...
...
Next Story

বৃহস্পতিবার বিষ্ণু চালিশা পাঠের অপরিসীম সুফল! জানুন পাঠের সঠিক নিয়ম, জ্যোতিষীয় মাহাত্ম্য ও সম্পূর্ণ চালিশা

শাস্ত্রীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের পালনকর্তা শ্রী হরি বিষ্ণু ভক্তদের সমস্ত সৎ ইচ্ছা পূরণ করেন এবং জীবনের সকল সংকটে রক্ষা করেন।

Published on: Aug 6, 2026, 06:58:24 IST
Advertisement

সনাতন ধর্মে প্রতিপালক শ্রী হরি বিষ্ণুর আরাধনার জন্য বৃহস্পতিবার দিনটি পরম পুণ্যময় ও শ্রেষ্ঠ বলে বিবেচিত। বৈদিক জ্যোতিষ ও ধর্মশাস্ত্রের বিধান অনুযায়ী, বৃহস্পতিবারে ভগবান বিষ্ণুর কৃপা লাভের জন্য চালিশা পাঠ এবং ব্রত পালনের বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। ‘শ্রী বিষ্ণু চালিশা’ (Shri Vishnu Chalisa) হলো শ্রী হরির অসীম মহিমা, রূপ, অবতার এবং লীলা সম্বলিত ৪০টি পদের এক ঐশ্বরিক স্তোত্র।

বৃহস্পতিবার বিষ্ণু চালিশা পাঠের অপরিসীম সুফল! জানুন পাঠের সঠিক নিয়ম ও মাহাত্ম্য
বৃহস্পতিবার বিষ্ণু চালিশা পাঠের অপরিসীম সুফল! জানুন পাঠের সঠিক নিয়ম ও মাহাত্ম্য

প্রতি বৃহস্পতিবারে নিয়ম মেনে পরম ভক্তিভরে বিষ্ণু চালিশা পাঠ করলে জীবনের সমস্ত পাপ, দুঃখ, দারিদ্র্য ও মানসিক অশান্তি নিমেষে দূর হয়ে যায়। বৃহস্পতিবার বিষ্ণু চালিশা পাঠের মহিমান্বিত উপকারিতা, শাস্ত্রীয় নিয়ম, জ্যোতিষীয় মাহাত্ম্য এবং সম্পূর্ণ বিষ্ণু চালিশার পাঠ সম্পর্কে জেনে নিন।

শাস্ত্রীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের পালনকর্তা শ্রী হরি বিষ্ণু ভক্তদের সমস্ত সৎ ইচ্ছা পূরণ করেন এবং জীবনের সকল সংকটে রক্ষা করেন।

বৃহস্পতিবার বিষ্ণু চালিশা পাঠের অলৌকিক উপকারিতা

প্রতি বৃহস্পতিবারে শ্রী বিষ্ণু চালিশা পাঠ করলে জীবনে বেশ কিছু অনন্য ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যায়:

  • বৃহস্পতি গ্রহের শুভ প্রভাব ও ভাগ্যোদয়: বৈদিক জ্যোতিষ মতে, বৃহস্পতিবার হলো দেবগুরু বৃহস্পতির দিন। কুণ্ডলীতে বৃহস্পতি দুর্বল থাকলে বিদ্যা, সৌভাগ্য ও অর্থনৈতিক উন্নতিতে বাধা আসে। বৃহস্পতিবারে বিষ্ণু চালিশা পাঠ করলে গুরু দোষ কেটে যায় এবং ভাগ্যোদয় ঘটে।
  • আর্থিক সমৃদ্ধি ও শ্রী বৃদ্ধি: ভগবান বিষ্ণুর আরাধনা করলে ধন-সম্পদের দেবী মা লক্ষ্মী স্বয়ং প্রসন্ন হন। বৃহস্পতিবারে এই চালিশা পাঠে সংসারে অভাব-অনটন দূর হয় এবং স্থায়ী সুখ-সমৃদ্ধি বিরাজ করে।
  • দাম্পত্য জীবনের মাধুর্য ও সুসন্তান লাভ: বিবাহিত জীবনে অশান্তি কাটাতে কিংবা বিবাহের যোগ ত্বরান্বিত করতে বৃহস্পতিবারে শ্রী হরির চালিশা পাঠ মহৌষধের মতো কাজ করে।
  • মানসিক প্রশান্তি ও পাপক্ষয়: চালিশার ছন্দময় জপ মানবদেহের ইতিবাচক শক্তি বাড়িয়ে মনের ভয় ও পূর্বজন্মের পাপ দূর করে আত্মিক শান্তি এনে দেয়।

জ্যোতিষ ও ধর্মশাস্ত্রের বক্তব্য

১. স্নান ও পরিষ্কার পরিচ্ছদ: বৃহস্পতিবার ভোরে উঠে স্নান সেরে পরিষ্কার হলুদ বা সাদা রঙের বস্ত্র পরিধান করুন।

২. পূজার স্থান প্রস্তুতি: ঠাকুরঘরে বা শান্ত স্থানে একটি কাঠের পিঁড়িতে হলুদ কাপড় বিছিয়ে শ্রী বিষ্ণু ও মা লক্ষ্মীর মূর্তি বা ছবি স্থাপন করুন।

৩. দীপ ও নৈবেদ্য: শুদ্ধ দেশি ঘিউয়ের প্রদীপ ও ধূপকাঠি জ্বালান। শ্রী হরির চরণে তুলসী পাতা, হলুদ ফুল, কলা এবং ভেজানো ছোলার ডাল ও গুড়ের ভোগ নিবেদন করুন।

৪. একাগ্র পাঠ: উত্তর বা পূর্ব দিকে মুখ করে বসে শান্ত মনে স্পষ্ট উচ্চারণে বিষ্ণু চালিশা পাঠ করুন। পাঠ শেষে শ্রী হরির আরতি ও প্রসাদ বিতরণ করুন।

সম্পূর্ণ শ্রী বিষ্ণু চালিশা (Bengali Script)

জয় হরি শ্রী বাসুদেব, পুরুষোত্তম অবিনাশ।

মেহরো করহু দীন পর, পূরণ করহু অভিলাষ।।

বিষ্ণু সুমিরন যে করৈ, তানৈ নাশে ক্লেশ।

সো নর সুখে সোৱৈ সদা, বসে বৈকুণ্ঠ দেশ।।

জয় জয় জয় শ্রী বিষ্ণু গোসাই। কৃপা করো মোহি দাস কী নাই।।

শান্তাকারং ভুজঙ্গশয়নং। পদ্মনাভং সুরেশং সুপ্রসন্নং।।

বিশ্বাধারং গগনসদৃশং। মেঘবর্ণং শুভাঙ্গং সর্বরূপং।।

লক্ষ্মীকান্তং কমলনয়নং। যোগিভির্ধ্যানগম্যং বরদং।।

একো বিষ্ণু মহদ্বিষ্ণু। পরমেশ্বর সর্বভূত নিবাসং।।

সদা সংগী তুম ভক্তন কে। বিপদ নিবারণ দুঃখ হরন কে।।

শঙ্খ চক্র গদা পদ্ম ধারী। গরুড় বাহন অতি সুন্দর ভারী।।

পীতাম্বর পরিধান সুদেশা। কাঞ্চন মুকুট মুকুট ধরি ভেষা।।

কৌস্তুভ মণি উর বিরাজে। অঙ্গ অঙ্গ জ্যোতি সুরাজে।।

মৎস্য রূপ ধরি বেদ উবারে। কচ্ছপ রূপ ধরি মন্থন সংভারে।।

বরাহ রূপ ধরি ধরনী উবারি। নৃসিংহ রূপ ধরি হিরণ্যকশিপু মারি।।

বামন রূপ ধরি বলি ছলি લીন্হো। পরশুরাম রূপ ধরি ক্ষত্রি সংহার কীন্হো।।

রাম রূপ ধরি রাবণ মারা। কৃষ্ণ রূপ ধরি কংস সংহারা।।

বৌদ্ধ রূপ ধরি অহিংসা প্রকাশি। কল্কি রূপ ধরি ম্লেচ্ছ ভিনাশী।।

দশ অবতার তোমারি লীলা। সুর নর মুনি সব মহিমা গাওয়া।।

জো জন তোমারো ধ্যান লাগাবৈ। সো জন পরম পদহি পাবৈ।।

পুত্রহীন জো তুমকো ধ্যাবৈ। সো জন নিশ্চয় পুত্রহি পাবৈ।।

নির্ধন জো তুমকো সুমিরন করই। সো জন পূর্ণ সম্পদ ভরই।।

রোগী জো তুমরো নাম উচারৈ। সো জন রোগ মুক্ত হোই তারৈ।।

সংকট মে জো নাম পুকারৈ। সংকট কাটি তাহি সো উবারৈ।।

তুলসী দল চড়ায় জো ধ্যাবৈ। সো জন বৈকুণ্ঠ লোকহি পাবৈ।।

ধূপ দীপ নৈবেদ্য চড়াবৈ। সো জন পরম আনন্দহি পাবৈ।।

শ্রী বিষ্ণু চালিশা জো গাবৈ। সো জন সর্ব সুখহি পাবৈ।।

পঢ়ৈ শুনৈ জো চিত লাগাই। তা পর কৃপা করৈ শ্রী রাই।।

পাপ হরো দুঃখ হরো হরি, হরো সকল জঞ্জাল।

কৃপা করো শ্রী বাসুদেব, মেহরো করো গোপাল।।

প্রতিপালক শ্রী হরি বিষ্ণু হলেন কৃপার সাগর। কোনো কঠিন সাধনা না থাকলেও কেবল প্রতি বৃহস্পতিবারে শুদ্ধ মনে এই বিষ্ণু চালিশা পাঠ করলেই সংসার থেকে যাবতীয় অশান্তি ও অভাব দূর হয়ে পরম সুখ ও মুক্তি লাভ সম্ভব।

 
ABOUT THE AUTHOR
Suman Roy

সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।

SHARE THIS ARTICLE ON
Notifications

Get breaking alerts directly from the newsroom

Notifications are on!You'll be notified when news breaks