...
...
Next Story

সুতহিবুকযোগে বিবাহের কথা বলে জ্যোতিষশাস্ত্র, এই ব্যাপারটা কী? এই যোগে বিবাহ হলে ভাগ্যে কী ঘটে

ভারতীয় বৈদিক জ্যোতিষশাস্ত্রে বিবাহ কেবল দুটি মানুষের মিলন নয়, বরং দুটি গ্রহমন্ডলীর মিলন। বিবাহের কোষ্ঠি বিচারে লগ্ন, সপ্তম এবং অষ্টম ভাবের গুরুত্ব আমরা সবাই জানি। কিন্তু ‘সুতহিবুকযোগ’-এর কথা অনেকেই জানেন না।

Published on: Feb 21, 2026, 14:21:00 IST
By
Prefer HTon Google
Advertisement

ভারতীয় জ্যোতিষশাস্ত্র এক বিশাল সমুদ্র, যেখানে মানুষের জীবনের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়কে বিশ্লেষণ করার জন্য রয়েছে অসংখ্য যোগ এবং বিধান। বিবাহের ক্ষেত্রে আমরা সাধারণত 'যোটক বিচার' বা 'কুষ্ঠি মিলন'-এর কথা শুনে থাকি। কিন্তু বিবাহিত জীবনের সুখ-শান্তি এবং স্থায়িত্ব বিচারের ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অথচ সাধারণ মানুষের কাছে কিছুটা অপরিচিত বিষয় হলো 'সুতহিবুকযোগ'।

সুতহিবুকযোগে বিবাহের কথা বলে জ্যোতিষ, এই ব্যাপারটা কী? এই যোগে বিবাহ হলে কী হয়
সুতহিবুকযোগে বিবাহের কথা বলে জ্যোতিষ, এই ব্যাপারটা কী? এই যোগে বিবাহ হলে কী হয়

প্রাচীন জ্যোতিষশাস্ত্রে এই যোগকে সুখী দাম্পত্যের অন্যতম চাবিকাঠি হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। কী এই বিশেষ জ্যোতিষীয় সমন্বয়? এই যোগে বিবাহ হলে ভাগ্যে কী ঘটে? এখান থেকে জেনে নিন।

ভারতীয় বৈদিক জ্যোতিষশাস্ত্রে বিবাহ কেবল দুটি মানুষের মিলন নয়, বরং দুটি গ্রহমন্ডলীর মিলন। বিবাহের কোষ্ঠি বিচারে লগ্ন, সপ্তম এবং অষ্টম ভাবের গুরুত্ব আমরা সবাই জানি। কিন্তু 'সুতহিবুকযোগ' বিষয়টি মূলত কুষ্ঠির চতুর্থ এবং পঞ্চম ভাবের একটি বিশেষ শুভ অবস্থানকে নির্দেশ করে।

সুতহিবুকযোগ কী?

জ্যোতিষীয় পরিভাষায় 'সুত' মানে হলো সন্তান (পঞ্চম ভাব) এবং 'হিবুক' হলো চতুর্থ ভাব, যা সুখ, শান্তি এবং গৃহকে নির্দেশ করে। যখন কোনো জাতক বা জাতিকার জন্মছকে চতুর্থ পতি এবং পঞ্চম পতির মধ্যে বিশেষ শুভ সম্পর্ক তৈরি হয় (যেমন— ক্ষেত্র বিনিময়, যুতি বা শুভ দৃষ্টি), তখন তাকে সুতহিবুকযোগের একটি অংশ হিসেবে ধরা হয়।

জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী, সুতহিবুকযোগে বিবাহ হলে দম্পতিরা বেশ কিছু বিশেষ শুভ ফল লাভ করেন:

১. অটুট মানসিক বন্ধন: চতুর্থ ভাব হলো মনের সুখের স্থান। এই যোগ থাকলে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি কম হয় এবং একে অপরের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা বজায় থাকে।

২. গৃহসুখ ও সমৃদ্ধি: হিবুক বা চতুর্থ ভাব বলবান হওয়ায় এই দম্পতিরা খুব দ্রুত নিজেদের বাড়ি, গাড়ি এবং বৈষয়িক সুখ লাভ করতে সক্ষম হন। সংসারে অশান্তি স্থায়ী হয় না।

৩. সুযোগ্য সন্তান লাভ: 'সুত' বা পঞ্চম ভাব সন্তানের কারক। এই যোগে বিবাহিত দম্পতিরা সাধারণত মেধাবী, গুণী এবং বাধ্য সন্তান লাভ করেন। সন্তানকে নিয়ে তাঁদের জীবনে গর্ব করার মতো অনেক সুযোগ আসে।

৪. সামাজিক প্রতিষ্ঠা: চতুর্থ ও পঞ্চম ভাবের শুভ সমন্বয় জাতককে সমাজে সম্মানজনক অবস্থানে নিয়ে যায়। বিবাহের পর স্বামী বা স্ত্রী—উভয়েরই ভাগ্যোন্নতি ঘটার সম্ভাবনা থাকে।

ভারতীয় জ্যোতিষশাস্ত্রের দৃষ্টিভঙ্গি

পরাশর হোরা শাস্ত্র থেকে শুরু করে ভৃগু সংহিতা—প্রতিটি প্রাচীন গ্রন্থেই চতুর্থ (সুখ) এবং পঞ্চম (বুদ্ধি ও সন্তান) ভাবের গুরুত্ব অপরিসীম। জ্যোতিষীদের মতে, কেবল 'অষ্টকূট' মিলনে পয়েন্ট বেশি পেলেই বিয়ে সফল হয় না। যদি দম্পতির কুষ্ঠিতে সুতহিবুক বা অনুরূপ কোনো শুভ যোগ না থাকে, তবে প্রচুর ধন-সম্পদ থাকা সত্ত্বেও মনের মিল বা সন্তানসুখ বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

তাই বিবাহের পূর্বে অভিজ্ঞ জ্যোতিষীর মাধ্যমে দেখে নেওয়া প্রয়োজন যে, গ্রহরা একে অপরের 'হিবুক' (সুখ) এবং 'সুত' (সন্তান) ভাবকে কতটা পুষ্ট করছে। এই যোগ থাকলে দাম্পত্য জীবন হয় মেঘমুক্ত আকাশের মতো স্বচ্ছ।

সুতহিবুকযোগ হলো একটি শক্তিশালী সুরক্ষা কবচ যা বৈবাহিক জীবনের ঝড়-ঝাপটা মোকাবিলা করতে সাহায্য করে। তবে মনে রাখবেন, জ্যোতিষ হলো দিকনির্দেশনা মাত্র। গ্রহের শুভ যোগের পাশাপাশি পারস্পরিক ধৈর্য, বিশ্বাস এবং ভালোবাসা থাকলে যেকোনো সম্পর্কই স্বর্গে পরিণত হতে পারে।

 
ABOUT THE AUTHOR
Suman Roy

সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe