...
...
Next Story

Ayushman yog: শ্রাবণ নক্ষত্র ও আয়ুষ্মান যোগে শুরু পবিত্র শ্রাবণ মাস! জানুন শিব অভিষেকের দুর্লভ সুফল ও বিশেষ মন্ত্র

Sawan 2026 start date Shravan Nakshatra: শ্রাবণ মাস হল মহাদেবকে প্রসন্ন করার সর্বশ্রেষ্ঠ সময়। এই সময়ে বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সমস্ত কল্যাণকারী শক্তি শিবলিঙ্গে কেন্দ্রীভূত হয়। সামান্য জল বা একটি বেলপাতা দিয়েও ভোলেবাবাকে সন্তুষ্ট করা সম্ভব।

Published on: Jul 29, 2026, 13:54:52 IST
Advertisement

Shiv abhishek benefits: সনাতন ধর্ম ও বৈদিক সংস্কৃতিতে শ্রাবণ মাস বা সাওয়ান (Sawan) হলো দেবাদিদেব মহাদেবের আরাধনার সবচেয়ে পবিত্র ও মহিমান্বিত সময়। এই পুরো মাসজুড়ে ভক্তরা ভক্তিভরে শিবলিঙ্গে জলাভিষেক করেন, শিব চালিশা পাঠ করেন এবং সোমবারে উপবাস রেখে মহাদেবের অপার কৃপা প্রার্থনা করেন। পঞ্জিকা মতে, শ্রাবণ নক্ষত্র এবং শুভ যোগের মেলবন্ধনে এই পবিত্র মাসের সূচনা সনাতনী সংস্কৃতির এক পরম পুণ্যময় অধ্যায়।

শ্রাবণ নক্ষত্র ও আয়ুষ্মান যোগে শুরু পবিত্র শ্রাবণ মাস! জানুন শিব অভিষেকের সুফল
শ্রাবণ নক্ষত্র ও আয়ুষ্মান যোগে শুরু পবিত্র শ্রাবণ মাস! জানুন শিব অভিষেকের সুফল

২০২৬ সালের পবিত্র শ্রাবণ মাসের সূচনালগ্নে শ্রাবণ নক্ষত্র এবং আয়ুষ্মান যোগের (Ayushman Yog) মতো এক অত্যন্ত দুর্লভ ও শুভ যোগের শুভ সংযোগ ঘটেছে। শাস্ত্র মতে, এই শুভ মুহূর্তে শিবলিঙ্গে অভিষেক এবং মহাদেবের পবিত্র মন্ত্র জপ করলে কুণ্ডলীর সমস্ত গ্রহদোষ কেটে যায় এবং জীবনে রোগমুক্তি, দীর্ঘায়ু ও সুখ-সমৃদ্ধির নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়। শ্রাবণ মাসের মাহাত্ম্য, শিব অভিষেকের নিয়ম ও অলৌকিক সুফল জেনে নিন।

শাস্ত্রীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, শ্রাবণ মাস হলো মহাদেবকে প্রসন্ন করার সর্বশ্রেষ্ঠ সময়। এই সময়ে বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সমস্ত কল্যাণকারী শক্তি শিবলিঙ্গে কেন্দ্রীভূত হয়। ফলে সামান্য জল বা একটি বেলপাতা দিয়েও ভোলেবাবাকে সন্তুষ্ট করা সম্ভব।

শ্রাবণ মাসের শুভ যোগ ও তিথির মাহাত্ম্য

শ্রাবণ মাসের শুভারম্ভে আয়ুষ্মান যোগ এবং শ্রাবণ নক্ষত্রের উপস্থিতি এই বছরের সাওয়ানকে অনন্য মর্যাদা প্রদান করেছে।

  • আয়ুষ্মান যোগের প্রভাব: আয়ুষ্মান যোগের নামানুসারেই বোঝা যায় এটি দীর্ঘায়ু, ভালো স্বাস্থ্য এবং জীবনের রোগ-ব্যাধি দূর করার মহৌষধ হিসেবে কাজ করে। এই যোগে শিব পূজা করলে অকাল মৃত্যুর ভয় কেটে যায়।
  • শ্রাবণ নক্ষত্র: শ্রাবণ নক্ষত্রের অধিপতি স্বয়ং ভগবান শ্রী হরি বিষ্ণু। ফলে এই দিনে শিব ও বিষ্ণুর যৌথ রূপের কৃপা পাওয়া যায়, যা ভক্তের পরিবারে অনাবিল শান্তি ও সমৃদ্ধি বয়ে আনে।

শুভ যোগে শিব অভিষেকের নিয়ম ও অলৌকিক সুফল

১. গঙ্গাজল ও কাঁচা দুধ দিয়ে অভিষেক: তামার বা রূপোর পাত্রে গঙ্গাজল, কাঁচা দুধ এবং সামান্য মিছরি মিশিয়ে শিবলিঙ্গে অর্পণ করলে মানসিক অস্থিরতা দূর হয় এবং পারিবারিক সুখ বৃদ্ধি পায়।

২. কালো তিল ও অক্ষত (চাল): শিবলিঙ্গে কাঁচা দুধের সাথে সামান্য কালো তিল মিশিয়ে অভিষেক করলে কুণ্ডলীর রাহু-কেতু এবং শনির অশুভ দশা কেটে যায়। অখণ্ড অক্ষত বা না-ভাঙা চাল অর্পণ করলে আর্থিক অনটন নিমেষে দূর হয়।

৩. বেলপাতা ও ধুতরো অর্পণ: ১টি বা ১০৮টি ত্রিপত্র বেলপাতায় চন্দনের ফোঁটা দিয়ে ‘ওঁ নমঃ শিবায়’ লিখে শিবলিঙ্গে অর্পণ করলে মহাদেব পরম প্রীত হন এবং ভক্তের দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত মনোবাসনা পূরণ করেন।

জপ করুন মহাদেবের এই সিদ্ধ মন্ত্রসমূহ

শ্রাবণ মাসে শিব অভিষেকের সময়ে বা প্রদীপ জ্বেলে বসার পর নির্দিষ্ট কিছু শিব মন্ত্র জপ করা অত্যন্ত ফলদায়ক:

  • মূল পঞ্জাক্ষরী মন্ত্র: “ওঁ নমঃ শিবায়” (Om Namah Shivaya) — দিনে অন্তত ১০৮ বার এই মন্ত্র জপ করলে মন শান্ত হয়।
  • রোগমুক্তি ও আয়ু বৃদ্ধির জন্য মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র:

“ওঁ ত্র্যম্বকং যজামহে সুগন্ধিং পুষ্টিবর্ধনম্।।

উর্বারুকমিব বন্ধনান্ মৃত্যোর্মুক্ষীয় মাঽমৃতাৎ।।”

দরকারি পরামর্শ

পবিত্র শ্রাবণ মাস হলো নিজেকে আধ্যাত্মিকভাবে পরিশুদ্ধ করার এক মহাসুযোগ। শ্রাবণ নক্ষত্র ও আয়ুষ্মান যোগের এই পরম শুভ সময়ে ভক্তিভরে ভোলেবাবার আরাধনা করুন, শিবলিঙ্গে জল ঢালুন এবং মহাদেবের অপার আশীর্বাদে জীবনকে সাফল্য ও পরম শান্তিতে ভরিয়ে তুলুন।

 
ABOUT THE AUTHOR
Suman Roy

সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe