...
...
Next Story

সামনেই শনির মহামার্গী চাল! বছর শেষে মীন রাশিতে সোজা চালে ঘুরে ৪ রাশির গোল্ডেন টাইম আনবেন তিনি

আগামী ১১ ডিসেম্বর ২০২৬ তারিখে মীন রাশিতে শনিদেব তাঁর বক্রি চাল শেষ করে মার্গী বা সোজা চালে যাত্রা শুরু করবেন। জ্যোতিষ মতে, শনিদেব মার্গী হওয়ার সাথে সাথেই বিভিন্ন রাশির ওপর থেকে শুভ কাজের বাধা কেটে যাবে।

Published on: Sep 1, 2026, 14:03:43 IST
Advertisement

বৈদিক জ্যোতিষশাস্ত্রে শনিদেবকে কর্মফলদাতা, বিচারক এবং অত্যন্ত প্রভাববিস্তারকারী গ্রহ হিসেবে গণ্য করা হয়। শনিদেবের গতিবিধির পরিবর্তন মানবজীবনের ওপর দীর্ঘস্থায়ী ও গভীর প্রভাব ফেলে। জ্যোতিষশাস্ত্রে শনির ‘বক্রি’ (উল্টো) চাল যেমন বাধা ও বিলম্ব তৈরি করে, তেমনই শনিদেব যখন ‘মার্গী’ (সোজা) হন, তখন থমকে থাকা কাজের গতি বহুগুণ বেড়ে যায় এবং জাতকদের জীবনে ইতিবাচক মোড় আসে।

শনির মহামার্গী চাল আসছে! ৪ রাশির গোল্ডেন টাইম শুরু হবে তখনই
শনির মহামার্গী চাল আসছে! ৪ রাশির গোল্ডেন টাইম শুরু হবে তখনই

বৈদিক পঞ্জিকা ও জ্যোতিষ শাস্ত্রীয় গণনা অনুযায়ী, আগামী ১১ ডিসেম্বর ২০২৬ তারিখে মীন রাশিতে শনিদেব তাঁর বক্রি চাল শেষ করে মার্গী বা সোজা চালে যাত্রা শুরু করবেন। জ্যোতিষ মতে, শনিদেব মার্গী হওয়ার সাথে সাথেই বিভিন্ন রাশির ওপর থেকে শুভ কাজের বাধা কেটে যাবে। বিশেষ করে ৪টি রাশির জাতক-জাতিকাদের জন্য ২০২৬ সালের শেষভাগ এবং তার পরবর্তী সময়টি পরম শুভ প্রমাণিত হতে চলেছে। এই সময় কেরিয়ারে উন্নতি, নতুন ব্যবসার সুবর্ণ সুযোগ, আটকে থাকা বকেয়া অর্থ উদ্ধার এবং পারিবারিক সুখ-শান্তি বজায় থাকবে। ১১ ডিসেম্বর শনির মার্গী চালে কোন ৪ রাশির ভাগ্যে গোল্ডেন টাইম শুরু হতে চলেছে—জেনে নিন।

১. মীন রাশিতে শনি মার্গী হওয়ার বৈদিক ও জ্যোতিষীয় গুরুত্ব

জ্যোতিষশাস্ত্রে শনিদেবের সোজা চালে গমনকে স্থায়িত্ব ও কর্মের সুফল পাওয়ার সেরা সময় মনে করা হয়:

  • কাজের বাধা অপসারণ: শনি মার্গী হলে দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত কাজ বা আইনি জটিলতা দ্রুত সমাধানের দিকে এগোয়।
  • কেরিয়ার ও আর্থিক স্বাবলম্বিতা: ব্যাঙ্কিং, প্রপার্টি ডিলিং, আইটি, লজিস্টিকস, সরকারি চাকরি এবং বড় সংস্থায় কর্মরত ব্যক্তিরা শনির এই সোজা চালে প্রচুর আর্থিক লাভ অর্জন করেন।

২. ১১ ডিসেম্বরের পর শনি মার্গী হওয়ায় যে ৪ রাশির কপাল খুলবে

খ) বৃষ রাশি (Taurus): বৃষ রাশির জাতকদের জন্য শনি পরম মিত্র গ্রহ। শনিদেব সোজা চালে ফিরতেই আপনার আয় ও লাভের ঘর সক্রিয় হয়ে উঠবে। দীর্ঘদিনের বকেয়া টাকা হাতে আসবে। নতুন কাজের সুযোগের পাশাপাশি অতিরিক্ত উপার্জনের বিকল্প পথ তৈরি হবে, যা আপনার ব্যাঙ্ক ব্যালেন্স বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।

গ) তুলা রাশি (Libra): তুলা রাশি শনিদেবের উচ্চ রাশি। ১১ ডিসেম্বর শনি মার্গী হওয়ার সাথে সাথে তুলা রাশির জাতক-জাতিকাদের ষষ্ঠ ও সপ্তম ভাবের জটিলতা দূর হবে। গোপন শত্রু ও প্রতিযোগীরা আপনার সামনে পরাস্ত হবে। স্বাস্থ্য সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের সমস্যা কেটে যাবে। ব্যবসায় নতুন অংশীদারি বা চুক্তি সম্পাদনের জন্য এটিই সেরা সময়।

ঘ) মিথুন রাশি (Gemini): মিথুন রাশির জাতক-জাতিকাদের জন্য শনির সোজা চাল কর্মক্ষেত্র ও কেরিয়ারের জন্য দারুণ শুভ সময় বয়ে আনবে। অফিসে সহকর্মী ও উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পূর্ণ সহযোগিতা পাবেন। বিদেশ যাত্রা বা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সাথে যুক্ত ব্যক্তিরা প্রত্যাশার চেয়েও বেশি লাভবান হবেন। পারিবারিক জীবনে সুখ-শান্তি বৃদ্ধি পাবে।

৩. শনিদেবের পূর্ণ কৃপা লাভের সহজ জ্যোতিষীয় প্রতিকার

শনির মার্গী চালের শতভাগ শুভ ফল পেতে এবং শনিদেবের আশীর্বাদ বজায় রাখতে কিছু সহজ শাস্ত্রীয় নিয়ম মেনে চলতে পারেন:

  • শনিবার প্রদীপ প্রজ্জ্বলন: প্রতি শনিবার সন্ধ্যায় অশ্বত্থ গাছের নিচে বা শনি মন্দিরে সর্ষের তেলের প্রদীপ জ্বালান।
  • শনির বীজ মন্ত্র জপ: প্রতিদিন রাতে ‘ওঁ শং শনৈশ্চরায় নমঃ’ মন্ত্র অন্তত ১০৮ বার জপ করলে মানসিক স্থায়িত্ব বাড়ে।
  • দান-ধ্যান: শনিবার দুঃস্থ বা অসহায় মানুষদের কালো ছোলার ডাল, সর্ষের তেল, কম্বল বা জুতো দান করা অত্যন্ত কল্যাণকর।

১১ ডিসেম্বর ২০২৬-এ শনিদেবের মার্গী চাল মকর, বৃষ, তুলা ও মিথুন রাশির জাতক-জাতিকাদের জন্য অর্থনৈতিক স্থায়িত্ব ও কেরিয়ারে উচ্চ সাফল্যের এক অনবদ্য সুযোগ নিয়ে আসছে। সঠিক পরিকল্পনা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করলে এই সময় আপনার জীবনে স্থায়ী সাফল্য সুনিশ্চিত হবে।

 
ABOUT THE AUTHOR
Suman Roy

সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe