...
...
Next Story

বৈশাখ কালাষ্টমী কবে? জানুন শুভ মুহূর্ত, কাল ভৈরব পূজার নিয়ম ও এই দিনের আধ্যাত্মিক গুরুত্ব

সনাতন ধর্মে প্রতিটি মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিকে 'কালাষ্টমী' হিসেবে পালন করা হয়। তবে বৈশাখ মাসের এই তিথিটি বিশেষ ফলদায়ক বলে মনে করা হয়। ভক্তদের বিশ্বাস, এই দিনে নিষ্ঠাভরে ভগবান কাল ভৈরবের আরাধনা করলে জীবনের সমস্ত ভয়, বাধা এবং নেতিবাচক শক্তি দূর হয়।

Published on: Apr 3, 2026, 15:58:33 IST
Advertisement

হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে বৈশাখ মাসের কালাষ্টমী তিথিটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এই বিশেষ দিনে ভগবান শিবের রুদ্র অবতার 'কাল ভৈরব'-এর পূজা করা হয়। ২০২৬ সালের বৈশাখ কালাষ্টমীর সঠিক তারিখ, শুভ মুহূর্ত এবং পূজা বিধি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হল।

বৈশাখ কালাষ্টমী কবে? জানুন শুভ মুহূর্ত, কাল ভৈরব পূজার নিয়ম
বৈশাখ কালাষ্টমী কবে? জানুন শুভ মুহূর্ত, কাল ভৈরব পূজার নিয়ম

সনাতন ধর্মে প্রতিটি মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিকে 'কালাষ্টমী' হিসেবে পালন করা হয়। তবে বৈশাখ মাসের এই তিথিটি বিশেষ ফলদায়ক বলে মনে করা হয়। ভক্তদের বিশ্বাস, এই দিনে নিষ্ঠাভরে ভগবান কাল ভৈরবের আরাধনা করলে জীবনের সমস্ত ভয়, বাধা এবং নেতিবাচক শক্তি দূর হয়।

বৈশাখ কালাষ্টমী ২০২৬: তারিখ ও শুভ মুহূর্ত

২০২৬ সালে বৈশাখ মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথি নিয়ে ভক্তদের মধ্যে বিশেষ কৌতুহল রয়েছে। পঞ্জিকা অনুসারে:

  • অষ্টমী তিথি শুরু: ৯ এপ্রিল, ২০২৬ তারিখ রাত থেকে।
  • অষ্টমী তিথি সমাপ্ত: ১০ এপ্রিল, ২০২৬ তারিখ বিকেল বা সন্ধ্যায় (নির্দিষ্ট সময় ভেদে)।
  • উদয়া তিথি অনুসারে: যেহেতু কাল ভৈরব পূজা নিশীথ কালে (মধ্যরাতে) করা সবথেকে প্রশস্ত, তাই ৯ এপ্রিল দিবাগত রাতেই প্রধান পূজার্চনা সম্পন্ন করা হবে। তবে ব্রত পালিত হবে ১০ এপ্রিল, ২০২৬ তারিখে।

কাল ভৈরব কে?

পুরাণ মতে, কাল ভৈরব হলেন ভগবান শিবের পঞ্চম অবতার। তাঁকে 'কাশীর কোতোয়াল' এবং দণ্ডাধিপতি বলা হয়। তিনি যেমন উগ্র ও ভয়ংকর, তেমনই ভক্তদের প্রতি অত্যন্ত দয়ালু। অশুভ শক্তির বিনাশ এবং ন্যায়ের প্রতিষ্ঠার জন্য তাঁর উৎপত্তি হয়েছিল। কালাষ্টমীতে তাঁর পূজা করলে কোষ্ঠীর রাহু ও শনির অশুভ প্রভাব থেকেও মুক্তি পাওয়া যায়।

পূজা বিধি: কীভাবে করবেন আরাধনা?

১. স্নান ও সংকল্প: ব্রহ্ম মুহূর্তে স্নান সেরে পরিষ্কার বস্ত্র পরিধান করে ব্রতের সংকল্প নিতে হয়।

২. পূজার স্থান: কাল ভৈরবের ছবির সামনে বা শিব মন্দিরে গিয়ে ধূপ, দীপ ও ফুল অর্পণ করতে হয়।

৩. ভোগ নিবেদন: কাল ভৈরবকে সর্ষের তেলের প্রদীপ দেখানো অত্যন্ত শুভ। ভোগ হিসেবে তাঁকে তিল, গুড় বা বিউলি ডালের বড়া নিবেদন করা হয়।

৪. মন্ত্র জপ: ‘ওঁ কালভৈরবায় নমঃ’ (Om Kaal Bhairavaya Namah) এই মন্ত্রটি ১০৮ বার জপ করা উচিত। এছাড়া এই দিনে 'ভৈরব চালিসা' পাঠ করা বিশেষ ফলদায়ক।

৫. কুকুর সেবা: কাল ভৈরবের বাহন হলো কালো কুকুর। তাই এই দিনে কোনো কালো কুকুরকে মিষ্টি রুটি বা দুধ খাওয়ালে ভগবান অত্যন্ত সন্তুষ্ট হন।

কালাষ্টমীর মাহাত্ম্য ও প্রতিকার

যাঁদের জীবনে শত্রুভয় রয়েছে বা যাঁরা দীর্ঘস্থায়ী কোনো রোগে ভুগছেন, তাঁদের জন্য কালাষ্টমী এক অব্যর্থ সুযোগ। জ্যোতিষশাস্ত্রে বলা হয়, কাল ভৈরবের আশীর্বাদ থাকলে কোনো তুকতাক বা নেতিবাচক শক্তি মানুষের ক্ষতি করতে পারে না। এছাড়া এই দিনে দীপদান করলে অকাল মৃত্যুর ভয় দূর হয়।

ভয়কে জয় করার এবং আত্মিক শান্তি লাভের এক অনন্য দিন হলো বৈশাখ কালাষ্টমী। ২০২৬ সালের ১০ এপ্রিল এই পুণ্য তিথিতে শুদ্ধ মনে ভগবান কাল ভৈরবের স্মরণ নিন। মনে রাখবেন, কাল ভৈরব কেবল দণ্ড দেন না, তিনি তাঁর শরণাগত ভক্তদের সমস্ত বিপদ থেকে আগলে রাখেন।

 
ABOUT THE AUTHOR
Suman Roy

সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe