...
...
Next Story

ভারতীয় জ্যোতিষে ‘গণ’ কাকে বলে? বিবাহের আগে এর বিচার হয় কেন

মানুষের স্বভাব, মানসিকতা এবং আচরণের ধরণ কেমন হবে, তা গণ বিচারের মাধ্যমে নির্ণয় করা হয়। বিশেষ করে বৈবাহিক জীবনের সামঞ্জস্য বুঝতে গণ বিচার অপরিহার্য।

Published on: Feb 13, 2026, 08:36:44 IST
By
Prefer HTon Google
Advertisement

ভারতীয় জ্যোতিষশাস্ত্র ও বৈদিক সংস্কৃতিতে কুষ্ঠি বিচারের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হলো 'অষ্টকূট মিলন'। এই মিলনের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হলো 'গণ'। মানুষের স্বভাব, মানসিকতা এবং আচরণের ধরণ কেমন হবে, তা গণ বিচারের মাধ্যমে নির্ণয় করা হয়। বিশেষ করে বৈবাহিক জীবনের সামঞ্জস্য বুঝতে গণ বিচার অপরিহার্য।

ভারতীয় জ্যোতিষে ‘গণ’ কাকে বলে? বিবাহের আগে এর বিচার হয় কেন
ভারতীয় জ্যোতিষে ‘গণ’ কাকে বলে? বিবাহের আগে এর বিচার হয় কেন

ভারতীয় জ্যোতিষশাস্ত্রের এই গভীর রহস্য জেনে নিন।

ভারতীয় জ্যোতিষশাস্ত্রে গণের প্রকারভেদ ও বৈশিষ্ট্য

বৈদিক জ্যোতিষ অনুযায়ী, সমস্ত মানুষকে তাদের জন্ম নক্ষত্রের ভিত্তিতে তিনটি প্রধান গণে ভাগ করা হয়েছে। এগুলি হলো:

  • ১. দেব গণ
  • ২. নর গণ
  • ৩. রাক্ষস গণ

গণের বিন্যাস কিসের ওপর নির্ভর করে?

কার গণ কোনটি হবে, তা সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করে ব্যক্তির জন্ম নক্ষত্রের ওপর। রাশিচক্রের ২৭টি নক্ষত্রকে এই তিন গণের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। জন্মকালে চন্দ্র যে নক্ষত্রে অবস্থান করে, সেই নক্ষত্রই নির্ধারণ করে ওই ব্যক্তির গণ।

তিন গণের মানুষের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য

  • দেব গণ: অশ্বিনী, মৃগশিরা, পুনর্বসু, পুষ্যা, হস্তা, স্বাতী, অনুরাধা, শ্রবণা ও রেবতী—এই নক্ষত্রে জন্ম হলে ব্যক্তি দেব গণের হন। এদের মধ্যে সাত্ত্বিক গুণ বেশি থাকে। এরা সাধারণত শান্ত প্রকৃতির, দয়ালু, উদার এবং পরোপকারী হন। এদের বুদ্ধিমত্তা প্রখর এবং এরা বিতর্কের চেয়ে শান্তিতে বিশ্বাসী।
  • নর গণ: ভরণী, রোহিণী, আর্দ্রা, পূর্বফাল্গুনী, উত্তরফাল্গুনী, পূর্বাষাঢ়া, উত্তরাষাঢ়া, পূর্বভাদ্রপদ ও উত্তরভাদ্রপদ নক্ষত্রে জন্ম হলে ব্যক্তি নর গণের হন। এরা বাস্তববাদী ও পরিশ্রমী। এদের মধ্যে সুখ-দুঃখের মিশ্র অনুভূতি থাকে। এরা সামাজিক মর্যাদা ও উন্নতির জন্য কঠোর পরিশ্রম করেন এবং সাংসারিক জীবনে ভারসাম্য বজায় রাখতে দক্ষ হন।
  • রাক্ষস গণ: কৃত্তিকা, অশ্লেষা, মঘা, চিত্রা, বিশাখা, জ্যেষ্ঠা, মূল, ধনিষ্ঠা ও শতভিষা নক্ষত্রে জন্ম হলে ব্যক্তি রাক্ষস গণের হন। 'রাক্ষস' শব্দটি শুনে নেতিবাচক মনে হলেও জ্যোতিষশাস্ত্রে এরা অত্যন্ত শক্তিশালী। এরা স্পষ্টবক্তা, জেদী এবং অকুতোভয় হন। এদের ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় (Sixth Sense) খুব প্রখর হয়। এরা যেকোনো প্রতিকূল পরিস্থিতি লড়াই করে জয় করার ক্ষমতা রাখেন।

বিবাহের ক্ষেত্রে গণ বিচার কেন গুরুত্বপূর্ণ?

ভারতীয় জ্যোতিষশাস্ত্র মনে করে, গণ মানুষের 'স্বভাবজ প্রবৃত্তি' প্রকাশ করে। দেব গণ হলো সাত্ত্বিক শক্তির প্রতীক, নর গণ রাজসিক এবং রাক্ষস গণ তামসিক শক্তির রূপান্তর। বিবাহের মূল উদ্দেশ্য যেহেতু দুটি আত্মার মিলন এবং বংশ বৃদ্ধি, তাই গণের মিলন হলে জীবনযাত্রা মসৃণ হয়। তবে মনে রাখা প্রয়োজন, গণ কেবল একটি নির্দেশক মাত্র; মানুষের কর্ম এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধই শেষ পর্যন্ত সম্পর্কের স্থায়িত্ব নির্ধারণ করে।

 
ABOUT THE AUTHOR
Suman Roy

সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe