...
...
Next Story

রবিবার ভৈরব চালিশা পাঠের অলৌকিক সুফল! জানুন পাঠের সঠিক নিয়ম, জ্যোতিষীয় মাহাত্ম্য ও সম্পূর্ণ চালিশা

শাস্ত্রীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, কাল ভৈরব হলেন ভক্তদের প্রতি অত্যন্ত দয়ালু ও রক্ষাকর্তা। যাঁরা শুদ্ধ মন ও ভক্তিতে তাঁর শরণ নেন, তাঁদের জীবন থেকে সমস্ত আধি-ব্যাধি ও অশুভ প্রভাব দূর হয়ে যায়।

Published on: Aug 9, 2026, 06:27:52 IST
Advertisement

সনাতন ধর্মে মহাদেবের অন্যতম রুদ্র ও উগ্র অবতার হলেন কাল ভৈরব। তিনি ভক্তদের রক্ষাকর্তা, ভয়বিনাশক এবং সময়ের অধিপতি হিসেবে পূজিত হন। রবিবার এবং মহাষ্টমীতে কাল ভৈরব বা ভৈরবনাথের পূজা-অর্চনা করা অত্যন্ত ফলদায়ী। বৈদিক জ্যোতিষ ও তন্ত্র-শাস্ত্র মতে, রবিবারে ভগবান ভৈরবের কৃপা লাভের জন্য ‘শ্রী ভৈরব চালিশা’ (Shri Bhairav Chalisa) পাঠ করা জীবনের সমস্ত ধরণের বিপদ, ভয়, শত্রু এবং নেতিবাচক প্রভাব দূর করার পরম মহৌষধ।

রবিবার ভৈরব চালিশা পাঠের অলৌকিক সুফল! জানুন পাঠের সঠিক নিয়ম ও মাহাত্ম্য
রবিবার ভৈরব চালিশা পাঠের অলৌকিক সুফল! জানুন পাঠের সঠিক নিয়ম ও মাহাত্ম্য

ভৈরব চালিশা হলো বাবা ভৈরবনাথের অসীম শক্তি, করুণা, রূপ এবং ভক্তদের সুরক্ষার বর্ণনা সম্বলিত ৪০টি পদের এক অলৌকিক স্তোত্র। রবিবারে ভৈরব চালিশা পাঠের অপরিসীম উপকারিতা, শাস্ত্রীয় নিয়ম, জ্যোতিষীয় মাহাত্ম্য এবং সম্পূর্ণ ভৈরব চালিশার পাঠ সম্পর্কে জেনে নিন।

শাস্ত্রীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, কাল ভৈরব হলেন ভক্তদের প্রতি অত্যন্ত দয়ালু ও রক্ষাকর্তা। যাঁরা শুদ্ধ মন ও ভক্তিতে তাঁর শরণ নেন, তাঁদের জীবন থেকে সমস্ত আধি-ব্যাধি ও অশুভ প্রভাব দূর হয়ে যায়।

রবিবার ভৈরব চালিশা পাঠের অশেষ উপকারিতা

প্রতি রবিবারে পরম ভক্তিভরে শ্রী ভৈরব চালিশা পাঠ করলে জীবনে বেশ কিছু অনন্য ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যায়:

  • ভয়, শত্রু ও নেতিবাচক শক্তি বিনাশ: ভৈরব চালিশার নিত্য পাঠে জীবনের সমস্ত অশুভ দৃষ্টি (নজর দোষ), শত্রুভয়, তন্ত্র-বাধা এবং ভূত-প্রেতের ভয় দূর হয়ে যায়।
  • রাহু, কেতু ও শনির দশা প্রশমন: বৈদিক জ্যোতিষ মতে, কুণ্ডলীতে রাহু, কেতু বা শনি গ্রহের উগ্র অশুভ দশা চললে রবিবারে কাল ভৈরব চালিশা পাঠ অত্যন্ত কার্যকরী। এটি গ্রহের কোপ কমিয়ে শুভত্ব প্রদান করে।
  • আইনি ঝামেলা ও ঋণ থেকে মুক্তি: দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতা, কোর্টের মামলা বা জেদি ঋণগ্রস্ততা থেকে মুক্তি পাওয়ার পথ সুগম করে ভৈরব চালিশা পাঠ।
  • মানসিক সাহস ও দীর্ঘদিনের ব্যাধি মুক্তি: মনের ভয় ও মানসিক অস্থিরতা কাটিয়ে অদম্য সাহস জোগায়। জটিল ও দীর্ঘস্থায়ী শারীরিক ব্যাধি থেকে মুক্তিতে এটি অলৌকিক প্রভাব ফেলে।

জ্যোতিষ ও ধর্মশাস্ত্রের বক্তব্য

১. স্নান ও পরিষ্কার পরিচ্ছদ: রবিবার সকালে বা সন্ধ্যায় স্নান সেরে পরিষ্কার লাল, কালো বা গাঢ় রঙের বস্ত্র পরিধান করুন।

২. পূজার স্থান প্রস্তুতি: ঠাকুরঘরে বা ভৈরব মন্দিরে কাল ভৈরবনাথ বা মহাদেবের ছবির সামনে কুশের আসনে বসুন।

৩. দীপ ও নৈবেদ্য: সর্ষের তেলের প্রদীপ এবং সুগন্ধি ধূপকাঠি জ্বালান। বাবাকে লাল ফুল, জিলিপি, ইমারতি বা ছোলার ভোগ অর্পণ করুন।

৪. কুকুরকে আহার দান: ভৈরবনাথের বাহন হলো কুকুর। তাই চালিশা পাঠের পর কালো বা যেকোনো কুকুরকে রুটি বা খাবার খাওয়ানো অত্যন্ত পুণ্যময়।

৫. একাগ্র পাঠ: দক্ষিণ বা পূর্ব দিকে মুখ করে বসে শান্ত মনে স্পষ্ট উচ্চারণে শ্রী ভৈরব চালিশা পাঠ করুন। পাঠ শেষে আরতি করুন।

সম্পূর্ণ শ্রী ভৈরব চালিশা (Bengali Script)

শ্রী গণপতি বিধি পূজি পদ, ধরি শ্রী সারদ ধ্যান।

ভৈরব চালীসা রচত, কৃপা করো ভগবান।।

জয় ভৈরব জয় ভূতপতি, জয় জয় শ্রি কৈলাস।

করহু কৃপা প্রভু দাস পর, পুরভহু মোরি আস।।

জয় জয় শ্রী ভৈরব অবিনাশী। কৃপা করো প্রভু কুপ প্রকাશી।।

জয় জয় জয় ভৈরব দুখ ভঞ্জন। সংকট কাটহু সকল জন রঞ্জন।।

কাল রূপ ধরো অতি সুন্দরা। রূপ করাল ভয়ানক ভারা।।

ত্রিশূল খড়গ কর মে বিরাজে। জাকে দেখ কাল ডর ভাগে।।

ভস্ম অঙ্গ লিপত অতি সোজে। মুণ্ড মাল উর সোজে বিরাজে।।

শ্বান বাহন অতি প্রিয় তোরা। সংকট মে সো করত নিওরা।।

ব্রহ্মা বিষ্ণু মহেশ ধ্যাৱৈ। সুর নর মুনি সব যশ গাবৈ।।

কাশী ক্ষেত্র কে হো তুম রখবারে। সংকট কাটো প্রভু ভক্তন কে সারে।।

জো জন তুমরো ধ্যান লাগাবৈ। সো জন পরম পদহি সো পাবৈ।।

নির্ধন জো তুমকো ধ্যাৱৈ। সো জন পূর্ণ সম্পদ পাবৈ।।

রোগী জো তুমরো নাম উচারৈ। সো জন রোগ মুক্ত হোই তারৈ।।

সংকট মে জো নাম পুকারৈ। সংকট কাটি তাহি সো উবারৈ।।

রাহু কেতু গ্রহ দোশ নিবারক। ভূত পিশাচ সকল ভয় তারক।।

শ্রী ভৈরব চালীসা জো গাবৈ। সো জন সর্ব সুখহি পাবৈ।।

পঢ়ৈ শুনৈ জো চিত লাগাই। তা পর কৃপা করৈ শ্রী রাই।।

পাপ হরো দুঃখ হরো প্রভু, হরো সকল জঞ্জাল।

কৃপা করো শ্রী ভৈরব দেব, কিজৈ দীন দয়াল।।

কাল ভৈরব হলেন সংকটমোচন ও অভয় প্রদানকারী। কোনো অসৎ উদ্দেশ্য না রেখে কেবল প্রতি রবিবারে শুদ্ধ মন এবং অকৃত্রিম ভক্তি নিয়ে এই চালিশা পাঠ করলে সংসার থেকে যাবতীয় অশুভ প্রভাব ও দুঃখ দূর হয়ে পরম নিরাপত্তা, সুখ ও শান্তি লাভ হয়।

 
ABOUT THE AUTHOR
Suman Roy

সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe