...
...
Next Story

সূর্য ও চন্দ্রের অশুভ সহাবস্থানে গঠিত ব্যতীপাত যোগ! ৪ রাশিকে থাকতে হবে খুব সতর্ক

ব্যতীপাত যোগকে অত্যন্ত সংবেদনশীল, বাধা-বিপত্তিকারক এবং মানসিক অস্থিরতার প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সূর্য ও চন্দ্র যখন অশুভ কোণে মিলিত হয়, তখন জাতক-জাতিকাদের মানসিক ভারসাম্য, আত্মবিশ্বাস এবং অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তে বড় ধরণের বিঘ্ন ঘটে।

Published on: Aug 25, 2026, 19:51:51 IST
Advertisement

বৈদিক জ্যোতিষশাস্ত্রে পঞ্চাঙের হিসাব অনুযায়ী মোট ২৭টি যোগের উল্লেখ রয়েছে। এই যোগগুলির মধ্যে কিছু যোগ অত্যন্ত শুভ ও মহানিধি এনে দেয়, আবার কিছু যোগ অমঙ্গলজনক ও অশুভ প্রভাব বিস্তার করে। বৈদিক পঞ্জিকা অনুযায়ী, সম্প্রতি মহাকাশে আত্মা ও প্রতিপত্তির কারক গ্রহ সূর্য এবং মন ও আবেগের কারক গ্রহ চন্দ্র-এর বিশেষ কোণীয় অবস্থানের কারণে গঠিত হয়েছে অত্যন্ত অশুভ ‘ব্যতীপাত যোগ’ (Vyatipat Yog)।

সূর্য ও চন্দ্রের অশুভ সহাবস্থানে গঠিত ব্যতীপাত যোগ! ৪ রাশিকে থাকতে হবে খুব সতর্ক
সূর্য ও চন্দ্রের অশুভ সহাবস্থানে গঠিত ব্যতীপাত যোগ! ৪ রাশিকে থাকতে হবে খুব সতর্ক

জ্যোতিষশাস্ত্রে ব্যতীপাত যোগকে অত্যন্ত সংবেদনশীল, বাধা-বিপত্তিকারক এবং মানসিক অস্থিরতার প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সূর্য ও চন্দ্র যখন অশুভ কোণে মিলিত হয়, তখন জাতক-জাতিকাদের মানসিক ভারসাম্য, আত্মবিশ্বাস এবং অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তে বড় ধরণের বিঘ্ন ঘটে। ২০২৬ সালের এই বিশেষ সময়ে গঠিত ব্যতীপাত যোগের অশুভ ছায়ায় ৪টি বিশেষ রাশির জাতক-জাতিকাদের জীবনে স্বাস্থ্য সমস্যা, ধনহানি, পারিবারিক বিবাদ ও কর্মক্ষেত্রে নানা প্রতিবন্ধকতা দেখা দিতে পারে। কোন কোন ৪ রাশিকে এই সময়ে বিশেষ সতর্ক থাকতে হবে এবং এর থেকে বাঁচার উপায় বা প্রতিকার কী—তা নিয়ে বিস্তৃত প্রতিবেদন নিচে তুলে ধরা হলো।

১. বৈদিক জ্যোতিষশাস্ত্রে সূর্য-চন্দ্রের 'ব্যতীপাত যোগের' অশুভ গুরুত্ব

জ্যোতিষশাস্ত্রে ব্যতীপাত যোগকে কেন অশুভ এবং সতর্কতামূলক মনে করা হয়:

  • আবেগ ও আত্মবিশ্বাসের সংঘাত: সূর্য হলো মানুষের অহংকার ও আত্মশক্তি, আর চন্দ্র হলো মন ও অনুভূতির কারক। এই দুই বিপরীত মহাশক্তির অশুভ যোগে মানসিকভাবে বিভ্রান্তি তৈরি হয়, যার ফলে মানুষ ভুল সময়ে ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে।
  • শুভ কাজে বাধা: ব্যতীপাত যোগ চলাকালীন যেকোনো নতুন ব্যবসা শুরু করা, প্রপার্টি কেনাবেচা বা বড় ধরণের আর্থিক বিনিয়োগ করা শাস্ত্র মতে নিষিদ্ধ বা অশুভ বলে গণ্য হয়।

২. ‘ব্যতীপাত যোগের’ প্রভাবে যে ৪ রাশির জাতকদের সজাগ ও সতর্ক থাকা প্রয়োজন

খ) কর্কট রাশি (Cancer): কর্কট রাশির অধিপতি স্বয়ং চন্দ্র। ফলে সূর্য ও চন্দ্রের এই অশুভ যোগে কর্কট রাশির জাতকরা সবচেয়ে বেশি মানসিকভাবে প্রভাবিত হতে পারেন। অনাবশ্যক ভয়, বিষণ্ণতা কিংবা সিদ্ধান্তহীনতা আপনাকে ঘিরে ধরতে পারে। পরিবারের বয়স্ক সদস্যদের স্বাস্থ্য নিয়ে চিন্তা বাড়তে পারে। অপ্রয়োজনীয় খরচের কারণে আপনার বাজেট ভেস্তে যেতে পারে, তাই খরচে রাশ টানুন।

গ) তুলা রাশি (Libra): তুলা রাশির জাতক-জাতিকাদের জন্য ব্যতীপাত যোগ ব্যবসা ও সম্পর্কের ক্ষেত্রে কিছু চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। পার্টনারশিপ ব্যবসায় অনভিপ্রেত মতভেদের কারণে আর্থিক ক্ষতি হতে পারে। জীবনসঙ্গীর সাথে ভুল বোঝাবুঝি বা পারিবারিক অশান্তি এড়াতে শান্ত মনোভাব বজায় রাখুন। শেয়ার বাজার বা লটারির প্রলোভন এড়িয়ে চলাই শ্রেয়।

ঘ) মীন রাশি (Pisces): মীন রাশির জাতক-জাতিকাদের এই সময়ে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত ব্যাপারে বাড়তি নজর দিতে হবে। শারীরিক ক্লান্তি বা পেটের সমস্যা দেখা দিতে পারে। অফিসে আপনার করা কাজের ক্রেডিট অন্য কেউ নিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে। ধার দেওয়া বা নেওয়ার থেকে বিরত থাকুন, কারণ আটকে যাওয়া টাকা উদ্ধার করা কঠিন হবে।

৩. ব্যতীপাত যোগের অশুভ প্রভাব কাটাতে দরকারি জ্যোতিষীয় প্রতিকার

ব্যতীপাত যোগের অশুভ ছায়া থেকে বাঁচতে এবং মানসিক স্থিরতা বজায় রাখতে কিছু সহজ শাস্ত্রীয় নিয়ম পালন করতে পারেন:

  • শিব ও সূর্য দেবের আরাধনা: প্রতি সোমবার ও রবিবারে ভগবান শিবের লিঙ্গে জল ও কাঁচা দুধ নিবেদন করুন এবং ‘ওঁ নমঃ শিবায়’ মন্ত্র জপ করুন। সকালে সূর্যদেবকে তামার পাত্রে জল অর্ঘ্য দিন।
  • বিষ্ণু সহস্রনাম ও চালিশা পাঠ: ব্যতীপাত যোগের অশুভ প্রভাব হ্রাসে শ্রী হরি বিষ্ণুর মন্ত্র জপ ও বিষ্ণু সহস্রনাম পাঠ পরম ফলদায়ক।
  • দান-ধ্যান: দুঃস্থ বা অসহায় মানুষদের চাল, চিনি, দুধ বা তিল দান করলে মানসিক শান্তি মেলে এবং গ্রহদোষ দূর হয়।

মহাজাগতিক নিয়ম মেনে গ্রহের অবস্থান পরিবর্তিত হবেই। ২০২৬-এ গঠিত এই ‘ব্যতীপাত যোগ’ মেষ, কর্কট, তুলা ও মীন রাশির জন্য কিছুটা প্রতিকূল হলেও, ধৈর্য, বুদ্ধিমত্তা এবং সঠিক শাস্ত্রীয় প্রতিকার মেনে চললে যেকোনো সাময়িক অশুভ প্রভাব থেকে নিজেকে মুক্ত রাখা সম্ভব।

 
ABOUT THE AUTHOR
Suman Roy

সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe