সনাতন ধর্মে মহাদেবের অন্যতম রুদ্র ও উগ্র অবতার হলেন কাল ভৈরব। তিনি ভক্তদের রক্ষাকর্তা, ভয়বিনাশক এবং সময়ের অধিপতি হিসেবে পূজিত হন। রবিবার এবং মহাষ্টমীতে কাল ভৈরব বা ভৈরবনাথের পূজা-অর্চনা করা অত্যন্ত ফলদায়ী। বৈদিক জ্যোতিষ ও তন্ত্র-শাস্ত্র মতে, রবিবারে ভগবান ভৈরবের কৃপা লাভের জন্য ‘শ্রী ভৈরব চালিশা’ (Shri Bhairav Chalisa) পাঠ করা জীবনের সমস্ত ধরণের বিপদ, ভয়, শত্রু এবং নেতিবাচক প্রভাব দূর করার পরম মহৌষধ।

ভৈরব চালিশা হলো বাবা ভৈরবনাথের অসীম শক্তি, করুণা, রূপ এবং ভক্তদের সুরক্ষার বর্ণনা সম্বলিত ৪০টি পদের এক অলৌকিক স্তোত্র। রবিবারে ভৈরব চালিশা পাঠের অপরিসীম উপকারিতা, শাস্ত্রীয় নিয়ম, জ্যোতিষীয় মাহাত্ম্য এবং সম্পূর্ণ ভৈরব চালিশার পাঠ সম্পর্কে জেনে নিন।
শাস্ত্রীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, কাল ভৈরব হলেন ভক্তদের প্রতি অত্যন্ত দয়ালু ও রক্ষাকর্তা। যাঁরা শুদ্ধ মন ও ভক্তিতে তাঁর শরণ নেন, তাঁদের জীবন থেকে সমস্ত আধি-ব্যাধি ও অশুভ প্রভাব দূর হয়ে যায়।
রবিবার ভৈরব চালিশা পাঠের অশেষ উপকারিতা
প্রতি রবিবারে পরম ভক্তিভরে শ্রী ভৈরব চালিশা পাঠ করলে জীবনে বেশ কিছু অনন্য ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যায়:
- ভয়, শত্রু ও নেতিবাচক শক্তি বিনাশ: ভৈরব চালিশার নিত্য পাঠে জীবনের সমস্ত অশুভ দৃষ্টি (নজর দোষ), শত্রুভয়, তন্ত্র-বাধা এবং ভূত-প্রেতের ভয় দূর হয়ে যায়।
- রাহু, কেতু ও শনির দশা প্রশমন: বৈদিক জ্যোতিষ মতে, কুণ্ডলীতে রাহু, কেতু বা শনি গ্রহের উগ্র অশুভ দশা চললে রবিবারে কাল ভৈরব চালিশা পাঠ অত্যন্ত কার্যকরী। এটি গ্রহের কোপ কমিয়ে শুভত্ব প্রদান করে।
- আইনি ঝামেলা ও ঋণ থেকে মুক্তি: দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতা, কোর্টের মামলা বা জেদি ঋণগ্রস্ততা থেকে মুক্তি পাওয়ার পথ সুগম করে ভৈরব চালিশা পাঠ।
- মানসিক সাহস ও দীর্ঘদিনের ব্যাধি মুক্তি: মনের ভয় ও মানসিক অস্থিরতা কাটিয়ে অদম্য সাহস জোগায়। জটিল ও দীর্ঘস্থায়ী শারীরিক ব্যাধি থেকে মুক্তিতে এটি অলৌকিক প্রভাব ফেলে।
জ্যোতিষ ও ধর্মশাস্ত্রের বক্তব্য
জ্যোতিষীদের মতে, রবিবারে সর্ষের তেলের প্রদীপ জ্বেলে, কালো তিল, উড়দ ডাল এবং জবা ফুল নিবেদন করে ভৈরব চালিশা পাঠ করলে তিনি অত্যন্ত প্রীত হন। ধর্মশাস্ত্রে বলা হয়েছে, ভগবান ভৈরবের পুজো বা চালিশা পাঠে ভয় পাওয়ার কিছু নেই; সততার সাথে কাজ করা মানুষদের জন্য ভৈরবনাথ সর্বদা নিরাপত্তা প্রদানকারী রক্ষক।
ভৈরব চালিশা পাঠের সঠিক নিয়ম
{{/usCountry}}জ্যোতিষীদের মতে, রবিবারে সর্ষের তেলের প্রদীপ জ্বেলে, কালো তিল, উড়দ ডাল এবং জবা ফুল নিবেদন করে ভৈরব চালিশা পাঠ করলে তিনি অত্যন্ত প্রীত হন। ধর্মশাস্ত্রে বলা হয়েছে, ভগবান ভৈরবের পুজো বা চালিশা পাঠে ভয় পাওয়ার কিছু নেই; সততার সাথে কাজ করা মানুষদের জন্য ভৈরবনাথ সর্বদা নিরাপত্তা প্রদানকারী রক্ষক।
ভৈরব চালিশা পাঠের সঠিক নিয়ম
{{/usCountry}}১. স্নান ও পরিষ্কার পরিচ্ছদ: রবিবার সকালে বা সন্ধ্যায় স্নান সেরে পরিষ্কার লাল, কালো বা গাঢ় রঙের বস্ত্র পরিধান করুন।
২. পূজার স্থান প্রস্তুতি: ঠাকুরঘরে বা ভৈরব মন্দিরে কাল ভৈরবনাথ বা মহাদেবের ছবির সামনে কুশের আসনে বসুন।
৩. দীপ ও নৈবেদ্য: সর্ষের তেলের প্রদীপ এবং সুগন্ধি ধূপকাঠি জ্বালান। বাবাকে লাল ফুল, জিলিপি, ইমারতি বা ছোলার ভোগ অর্পণ করুন।
৪. কুকুরকে আহার দান: ভৈরবনাথের বাহন হলো কুকুর। তাই চালিশা পাঠের পর কালো বা যেকোনো কুকুরকে রুটি বা খাবার খাওয়ানো অত্যন্ত পুণ্যময়।
৫. একাগ্র পাঠ: দক্ষিণ বা পূর্ব দিকে মুখ করে বসে শান্ত মনে স্পষ্ট উচ্চারণে শ্রী ভৈরব চালিশা পাঠ করুন। পাঠ শেষে আরতি করুন।
সম্পূর্ণ শ্রী ভৈরব চালিশা (Bengali Script)
শ্রী গণপতি বিধি পূজি পদ, ধরি শ্রী সারদ ধ্যান।
ভৈরব চালীসা রচত, কৃপা করো ভগবান।।
জয় ভৈরব জয় ভূতপতি, জয় জয় শ্রি কৈলাস।
করহু কৃপা প্রভু দাস পর, পুরভহু মোরি আস।।
জয় জয় শ্রী ভৈরব অবিনাশী। কৃপা করো প্রভু কুপ প্রকাશી।।
জয় জয় জয় ভৈরব দুখ ভঞ্জন। সংকট কাটহু সকল জন রঞ্জন।।
কাল রূপ ধরো অতি সুন্দরা। রূপ করাল ভয়ানক ভারা।।
ত্রিশূল খড়গ কর মে বিরাজে। জাকে দেখ কাল ডর ভাগে।।
ভস্ম অঙ্গ লিপত অতি সোজে। মুণ্ড মাল উর সোজে বিরাজে।।
শ্বান বাহন অতি প্রিয় তোরা। সংকট মে সো করত নিওরা।।
ব্রহ্মা বিষ্ণু মহেশ ধ্যাৱৈ। সুর নর মুনি সব যশ গাবৈ।।
কাশী ক্ষেত্র কে হো তুম রখবারে। সংকট কাটো প্রভু ভক্তন কে সারে।।
জো জন তুমরো ধ্যান লাগাবৈ। সো জন পরম পদহি সো পাবৈ।।
নির্ধন জো তুমকো ধ্যাৱৈ। সো জন পূর্ণ সম্পদ পাবৈ।।
রোগী জো তুমরো নাম উচারৈ। সো জন রোগ মুক্ত হোই তারৈ।।
সংকট মে জো নাম পুকারৈ। সংকট কাটি তাহি সো উবারৈ।।
রাহু কেতু গ্রহ দোশ নিবারক। ভূত পিশাচ সকল ভয় তারক।।
শ্রী ভৈরব চালীসা জো গাবৈ। সো জন সর্ব সুখহি পাবৈ।।
পঢ়ৈ শুনৈ জো চিত লাগাই। তা পর কৃপা করৈ শ্রী রাই।।
পাপ হরো দুঃখ হরো প্রভু, হরো সকল জঞ্জাল।
কৃপা করো শ্রী ভৈরব দেব, কিজৈ দীন দয়াল।।
কাল ভৈরব হলেন সংকটমোচন ও অভয় প্রদানকারী। কোনো অসৎ উদ্দেশ্য না রেখে কেবল প্রতি রবিবারে শুদ্ধ মন এবং অকৃত্রিম ভক্তি নিয়ে এই চালিশা পাঠ করলে সংসার থেকে যাবতীয় অশুভ প্রভাব ও দুঃখ দূর হয়ে পরম নিরাপত্তা, সুখ ও শান্তি লাভ হয়।