...
...
Next Story

পুজোর আগেই উত্তরা ভাদ্রপদ নক্ষত্রে শনির প্রবেশ! শনিদেবের শুভ নক্ষত্র সঞ্চারে কপাল খুলবে ৩ রাশির, বাড়বে টাকা

আগামী ৯ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে শনিদেব উত্তরা ভাদ্রপদ নক্ষত্রে (Uttra Bhadrapada Nakshatra) সঞ্চার করতে চলেছেন। উত্তর ভাদ্রপদ হলো শনিদেবের নিজস্ব নক্ষত্র, যা স্থিতিশীলতা, বৈরাগ্য, প্রজ্ঞা, গভীর চিন্তা এবং সুদূরপ্রসারী সাফল্যের প্রতীক।

Published on: Sep 15, 2026, 09:56:26 IST
Advertisement

বৈদিক জ্যোতিষশাস্ত্রে শনিদেবকে কর্মফলদাতা, বিচারক এবং সবচেয়ে প্রভাবশালি গ্রহ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। শনিদেব অত্যন্ত ধীর গতিতে পথ চলেন এবং তিনি যেভাবে রাশি পরিবর্তন করেন, ঠিক তেমনই তাঁর নক্ষত্র পরিবর্তনও মানবজীবনের ওপর দীর্ঘমেয়াদী এবং অত্যন্ত গভীর প্রভাব ফেলে। জ্যোতিষশাস্ত্রে শনির স্বনক্ষত্র বা মিত্র গ্রহের নক্ষত্রে অবস্থান বিশেষ অর্থ বহন করে।

পুজোর আগেই উত্তরা ভাদ্রপদ নক্ষত্রে শনিদেবের প্রবেশ! কপাল খুলবে ৩ রাশির
পুজোর আগেই উত্তরা ভাদ্রপদ নক্ষত্রে শনিদেবের প্রবেশ! কপাল খুলবে ৩ রাশির

বৈদিক পঞ্জিকা ও জ্যোতিষ শাস্ত্রীয় গণনা অনুযায়ী, আগামী ৯ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে শনিদেব উত্তরা ভাদ্রপদ নক্ষত্রে (Uttra Bhadrapada Nakshatra) সঞ্চার করতে চলেছেন। উত্তর ভাদ্রপদ হলো শনিদেবের নিজস্ব নক্ষত্র, যা স্থিতিশীলতা, বৈরাগ্য, প্রজ্ঞা, গভীর চিন্তা এবং সুদূরপ্রসারী সাফল্যের প্রতীক। নিজ নক্ষত্রে শনিদেবের এই গমন নির্দিষ্ট ৩টি রাশির জাতক-জাতিকাদের জন্য চরম ভাগ্যোদয়, থমকে থাকা কাজের মীমাংসা এবং কেরিয়ারে বিপুল অগ্রগতির সুবর্ণ সুযোগ তৈরি করবে। বিশেষ করে সিংহ, বৃশ্চিক ও কুম্ভ রাশির জাতক-জাতিকারা ৯ অক্টোবরের পর থেকে শনিদেবের পরম কৃপায় ভাগ্যের পূর্ণ সঙ্গ পাবেন। উত্তরা ভাদ্রপদ নক্ষত্রে শনির এই সঞ্চারে কোন ৩ রাশির জীবনে সোনালী অধ্যায় শুরু হতে চলেছে—জেনে নিন।

১. বৈদিক জ্যোতিষশাস্ত্রে উত্তরা ভাদ্রপদ নক্ষত্রে শনি সঞ্চারের বিশেষ গুরুত্ব

জ্যোতিষশাস্ত্রে শনিদেব যখন নিজের নক্ষত্র উত্তরা ভাদ্রপদে প্রবেশ করেন, তখন তাঁর অশুভ বা নিষ্ঠুর প্রভাব বহুগুণ হ্রাস পায় এবং শুভ ফল দেওয়ার ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়:

  • স্থায়িত্ব ও দূরদর্শী সিদ্ধান্ত: এই নক্ষত্র গোচরের ফলে জাতক আবেগ সরিয়ে রেখে সুচিন্তিত ও দীর্ঘমেয়াদী সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হন। প্রপার্টি, ব্যাঙ্কিং, প্রযুক্তি, আইন ও গবেষণা খাতের সাথে যুক্ত ব্যক্তিরা সুদূরপ্রসারী সাফল্য অর্জন করেন।
  • অমীমাংসিত কাজের নিষ্পত্তি ও ধনযোগ: দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা প্রপার্টির মামলা, আইনি ঝামেলা বা সুপ্ত থাকা বকেয়া টাকা পাওয়ার সুবর্ণ পথ খুলে যায়।

২. শনির নক্ষত্র গমনে ভাগ্যের বন্ধ দুয়ার খুলবে যে ৩ রাশির

খ) বৃশ্চিক রাশি (Scorpio): বৃশ্চিক রাশির জাতক-জাতিকাদের জন্য শনির নিজ নক্ষত্রে অবস্থান কেরিয়ার ও আর্থিক দিক থেকে অত্যন্ত শুভ ফলদায়ক হতে চলেছে। স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বা নতুন বাড়ি-গাড়ি কেনার পরিকল্পনা বাস্তবে রূপ নিতে পারে। শেয়ার বাজার বা পুরোনো বিনিয়োগ থেকে অপ্রত্যাশিত রিটার্ন মিলতে পারে। পরিবারে দীর্ঘদিনের মানসিক দুশ্চিন্তা কেটে গিয়ে শান্তি বজায় থাকবে।

গ) কুম্ভ রাশি (Aquarius): কুম্ভ রাশির অধিপতি গ্রহ স্বয়ং শনিদেব। ফলে নিজ নক্ষত্র উত্তরা ভাদ্রপদে শনির প্রবেশ কুম্ভ রাশির জাতক-জাতিকাদের জন্য বরদানস্বরূপ প্রমাণিত হবে। আয়ের একাধিক নতুন উৎস খুলে যাবে, যা আপনার জমানো অর্থের পরিমাণ বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। আইটি, মিডিয়া, ওকালতি বা স্বাধীন ব্যবসার সাথে যুক্ত প্রার্থীরা নতুন বড় প্রজেক্ট পাবেন। সমাজে আপনার মান-সম্মান ও প্রভাব বৃদ্ধি পাবে।

৩. শনিদেবের পূর্ণ কৃপা ও শুভ ফল লাভের সহজ জ্যোতিষীয় প্রতিকার

উত্তরা ভাদ্রপদ নক্ষত্রে শনি সঞ্চারের শতভাগ শুভ সুফল লাভ করতে এবং শনিদেবের কোপ শান্ত রাখতে কিছু সহজ শাস্ত্রীয় নিয়ম পালন করা যেতে পারে:

  • অশ্বত্থ গাছে সর্ষের তেলের প্রদীপ: প্রতি শনিবার সন্ধ্যায় অশ্বত্থ গাছের নিচে সর্ষের তেলের প্রদীপ জ্বালান এবং শনি মন্দিরে সর্ষের তেল ও কালো তিল অর্পণ করুন।
  • শনি বীজ মন্ত্র জপ: প্রতিদিন সকালে বা সন্ধ্যায় স্নানের পর অন্তত ১০৮ বার 'ওঁ শং শনৈশ্চরায় নমঃ' মন্ত্র জপ করা অত্যন্ত কল্যাণকর।
  • দুঃস্থদের সাহায্য ও দান: শনিবার অসচ্ছল মানুষদের কালো কম্বল, জুতো বা অন্ন দান করলে শনিদেব পরম প্রসন্ন হন।

৯ অক্টোবর ২০২৬-এ শনিদেবের স্বনক্ষত্র উত্তরা ভাদ্রপদে এই সঞ্চার সিংহ, বৃশ্চিক ও কুম্ভ রাশির জাতক-জাতিকাদের জন্য অর্থ, স্থায়িত্ব ও কেরিয়ারে উচ্চ প্রগতির এক ঐতিহাসিক সুবর্ণ সুযোগ নিয়ে এসেছে। সৎ পথ ও সঠিক কর্মপরিকল্পনার সাথে এগিয়ে চললে এই সময়টি আপনার জীবনে শুভ পরিবর্তন সুনিশ্চিত করবে।

 
ABOUT THE AUTHOR
Suman Roy

সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।

SHARE THIS ARTICLE ON
Notifications

Get breaking alerts directly from the newsroom

Notifications are on!You'll be notified when news breaks