...
...
Next Story

Saturn mount: হাতের তালুতেই লুকিয়ে শনিদেবের কৃপা! মধ্যমার নিচে এই চিহ্ন থাকলে কী হয়? জানুন শনি পর্বতের রহস্য

Shani parvat in palmistry future: সনাতন ধর্মে শনিদেবকে যেমন কর্মফলের দেবতা ও পরম ন্যায়বিচারক মনে করা হয়, হস্তরেখাশাস্ত্রেও তেমনই এই শনি পর্বত মানুষের কর্মজীবন, শৃঙ্খলা, ভাগ্য এবং আধ্যাত্মিক চেতনার দিকটি নিয়ন্ত্রণ করে।

Published on: Jul 2, 2026, 18:18:58 IST
Advertisement

Fate line joining saturn mount: হস্তরেখাশাস্ত্রে (Palmistry) মানুষের হাতের তালু এবং সেখানে থাকা বিভিন্ন গ্রহের পর্বতগুলোর অবস্থান বিশ্লেষণ করে তাঁর ভাগ্য, স্বভাব ও ভবিষ্যৎ জীবনের একটি নিখুঁত চিত্র তুলে ধরা যায়। আমাদের হাতের প্রতিটি আঙুলের নিচে এক একটি সুনির্দিষ্ট গ্রহের অবস্থান রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং রহস্যময় একটি স্থান হলো ‘শনি পর্বত’ (Saturn Mount বা Shani Parvat)। হাতের মধ্যমা আঙুলের (Middle Finger) ঠিক নিচে এই পর্বতের অবস্থান।

হাতের তালুতেই লুকিয়ে শনিদেবের কৃপা! মধ্যমার নিচে এই চিহ্ন থাকলে কী হয়?
হাতের তালুতেই লুকিয়ে শনিদেবের কৃপা! মধ্যমার নিচে এই চিহ্ন থাকলে কী হয়?

সনাতন ধর্মে শনিদেবকে যেমন কর্মফলের দেবতা ও পরম ন্যায়বিচারক মনে করা হয়, হস্তরেখাশাস্ত্রেও তেমনই এই শনি পর্বত মানুষের কর্মজীবন, শৃঙ্খলা, ভাগ্য এবং আধ্যাত্মিক চেতনার দিকটি নিয়ন্ত্রণ করে। হাতের তালুতে শনি পর্বতের বিভিন্ন অবস্থা মানুষের ব্যক্তিত্ব ও ভবিষ্যৎ জীবনে কী ধরণের প্রভাব ফেলে—তা নিয়ে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন নিচে দেওয়া হলো।

হস্তরেখাবিদদের মতে, হাতের তালুর শনি পর্বতটি সবার হাতে একরকম থাকে না। কারও হাতে এটি খুব উন্নত বা উঁচু হয়, কারও হাতে সমতল, আবার কারও হাতে এটি অতিরিক্ত দেবে থাকে। এই পর্বতের গঠনের ওপর ভিত্তি করেই মানুষের ভাগ্য নির্ধারিত হয়।

১. শনি পর্বত উন্নত বা সামান্য উঁচু হলে (Developed Saturn Mount)

যদি কারও হাতের তালুতে শনি পর্বতটি পরিষ্কার, স্বাভাবিকভাবে উন্নত এবং সুন্দর লালচে বা গোলাপী আভাযুক্ত হয়, তবে তাকে অত্যন্ত শুভ লক্ষণ বলে মনে করা হয়।

  • ব্যক্তিত্ব: এমন জাতকরা অত্যন্ত দূরদর্শী, গম্ভীর, শৃঙ্খলাপ্রিয় এবং কঠোর পরিশ্রমী হন। এরা যেকোনো কাজ খুব ভেবেচিন্তে এবং দায়িত্ব সহকারে করেন। অন্যের কথায় প্রভাবিত না হয়ে এরা নিজেদের বুদ্ধিতে চলতে ভালোবাসেন।
  • ভবিষ্যৎ জীবন: এদের জীবনে ভাগ্যের পূর্ণ সমর্থন মেলে। বিশেষ করে ইঞ্জিনিয়ারিং, আইন, গবেষণা, জ্যোতিষশাস্ত্র বা বড় কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনার কাজে এরা বিপুল সাফল্য পান। সমাজে এরা অত্যন্ত সম্মানিত এবং বিশ্বস্ত ব্যক্তি হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।

যদি হাতের তালুর এই অংশটি অতিরিক্ত দেবে থাকে বা গর্তের মতো দেখায়, তবে হস্তরেখাশাস্ত্র অনুযায়ী জাতকের জীবনে শুক্র বা শনির নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করে।

  • ব্যক্তিত্ব ও জীবন: এমন জাতকরা জীবনে খুব একাকীত্ব বা অবসাদে ভুগতে পারেন। এদের তীব্র মানসিক অস্থিরতা থাকে এবং যেকোনো কাজ মাঝপথে ছেড়ে দেওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। কঠোর পরিশ্রম করা সত্ত্বেও এরা অনেক সময় সঠিক সময়ে সঠিক ফল বা স্বীকৃতি পান না, যার ফলে এদের মনে এক ধরণের ক্ষোভ তৈরি হয়।

৩. শনি পর্বত অতিরিক্ত উঁচু বা বিকশিত হলে (Overdeveloped Saturn Mount)

যেকোনো জিনিসের অতিরিক্ত অবস্থাই জ্যোতিষে অশুভ। শনি পর্বত যদি অস্বাভাবিক রকমের উঁচু বা ফোলা দেখায়, তবে জাতকের স্বভাব কিছুটা জটিল হয়ে পড়ে। এরা অত্যন্ত অন্তর্মুখী (Introvert) এবং সমাজবিমুখ হয়ে উঠতে পারেন। অনেক সময় এদের মধ্যে একগুঁয়েমি, সন্দেহপ্রবণতা এবং অতিরিক্ত স্বার্থপর ভাব দেখা দেয়, যা এদের পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্কে ফাটল ধরায়।

৪. শনি পর্বতে বিভিন্ন চিহ্নের অলৌকিক রহস্য

শনি পর্বতের ওপর থাকা রেখা বা বিভিন্ন জ্যামিতিক চিহ্ন জাতকের ভাগ্যকে আরও নিখুঁতভাবে প্রকাশ করে:

  • ভাগ্যরেখার সংযোগ: যদি কোনো স্পষ্ট ভাগ্যরেখা (Fate Line) হাতের নিচের অংশ থেকে উঠে সোজা শনি পর্বতে গিয়ে পৌঁছায়, তবে সেই ব্যক্তি অত্যন্ত ভাগ্যবান হন। এরা শূন্য থেকে শুরু করেও জীবনের শেষভাগে বিপুল ধন-সম্পদের মালিক হন।
  • ত্রিশূল চিহ্ন (Trident): শনি পর্বতে ত্রিশূল বা তিনমুখী রেখার চিহ্ন থাকা অত্যন্ত দুর্লভ এবং পুণ্যময়। এমন ব্যক্তিরা ঈশ্বরের বিশেষ কৃপা লাভ করেন। এদের ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় (Sixth Sense) খুব তীব্র হয় এবং এরা আধ্যাত্মিক ক্ষেত্রে বা জনকল্যাণমূলক কাজে বিশ্বজোড়া খ্যাতি পান।
  • ক্রস বা তিল চিহ্ন (Cross or Mole): এই পর্বতের ওপর ক্রস বা কালো তিল থাকা সাধারণত শুভ মনে করা হয় না। এটি কর্মক্ষেত্রে হঠাৎ কোনো বড় বাধা, দুর্ঘটনা বা আর্থিক ক্ষতির সঙ্কেত দেয়।

হস্তরেখাশাস্ত্র আমাদের জীবনের একটি নির্দেশিকা মাত্র। শনি পর্বত যদি আপনার হাতে দুর্বলও থাকে, তবে সততা বজায় রেখে, অসহায় মানুষকে সাহায্য করে এবং নিয়মানুবর্তিতার মাধ্যমে শনিদেবের নেতিবাচক প্রভাবকে অনেকাংশেই দূর করা সম্ভব। কারণ শনিদেব সর্বদা মানুষের কর্ম দেখেই তাঁর ভাগ্য নির্ধারণ করেন।

 
ABOUT THE AUTHOR
Suman Roy

সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe