ভারতীয় জ্যোতিষশাস্ত্র ও বৈদিক সংস্কৃতিতে কুষ্ঠি বিচারের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হলো 'অষ্টকূট মিলন'। এই মিলনের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হলো 'গণ'। মানুষের স্বভাব, মানসিকতা এবং আচরণের ধরণ কেমন হবে, তা গণ বিচারের মাধ্যমে নির্ণয় করা হয়। বিশেষ করে বৈবাহিক জীবনের সামঞ্জস্য বুঝতে গণ বিচার অপরিহার্য।

ভারতীয় জ্যোতিষশাস্ত্রের এই গভীর রহস্য জেনে নিন।
ভারতীয় জ্যোতিষশাস্ত্রে গণের প্রকারভেদ ও বৈশিষ্ট্য
বৈদিক জ্যোতিষ অনুযায়ী, সমস্ত মানুষকে তাদের জন্ম নক্ষত্রের ভিত্তিতে তিনটি প্রধান গণে ভাগ করা হয়েছে। এগুলি হলো:
- ১. দেব গণ
- ২. নর গণ
- ৩. রাক্ষস গণ
গণের বিন্যাস কিসের ওপর নির্ভর করে?
কার গণ কোনটি হবে, তা সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করে ব্যক্তির জন্ম নক্ষত্রের ওপর। রাশিচক্রের ২৭টি নক্ষত্রকে এই তিন গণের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। জন্মকালে চন্দ্র যে নক্ষত্রে অবস্থান করে, সেই নক্ষত্রই নির্ধারণ করে ওই ব্যক্তির গণ।
তিন গণের মানুষের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য
- দেব গণ: অশ্বিনী, মৃগশিরা, পুনর্বসু, পুষ্যা, হস্তা, স্বাতী, অনুরাধা, শ্রবণা ও রেবতী—এই নক্ষত্রে জন্ম হলে ব্যক্তি দেব গণের হন। এদের মধ্যে সাত্ত্বিক গুণ বেশি থাকে। এরা সাধারণত শান্ত প্রকৃতির, দয়ালু, উদার এবং পরোপকারী হন। এদের বুদ্ধিমত্তা প্রখর এবং এরা বিতর্কের চেয়ে শান্তিতে বিশ্বাসী।
- নর গণ: ভরণী, রোহিণী, আর্দ্রা, পূর্বফাল্গুনী, উত্তরফাল্গুনী, পূর্বাষাঢ়া, উত্তরাষাঢ়া, পূর্বভাদ্রপদ ও উত্তরভাদ্রপদ নক্ষত্রে জন্ম হলে ব্যক্তি নর গণের হন। এরা বাস্তববাদী ও পরিশ্রমী। এদের মধ্যে সুখ-দুঃখের মিশ্র অনুভূতি থাকে। এরা সামাজিক মর্যাদা ও উন্নতির জন্য কঠোর পরিশ্রম করেন এবং সাংসারিক জীবনে ভারসাম্য বজায় রাখতে দক্ষ হন।
- রাক্ষস গণ: কৃত্তিকা, অশ্লেষা, মঘা, চিত্রা, বিশাখা, জ্যেষ্ঠা, মূল, ধনিষ্ঠা ও শতভিষা নক্ষত্রে জন্ম হলে ব্যক্তি রাক্ষস গণের হন। 'রাক্ষস' শব্দটি শুনে নেতিবাচক মনে হলেও জ্যোতিষশাস্ত্রে এরা অত্যন্ত শক্তিশালী। এরা স্পষ্টবক্তা, জেদী এবং অকুতোভয় হন। এদের ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় (Sixth Sense) খুব প্রখর হয়। এরা যেকোনো প্রতিকূল পরিস্থিতি লড়াই করে জয় করার ক্ষমতা রাখেন।
বিবাহের ক্ষেত্রে গণ বিচার কেন গুরুত্বপূর্ণ?
হিন্দু বিবাহে 'যোটক বিচার' বা 'কুষ্ঠি মেলা'র সময় ৩৬ গুণের মধ্যে ৬ গুণ বরাদ্দ থাকে এই গণের জন্য। একে বলা হয় 'গণ মৈত্রি'। বিবাহের ক্ষেত্রে এটি দেখা হয় মূলত দম্পতির মানসিক মিল এবং রুচিবোধ বোঝার জন্য।
- ১. মানসিক সামঞ্জস্য: একই গণের বর ও কধুর মধ্যে মানসিক মিল সবচেয়ে ভালো হয়। তাদের চিন্তা-ভাবনা এবং জীবনদর্শনের মধ্যে সামঞ্জস্য থাকে।
- ২. গণ দোষ: যদি বর ও কধুর গণ ভিন্ন হয়, তবে অনেক সময় 'গণ দোষ' তৈরি হয়। যেমন—দেব গণের সাথে রাক্ষস গণের মিলনকে অশুভ মনে করা হয়। দেব গণের মানুষ শান্ত ও নমনীয়, অন্যদিকে রাক্ষস গণের মানুষ তেজস্বী ও আধিপত্যকামী। ফলে তাদের মধ্যে মতাদর্শগত সংঘর্ষ হতে পারে।
- ৩. ব্যতিক্রম: তবে জ্যোতিষশাস্ত্র বলে, যদি বর-কধুর রাশির অধিপতি বন্ধু গ্রহ হয় অথবা নবমশ মিল থাকে, তবে গণ দোষ থাকলেও বিবাহ সুখের হতে পারে।
জ্যোতিষশাস্ত্রের আধ্যাত্মিক দৃষ্টিভঙ্গি
{{/usCountry}}হিন্দু বিবাহে 'যোটক বিচার' বা 'কুষ্ঠি মেলা'র সময় ৩৬ গুণের মধ্যে ৬ গুণ বরাদ্দ থাকে এই গণের জন্য। একে বলা হয় 'গণ মৈত্রি'। বিবাহের ক্ষেত্রে এটি দেখা হয় মূলত দম্পতির মানসিক মিল এবং রুচিবোধ বোঝার জন্য।
- ১. মানসিক সামঞ্জস্য: একই গণের বর ও কধুর মধ্যে মানসিক মিল সবচেয়ে ভালো হয়। তাদের চিন্তা-ভাবনা এবং জীবনদর্শনের মধ্যে সামঞ্জস্য থাকে।
- ২. গণ দোষ: যদি বর ও কধুর গণ ভিন্ন হয়, তবে অনেক সময় 'গণ দোষ' তৈরি হয়। যেমন—দেব গণের সাথে রাক্ষস গণের মিলনকে অশুভ মনে করা হয়। দেব গণের মানুষ শান্ত ও নমনীয়, অন্যদিকে রাক্ষস গণের মানুষ তেজস্বী ও আধিপত্যকামী। ফলে তাদের মধ্যে মতাদর্শগত সংঘর্ষ হতে পারে।
- ৩. ব্যতিক্রম: তবে জ্যোতিষশাস্ত্র বলে, যদি বর-কধুর রাশির অধিপতি বন্ধু গ্রহ হয় অথবা নবমশ মিল থাকে, তবে গণ দোষ থাকলেও বিবাহ সুখের হতে পারে।
জ্যোতিষশাস্ত্রের আধ্যাত্মিক দৃষ্টিভঙ্গি
{{/usCountry}}ভারতীয় জ্যোতিষশাস্ত্র মনে করে, গণ মানুষের 'স্বভাবজ প্রবৃত্তি' প্রকাশ করে। দেব গণ হলো সাত্ত্বিক শক্তির প্রতীক, নর গণ রাজসিক এবং রাক্ষস গণ তামসিক শক্তির রূপান্তর। বিবাহের মূল উদ্দেশ্য যেহেতু দুটি আত্মার মিলন এবং বংশ বৃদ্ধি, তাই গণের মিলন হলে জীবনযাত্রা মসৃণ হয়। তবে মনে রাখা প্রয়োজন, গণ কেবল একটি নির্দেশক মাত্র; মানুষের কর্ম এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধই শেষ পর্যন্ত সম্পর্কের স্থায়িত্ব নির্ধারণ করে।