে দিয়েছিলেন। ঋষি বলেছিলেন, যেদিন তিনি শ্রীরামের দূতদের সীতার খবর দিয়ে সাহায্য করবেন, সেদিনই তাঁর নতুন ডানা গজাবে। যেই মুহূর্তে সম্পাতি হনুমানদের সীতার সংবাদ দিলেন, অমনি অলৌকিকভাবে তাঁর দগ্ধ ডানা দুটি পুনরায় গজিয়ে ওঠে। তিনি ফিরে পান তাঁর পুরনো তেজ এবং আকাশপথে উড়ে গিয়ে শ্রীরামের জয়গান করেন।

সম্পাতি চরিত্রটি আমাদের শেখায় যে, শারীরিক অক্ষমতা থাকলেও মনের সাহস ও পরোপকারের ইচ্ছা থাকলে বড় লক্ষ্য পূরণ করা সম্ভব। তিনি নিজের ডানা হারিয়ে জটায়ুকে বাঁচিয়ে ভ্রাতৃপ্রেমের পরিচয় দিয়েছিলেন এবং বৃদ্ধ বয়সে রামের কার্যে সহায়তা করে ধর্মের পথে নিজেকে সমর্পণ করেছিলেন। সম্পাতি না থাকলে হয়তো হনুমানের লঙ্কা বিজয় আরও কঠিন হয়ে পড়ত।

 
ABOUT THE AUTHOR
Suman Roy

সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe