...
...
Next Story

রবিবার সূর্য চালিশা পাঠের অলৌকিক সুফল! জানুন পাঠের সঠিক নিয়ম, জ্যোতিষীয় মাহাত্ম্য ও সম্পূর্ণ চালিশা

জ্যোতিষ ও ধর্মশাস্ত্রের বিধান অনুযায়ী, সূর্যদেব হলেন সমস্ত গ্রহের রাজা। কুণ্ডলীতে সূর্য বলবান ও শুভ থাকলে মানুষ ক্যারিয়ারে সুপ্রতিষ্ঠিত হন এবং সমাজে মান-সম্মান ও সম্মানজনক পদের অধিকারী হন।

Published on: Aug 2, 2026, 06:23:42 IST
Advertisement

সনাতন ধর্ম এবং বৈদিক জ্যোতিষশাস্ত্রে প্রত্যক্ষ দেবতা হিসেবে ভগবান সূর্যদেবকে পরম শক্তির উৎস গণ্য করা হয়। সৃষ্টিকে আলো, শক্তি এবং প্রাণের সঞ্চার দেওয়ার পেছনে সূর্যদেবের ভূমিকা অপরিসীম। জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী, সপ্তাহের রবিবারে সূর্যদেবের আরাধনা, অর্ঘ্য প্রদান এবং ভক্তিভরে ‘শ্রী সূর্য চালিশা’ (Shri Surya Chalisa) পাঠ করলে মানুষের জীবনের সমস্ত অন্ধকার কেটে গিয়ে শুভ প্রভাব বজায় থাকে।

রবিবার সূর্য চালিশা পাঠের অলৌকিক সুফল! জানুন পাঠের সঠিক নিয়ম ও মাহাত্ম্য
রবিবার সূর্য চালিশা পাঠের অলৌকিক সুফল! জানুন পাঠের সঠিক নিয়ম ও মাহাত্ম্য

শ্রী সূর্য চালিশা হলো সূর্যদেবের প্রখর তেজ, মহিমা, আরোগ্য শক্তি ও কৃপাবারি সম্বলিত ৪০টি পদের এক ঐশ্বরিক আধ্যাত্মিক স্তোত্র। রবিবার সূর্য চালিশা পাঠের অপরিসীম উপকারিতা, সঠিক শাস্ত্রীয় নিয়ম, জ্যোতিষীয় মাহাত্ম্য এবং সম্পূর্ণ সূর্য চালিশার পাঠ সম্পর্কে জেনে নিন।

জ্যোতিষ ও ধর্মশাস্ত্রের বিধান অনুযায়ী, সূর্যদেব হলেন সমস্ত গ্রহের রাজা। কুণ্ডলীতে সূর্য বলবান ও শুভ থাকলে মানুষ ক্যারিয়ারে সুপ্রতিষ্ঠিত হন এবং সমাজে মান-সম্মান ও সম্মানজনক পদের অধিকারী হন।

রবিবার সূর্য চালিশা পাঠের মহিমান্বিত উপকারিতা

প্রতি রবিবারে পরম ভক্তিভরে শ্রী সূর্য চালিশা পাঠ করলে জীবনে বেশ কিছু অনন্য ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়:

  • কুণ্ডলীতে সূর্য গ্রহের শুভত্ব বৃদ্ধি: বৈদিক জ্যোতিষ মতে, কুণ্ডলীতে সূর্য দুর্বল থাকলে কাজে বাধা, পিতার সাথে মতবিরোধ এবং মান-সম্মানহানি ঘটে। রবিবারে সূর্য চালিশা পাঠ করলে সূর্য দোষ কেটে যায় এবং আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বৃদ্ধি পায়।
  • আরোগ্য লাভ ও শারীরিক তেজ বৃদ্ধি: সূর্যদেব হলেন আরোগ্যের কারক। নিয়মিত সূর্য চালিশা পাঠ করলে চোখের জ্যোতি বাড়ে, হাড়ের সমস্যা ও চর্মরোগ দূর হয় এবং শরীরে এক নতুন চেতনার সঞ্চার ঘটে।
  • কর্মক্ষেত্রে সাফল্য ও পদোন্নতি: চাকরিজীবীদের পদোন্নতি, সরকারি চাকরির শুভ যোগ এবং প্রশাসনিক ক্ষেত্রে সফলতা পাওয়ার জন্য রবিবারে সূর্য চালিশা পাঠ পরম ফলদায়ক।
  • মানসিক অস্থিরতা ও ভয় বিনাশ: সূর্য চালিশার পবিত্র স্পন্দন মনের ভেতরের অলসতা, ভয়, অবসাদ ও কুচিন্তা দূর করে আত্মাকে সতেজ করে তোলে।

জ্যোতিষ ও ধর্মশাস্ত্রের বক্তব্য

১. স্নান ও পরিষ্কার পরিচ্ছদ: রবিবার সকালে সূর্যোদয়ের পূর্বে উঠে স্নান সেরে পরিষ্কার লাল, কমলা বা হালকা রঙের বস্ত্র পরিধান করুন।

২. সূর্য অর্ঘ্য প্রদান: একটি তামার লোটায় জল, সামান্য অক্ষত (চাল), লাল ফুল ও রলি মিশিয়ে উদীয়মান সূর্যদেবকে অর্ঘ্য অর্পণ করুন।

৩. পূজার স্থান প্রস্তুতি: ঠাকুরঘরে বা খোলা জায়গায় যেখানে সূর্যের আলো পৌঁছায়, সেখানে কুশের বা লাল রঙের আসনে বসুন। শুদ্ধ দেশি ঘিউয়ের প্রদীপ ও সুগন্ধি ধূপকাঠি জ্বালান।

৪. একাগ্র পাঠ: পূর্ব দিকে মুখ করে বসে শান্ত মনে স্পষ্ট উচ্চারণে শ্রী সূর্য চালিশা পাঠ করুন। পাঠ শেষে প্রণাম জানিয়ে সকলের কল্যাণ প্রার্থনা করুন।

সম্পূর্ণ শ্রী সূর্য চালিশা (Bengali Script)

কণক কিরণ চমৎকারি পরম, তেজ পুরুষ মার্তণ্ড।

জ্ঞান রূপ জ্যোতির্ময় প্রভু, করুণাসিন্ধু অখণ্ড।।

জয় ভাস্কর দিনকর দেব, পূর্ণ পরম জগদীশ।

নমো নমো রবি সুবন প্রভু, নবহু পদ মে শীশ।।

জয় জয় শ্রী সূর্যদেব দিনকারা। তেজ প্রকাশ অতি সুন্দরা।।

সপ্ত অশ্ব রথ পর সোজে। কনক মুকুট শিরে অতি বিরাজে।।

কমল সম রূপ অতি পিয়ারা। সুর নর মুনি মন মোহনাহারা।।

পদ্ম সনস্থিতি রূপ অনূপা। ধারি রূপ অতি পরম শুভূপা।।

কাঞ্চন থাল আরতি সাজৈ। ধূপ দীপ নৈবেদ্য বিরাজে।।

সুরপতি চন্দ্র দিগপাল ধ্যাৱৈ। ব্রহ্মা বিষ্ণু শিব যশ গাবৈ।।

মরীচি কাশ্যপ সুত অতি পিয়ারা। অদিতি গর্ভ প্রগটে অবিকারা।।

সহস্র কিরণ তেজ সুরাজে। অশুভ তিমির সব দূর ভাগাজে।।

রোগ শোক সব দহ অতি পীরা। জপত নিরন্তর দিনকর বীরা।।

গ্রহপতি সূর্যদেব অতি ধ্যাৱৈ। সো জন পরম পদহি সো পাবৈ।।

নির্ধন জো তুমকো ধ্যাৱৈ। সো জন পূর্ণ সম্পদ পাবৈ।।

রোগী জো তুমরো নাম উচারৈ। সো জন রোগ মুক্ত হোই তারৈ।।

সংকট মে জো নাম পুকারৈ। সংকট কাটি তাহি সো উবারৈ।।

শ্রী সূর্য চালীসা জো গাবৈ। সো জন সর্ব সুখহি পাবৈ।।

পঢ়ৈ শুনৈ জো চিত লাগাই। তা পর কৃপা করৈ শ্রী রাই।।

পাপ হরো দুঃখ হরো রবি, হরো সকল জঞ্জাল।

কৃপা করো শ্রী ভাস্কর প্রভু, মেহরো করো দয়াল।।

প্রত্যক্ষ দেবতা শ্রী সূর্যদেব হলেন শক্তির আধার। কোনো কঠিন আড়ম্বর ছাড়াই কেবল প্রতি রবিবারে শুদ্ধ মনে এই সূর্য চালিশা পাঠ করলেই শরীর সুস্থ থাকে, মন তেজস্বী হয় এবং জীবনের সব ক্ষেত্রে সফলতা নিশ্চিত হয়।

 
ABOUT THE AUTHOR
Suman Roy

সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe