...
...
Next Story

বৃহস্পতিবার গুরু চালিশা পাঠের অলৌকিক সুফল! জানুন পাঠের নিয়ম, জ্যোতিষীয় মাহাত্ম্য ও সম্পূর্ণ চালিশা

‘গুরু’ শব্দের অর্থ হলো যিনি অন্ধকার থেকে আলোর পথে নিয়ে যান। শাস্ত্রে বলা হয়েছে—"গুরু ব্রহ্মা গুরু বিষ্ণু গুরু দেবো মহেশ্বরঃ"। অর্থাৎ গুরুর কৃপা লাভ করলে ঈশ্বর লাভের পথ সুগম হয়ে যায়।

Published on: Aug 13, 2026, 07:04:01 IST
Advertisement

সনাতন ধর্ম এবং বৈদিক জ্যোতিষশাস্ত্রে জীবনের সমস্ত অন্ধকার, অজ্ঞানতা ও কষ্ট দূর করতে 'গুরু' বা দেবাধিদেব দেবগুরু বৃহস্পতির অবস্থানকে সর্বোচ্চ স্থান দেওয়া হয়েছে। শাস্ত্র মতে, বৃহস্পতিবারে দেবগুরু বৃহস্পতি এবং নিজের আধ্যাত্মিক গুরুর আরাধনা করা পরম পুণ্যময়। বৈদিক জ্যোতিষ ও ধর্মশাস্ত্রের বিধান অনুযায়ী, প্রতি বৃহস্পতিবারে নিয়ম মেনে ‘শ্রী গুরু চালিশা’ (Shri Guru Chalisa) পাঠ করলে মানুষের জীবনে ভাগ্যোদয় ঘটে, অজ্ঞতার অন্ধকার দূর হয় এবং সংসার সুখ-শান্তিতে ভরে ওঠে।

বৃহস্পতিবার গুরু চালিশা পাঠের অলৌকিক সুফল! জানুন পাঠের নিয়ম ও মাহাত্ম্য
বৃহস্পতিবার গুরু চালিশা পাঠের অলৌকিক সুফল! জানুন পাঠের নিয়ম ও মাহাত্ম্য

শ্রী গুরু চালিশা হলো গুরুর অলৌকিক মহিমা, জ্ঞান, করুণা এবং উদ্ধারকারী শক্তির কথা ফুটিয়ে তোলা ৪০টি পদের এক পবিত্র আধ্যাত্মিক স্তোত্র। বৃহস্পতিবার গুরু চালিশা পাঠের অপরিসীম উপকারিতা, সঠিক পূজা ও পাঠের নিয়ম, জ্যোতিষীয় মাহাত্ম্য এবং সম্পূর্ণ গুরু চালিশা জেনে নিন।

‘গুরু’ শব্দের অর্থ হলো যিনি অন্ধকার থেকে আলোর পথে নিয়ে যান। শাস্ত্রে বলা হয়েছে—"গুরু ব্রহ্মা গুরু বিষ্ণু গুরু দেবো মহেশ্বরঃ"। অর্থাৎ গুরুর কৃপা লাভ করলে ঈশ্বর লাভের পথ সুগম হয়ে যায়।

বৃহস্পতিবার গুরু চালিশা পাঠের মহিমান্বিত উপকারিতা

প্রতি বৃহস্পতিবারে শ্রী গুরু চালিশা পাঠ করলে জীবনে বেশ কিছু বিস্ময়কর ও সুদূরপ্রসারী ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়:

  • কুণ্ডলীতে গুরু বা বৃহস্পতি গ্রহের শুভত্ব বৃদ্ধি: বৈদিক জ্যোতিষ মতে, দেবগুরু বৃহস্পতি হলেন ভাগ্য, জ্ঞান, ধর্ম, সন্তান এবং ধন-সম্পদের কারক গ্রহ। কুণ্ডলীতে বৃহস্পতি দুর্বল থাকলে বা গুরু দোষ থাকলে শিক্ষায় বাধা, বিবাহে বিলম্ব এবং ধনহানি দেখা দেয়। বৃহস্পতিবারে গুরু চালিশা পাঠ করলে গুরু গ্রহের সমস্ত অশুভ প্রভাব কেটে যায়।
  • জ্ঞান, বুদ্ধি ও শিক্ষায় অমূল্য সাফল্য: শিক্ষার্থী, গবেষক ও জ্ঞানচর্চায় যুক্ত ব্যক্তিদের জন্য গুরু চালিশা পাঠ মহৌষধের মতো কাজ করে। এটি স্মৃতিরোমন্থন ক্ষমতা ও একাগ্রতা বহু গুণ বাড়িয়ে দেয়।
  • দাম্পত্য সুখ ও সন্তান প্রাপ্তি: বিবাহে বাধা কাটাতে বা বিবাহিত জীবনে মানসিক মিল রক্ষা করতে বৃহস্পতিবারে গুরুর আরাধনা অত্যন্ত ফলদায়ক। এ ছাড়া সৎ ও যোগ্য সন্তান প্রাপ্তির ইচ্ছা পূরণ হয়।
  • আধ্যাত্মিক উন্নতি ও মানসিক শান্তি: চালিশার পবিত্র ধ্বনি ও জপ মনের ভেতরের রাগ, অহংকার, দুশ্চিন্তা ও নেতিবাচক চিন্তা দূর করে মনকে শান্ত ও পবিত্র করে তোলে।

জ্যোতিষ ও ধর্মশাস্ত্রের দৃষ্টিভঙ্গি

১. স্নান ও পরিষ্কার পরিচ্ছদ: বৃহস্পতিবারে সকালে সূর্যোদয়ের পূর্বে উঠে স্নান সেরে পরিষ্কার হলুদ বা শুভ্র রঙের বস্ত্র পরিধান করুন।

২. পূজার স্থান প্রস্তুতকরণ: ঠাকুরঘরে বা শান্ত স্থানে একটি কাঠের পিঁড়িতে হলুদ কাপড়ে নিজের গুরুদেবের ছবি বা দেবগুরু বৃহস্পতির ছবি/প্রতীক স্থাপন করুন।

৩. দীপ ও নৈবেদ্য: শুদ্ধ দেশি ঘিউয়ের প্রদীপ এবং সুগন্ধি ধূপকাঠি জ্বালান। গুরুদেবের চরণে হলুদ ফুল, চন্দন, তুলসী পাতা এবং ভেজানো ছোলার ডাল ও গুড়ের ভোগ অর্পণ করুন।

৪. একাগ্র চিত্তে পাঠ: উত্তর বা পূর্ব দিকে মুখ করে শান্ত মনে কুশের আসনে বসে স্পষ্ট উচ্চারণে শ্রী গুরু চালিশা পাঠ করুন। পাঠ শেষে আরতি করুন এবং গুরুদেবের চরণ স্পর্শ করে প্রণাম জানান।

সম্পূর্ণ শ্রী গুরু চালিশা (Bengali Script)

শ্রী গুরু চরণ কমল রজ, বন্দউ বারম্বার।

কৃপা করো গুরুদেব পরম, করহু ভবান্ধি পার।।

জ্ঞান রূপ সদগুরু নমন, করুণা সিন্ধু অপার।

মহিমা তব বর্ণন করৈ, কো সামরথ সংসার।।

জয় জয় শ্রী সদগুরু সুখদায়ী। জয় জয় মহিমা বেদ সুগায়ী।।

তম অজ্ঞান বিনাশক দেব। চরণ কমল সেবা সুখমেব।।

জ্ঞান প্রদীপ হৃদয়ে জ্বালাবো। মোহ নিশা সব দূর ভাগাবো।।

করুণা দৃষ্টি নিরক্ষহূ মোヒー। শরণাগত পালক প্রভু তোヒー।।

তুমহী ব্রহ্মা তুমহী বিষ্ণু। তুমহী দেবেশ্বর শিব কৃষ্ণু।।

সচ্চিদানন্দ রূপ গুরুদেবা। সব দেবন মে শ্রেষ্ঠ তৱ সেবা।।

ভব ভয় হারক শমন সঁতাপ। হরহু দীন কে পাতক পাপ।।

জ্ঞান ভক্তি বৈরাগ্য প্রদাতা। পরম পুরুষ তুম সব সুখ দাতা।।

জো জন চরণ কমল চিত লাৱৈ। সো জন পরম পদহি সো পাৱৈ।।

বিদ্যা বুদ্ধি বল শুভ মতি দাতো। তুমি পিতা তুমি হি পুনি মাতা।।

দুঃখ দারিদ্র্য বিনাশন হারী। জয় জয় জয় সদগুরু অপহারী।।

ধর্ম অর্থ কাম মোক্ষ প্রদাতা। মহিমা তব জগবিদিত বিখ্যাত।।

সংসার তাপ হরণ গুরুদেৱা। অমল কিমল তব পদ কমল সেৱা।।

জো শত বার পাঠ কর কোঈ। বন্ধন মুক্ত পরম সুখ হোঈ।।

কৃপাসিন্ধু শ্রী গুরু অবিনাশী। কাটো কাল ফাঁস ভৱ ফঁাসী।।

যহ গুরু চালীসা জো গাৱৈ। সো জন সর্ব সিদ্ধি ফল পাৱৈ।।

সদগুরু কৃপা করহু মোহি ওপর, জানৌ দাস নিজ রূপ।

সদা বসহু হৃদয় কমল মহঁ, পরম জ্যোতি অনুরূপ।।

জীবনের প্রতিটি মোড়ে সঠিক পথ প্রদর্শনের জন্য গুরুর প্রয়োজন অপরিহার্য। প্রতি বৃহস্পতিবারে শুদ্ধ মন এবং অকৃত্রিম ভক্তি নিয়ে এই শ্রী গুরু চালিশা পাঠ করলে দেবগুরু বৃহস্পতির শুভ দৃষ্টি লাভ হয় এবং জীবনে সার্বিক সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি ফিরে আসে।

 
ABOUT THE AUTHOR
Suman Roy

সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe