বৈদিক জ্যোতিষশাস্ত্র এবং মহাকাশ বিজ্ঞান—উভয় দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই গ্রহণ এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। আগামী ১২ আগস্ট উদাপিত হতে চলেছে ২০২৬ সালের দ্বিতীয় তথা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ (Surya Grahan 2026)। জ্যোতিষীদের গণনা অনুযায়ী, আকাশে যখন রাহু ও কেতুর প্রভাবে সূর্য ও পৃথিবীর মাঝে চন্দ্র এসে উপস্থিত হয়, তখন সূর্যের আলো সাময়িকভাবে পৃথিবীতে পৌঁছাতে বাধা পায় এবং গ্রহণ ঘটে। জ্যোতিষ মতে, সূর্যগ্রহণের এই সময়কাল কেবল প্রাকৃতিক দৃশ্যই নয়, বরং মানবজীবনের শক্তি, মানসিক অবস্থা ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে।

আগামী ১২ আগস্টের সূর্যগ্রহণের সময়সীমা, সূতক কালের কার্যকারিতা এবং এই সময়ে শাস্ত্র মতে কী কী নিয়ম মেনে চলা উচিত, জেনে নিন।
১২ আগস্ট সূর্যগ্রহণের সঠিক সময় ও সূতক কাল
- গ্রহণের ভারতীয় সময়সূচি: জ্যোতিষ পঞ্জিকা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১২ আগস্টের এই সূর্যগ্রহণটি ভারতীয় সময় অনুযায়ী বিকেল এবং সন্ধ্যার মধ্যবর্তী সময়ে শুরু হবে। এটি মূলত পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ হিসেবে আকাশে দৃশ্যমান হবে।
- ভারতে দৃশ্যমানতা ও সূতক কালের নিয়ম: ১২ আগস্টের এই সূর্যগ্রহণটি ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা, আটলান্টিক মহাসাগর এবং আর্কটিক অঞ্চলে স্পষ্ট দেখা যাবে। ভারতে গ্রহণ চলাকালীন সময়টি সূর্যাস্তের কাছাকাছি বা রাতের ভাগে পড়ার কারণে দেশ থেকে এটি সরাসরি দৃশ্যমান হবে না।
- ধর্মীয় নিয়মাবলী: শাস্ত্রীয় বিধান অনুযায়ী, সূর্যগ্রহণ যদি কোনো নির্দিষ্ট দেশে খালি চোখে দৃশ্যমান না হয়, তবে সেই অঞ্চলে গ্রহণের 'সূতক কাল' (Sutak Kaal) প্রযোজ্য হয় না। তাই ভারতে এই গ্রহণের কারণে মন্দির বন্ধ রাখা বা প্রাত্যহিক দেবপূজা বন্ধ রাখার মতো কড়াকড়ি থাকছে না। তবে শারীরিক ও মানসিক ইতিবাচক শক্তির জন্য শাস্ত্রীয় কিছু নিয়ম মেনে চলা সর্বদা কল্যাণকর।
সূর্যগ্রহণ চলাকালীন কী করবেন এবং কী করবেন না
ধর্মীয় ও জ্যোতিষীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, গ্রহণ চলাকালীন বায়ুমণ্ডলে নেতিবাচক শক্তির প্রভাব কিছুটা বৃদ্ধি পায়। তাই এই স্পর্শকাল ও নিবৃত্তি কাল চলাকালীন নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম মেনে চলা জরুরি।
যা করা উচিত (করণীয়):
- জপ ও আরাধনা: গ্রহণ চলাকালীন এক জায়গায় শান্ত হয়ে বসে ইষ্টদেবের নাম, গায়ত্রী মন্ত্র, 'ওঁ সূর্যায় নমঃ' অথবা মহা মৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র জপ করা উচিত। এ সময় জপ করা মন্ত্র বহুগুণ বেশি ফলদায়ী হয়।
- খাবারে তুলসী পাতা: গ্রহণ শুরু হওয়ার আগেই রান্না করা খাবার, পানীয় জল এবং দুধে কয়েকটি তুলসী পাতা দিয়ে রাখা শুভ। এটি খাবারকে নেতিবাচক প্রভাব থেকে মুক্ত রাখে।
- স্নান ও দান-ধ্যান: গ্রহণ শেষ হওয়ার সাথে সাথে গঙ্গাজল মিশ্রিত জলে স্নান করে নেওয়া উচিত। স্নানের পর দরিদ্র বা দুস্থ ব্যক্তিদের চাল, গম, তিল, গুড় বা বস্ত্র দান করা অত্যন্ত পুণ্যকর্ম হিসেবে গণ্য হয়।
যা করা একেবারেই উচিত নয় (বর্জনীয়):
- খালি চোখে সূর্য দেখা: খালি চোখে কখনোই সূর্যগ্রহণ দেখা উচিত নয়। এটি চোখের রেটিনার মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। গ্রহণ দেখতে সর্বদা বিশেষ চশমা (ISO সার্টিফাইড) ব্যবহার করা উচিত।
- খাবার গ্রহণ ও রন্ধন: গ্রহণ স্পর্শ থেকে নিবৃত্তি পর্যন্ত সময়ে নতুন করে খাবার রান্না করা বা খাবার খাওয়া এড়িয়ে চলা ভালো। বিশেষ করে শিশু, অসুস্থ ও বৃদ্ধদের ক্ষেত্রে এই নিয়মে ছাড় থাকে।
- ধারালো বস্তুর ব্যবহার না করা: গ্রহণ চলাকালীন কাঁচি, ব্লেড, ছুরি কিংবা সূঁচের মতো ধারালো বস্তুর ব্যবহার এড়িয়ে চলা উচিত।
- শুভ কাজ শুরু না করা: গ্রহণের সময়কালে নতুন বাড়ি কেনাবেচা, গৃহপ্রবেশ, নতুন ব্যবসা শুরু বা যেকোনো শুভ প্রতিজ্ঞা এড়িয়ে চলা উচিত।
গর্ভবতী মহিলাদের জন্য বিশেষ জ্যোতিষীয় সতর্কতা
{{/usCountry}}ধর্মীয় ও জ্যোতিষীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, গ্রহণ চলাকালীন বায়ুমণ্ডলে নেতিবাচক শক্তির প্রভাব কিছুটা বৃদ্ধি পায়। তাই এই স্পর্শকাল ও নিবৃত্তি কাল চলাকালীন নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম মেনে চলা জরুরি।
যা করা উচিত (করণীয়):
- জপ ও আরাধনা: গ্রহণ চলাকালীন এক জায়গায় শান্ত হয়ে বসে ইষ্টদেবের নাম, গায়ত্রী মন্ত্র, 'ওঁ সূর্যায় নমঃ' অথবা মহা মৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র জপ করা উচিত। এ সময় জপ করা মন্ত্র বহুগুণ বেশি ফলদায়ী হয়।
- খাবারে তুলসী পাতা: গ্রহণ শুরু হওয়ার আগেই রান্না করা খাবার, পানীয় জল এবং দুধে কয়েকটি তুলসী পাতা দিয়ে রাখা শুভ। এটি খাবারকে নেতিবাচক প্রভাব থেকে মুক্ত রাখে।
- স্নান ও দান-ধ্যান: গ্রহণ শেষ হওয়ার সাথে সাথে গঙ্গাজল মিশ্রিত জলে স্নান করে নেওয়া উচিত। স্নানের পর দরিদ্র বা দুস্থ ব্যক্তিদের চাল, গম, তিল, গুড় বা বস্ত্র দান করা অত্যন্ত পুণ্যকর্ম হিসেবে গণ্য হয়।
যা করা একেবারেই উচিত নয় (বর্জনীয়):
- খালি চোখে সূর্য দেখা: খালি চোখে কখনোই সূর্যগ্রহণ দেখা উচিত নয়। এটি চোখের রেটিনার মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। গ্রহণ দেখতে সর্বদা বিশেষ চশমা (ISO সার্টিফাইড) ব্যবহার করা উচিত।
- খাবার গ্রহণ ও রন্ধন: গ্রহণ স্পর্শ থেকে নিবৃত্তি পর্যন্ত সময়ে নতুন করে খাবার রান্না করা বা খাবার খাওয়া এড়িয়ে চলা ভালো। বিশেষ করে শিশু, অসুস্থ ও বৃদ্ধদের ক্ষেত্রে এই নিয়মে ছাড় থাকে।
- ধারালো বস্তুর ব্যবহার না করা: গ্রহণ চলাকালীন কাঁচি, ব্লেড, ছুরি কিংবা সূঁচের মতো ধারালো বস্তুর ব্যবহার এড়িয়ে চলা উচিত।
- শুভ কাজ শুরু না করা: গ্রহণের সময়কালে নতুন বাড়ি কেনাবেচা, গৃহপ্রবেশ, নতুন ব্যবসা শুরু বা যেকোনো শুভ প্রতিজ্ঞা এড়িয়ে চলা উচিত।
গর্ভবতী মহিলাদের জন্য বিশেষ জ্যোতিষীয় সতর্কতা
{{/usCountry}}জ্যোতিষ শাস্ত্রে সূর্যগ্রহণের সময় গর্ভবতী মহিলাদের বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করার নির্দেশ দেওয়া হয়:
- ঘরের ভেতরে থাকা: গ্রহণ চলাকালীন গর্ভবতী মহিলাদের ঘরের বাইরে না বেরোনো এবং সরাসরি সূর্যরশ্মি থেকে দূরে থাকা উচিত।
- ধারালো বস্তু এড়িয়ে চলা: এই সময়ে সবজি কাটা, সেলাই করা বা কোনো ধারালো জিনিস ছোঁয়া উচিত নয়।
- বিশ্রাম ও মানসিক শান্তি: গর্ভবতী নারীদের গ্রহণের সময় শুয়ে-বসে ইষ্টদেবের মন্ত্র জপ করা বা ধর্মগ্রন্থ পাঠ করা উচিত, যা হবু সন্তানের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
সূর্যগ্রহণ একটি স্বাভাবিক মহাজাগতিক ও জ্যোতিষীয় প্রক্রিয়া। তাই অহেতুক আতঙ্কিত না হয়ে বিজ্ঞানের নিয়ম ও শাস্ত্রীয় দিকনির্দেশনা মেনে চললে যেকোনো অপ্রীতিকর প্রভাব এড়িয়ে নিজের ও পরিবারের জন্য মঙ্গল বয়ে আনা সম্ভব।