...
...
Next Story

বুধবারে গণেশ চালিশা পাঠের মহিমান্বিত সুফল! জানুন পাঠ করার সঠিক নিয়ম ও জ্যোতিষীয় মাহাত্ম্য

জ্যোতিষ এবং ধর্মশাস্ত্রের বিধান অনুযায়ী, শ্রী গণেশ হলেন বিঘ্নহর্তা—অর্থাৎ তিনি ভক্তের জীবনের সমস্ত বাধা-বিপত্তি হরণ করেন। বুধবারে শ্রদ্ধার সাথে তাঁর আরাধনা ও চালিশা জপ করলে কেবল আধ্যাত্মিক উন্নয়ন ঘটে না, বরং দৈনন্দিন ও কর্মজীবনেও আশাতীত শুভ ফল মেলে।

Published on: Aug 5, 2026, 06:53:23 IST
Advertisement

সনাতন ধর্মে প্রতিটি শুভ কাজের শুরুতে সর্বপ্রথমে যাঁর আরাধনা করা হয়, তিনি হলেন সিদ্ধিদাতা গজানন শ্রী গণেশ। বুধ ও গণেশের পরম কৃপা লাভের জন্য বুধবার বা বুধবার দিনটিকে অত্যন্ত পুণ্যময় বলে মনে করা হয়। বৈদিক জ্যোতিষ ও শাস্ত্র মতে, বুধবারে শ্রী গণেশের পূজার পাশাপাশি নিয়মিত পরম ভক্তিভরে ‘গণেশ চালিশা’ (Ganesh Chalisa) পাঠ করলে জীবনের সমস্ত বিঘ্ন, কষ্ট ও মানসিক বাধা নিমেষে কেটে যায়।

বুধবারে গণেশ চালিশা পাঠের মহিমান্বিত সুফল! জানুন পাঠ করার সঠিক নিয়ম ও মাহাত্ম্য
বুধবারে গণেশ চালিশা পাঠের মহিমান্বিত সুফল! জানুন পাঠ করার সঠিক নিয়ম ও মাহাত্ম্য

তবে পাঠের পূর্বে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বুঝে নেওয়া প্রয়োজন। সনাতন ধর্মে বিভিন্ন দেব-দেবীর আরাধনার জন্য পৃথক পৃথক চালিশা ও স্তোত্র নির্ধারিত রয়েছে। সিদ্ধিদাতা গণপতির কৃপা পাওয়ার জন্য যেমন ‘শ্রী গণেশ চালিশা’ পাঠ করা হয়, তেমনই পবনপুত্র হনুমানজির কৃপা পেতে পাঠ করা হয় ‘শ্রী হনুমান চালিশা’। বুধবারে শ্রী গণেশ চালিশা পাঠের অপরিসীম উপকারিতা, সঠিক শাস্ত্রীয় নিয়ম, জ্যোতিষীয় মাহাত্ম্য এবং চালিশা পাঠের পুণ্যময় প্রভাব জেনে নিন।

জ্যোতিষ এবং ধর্মশাস্ত্রের বিধান অনুযায়ী, শ্রী গণেশ হলেন বিঘ্নহর্তা—অর্থাৎ তিনি ভক্তের জীবনের সমস্ত বাধা-বিপত্তি হরণ করেন। বুধবারে শ্রদ্ধার সাথে তাঁর আরাধনা ও চালিশা জপ করলে কেবল আধ্যাত্মিক উন্নয়ন ঘটে না, বরং দৈনন্দিন ও কর্মজীবনেও আশাতীত শুভ ফল মেলে।

বুধবার গণেশ চালিশা পাঠের অলৌকিক উপকারিতা

শাস্ত্র অনুযায়ী, বুধবারে সিদ্ধিদাতার এই চালিশা জপ করলে ভক্তের জীবনে নানা ধরণের ইতিবাচক প্রভাব দেখা যায়:

  • বুদ্ধি, বিদ্যা ও কর্মে সফলতা: শ্রী গণেশ হলেন বুদ্ধি ও জ্ঞানের দেবতা। শিক্ষার্থী এবং গবেষণায় যুক্ত ব্যক্তিদের জন্য বুধবারে গণেশ চালিশা পাঠ অত্যন্ত শুভ। এটি একাগ্রতা বাড়ায় এবং পরীক্ষায় সফলতা এনে দেয়।
  • বুধ গ্রহের অশুভ দশা মুক্ত: বৈদিক জ্যোতিষ মতে, বুধ গ্রহ হলো বুদ্ধি, বাণী, তর্কমূলক ক্ষমতা এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের কারক। কুণ্ডলীতে বুধ গ্রহ দুর্বল থাকলে বা বুধের অশুভ দশা চললে বুধবারে গণেশ চালিশা পাঠ করলে সেই দোষ প্রশমিত হয়।
  • ব্যবসা ও আর্থিক উন্নতি: ব্যবসায়ী ও চাকরিজীবীদের জন্য গণেশ চালিশা পাঠ এক অমূল্য বরদান। ব্যবসায় নেমে আসা ক্ষতি, ঋণগ্রস্ততা এবং আর্থিক বাধা দূর হয়ে নতুন আয়ের পথ খুলে যায়।
  • বিঘ্ন বিনাশ ও গৃহশান্তি: পরিবারে অহেতুক বিবাদ বা শুভ কাজে বারবার বাধা এলে গণেশ চালিশার শুভ প্রভাবে সমস্ত প্রতিকূলতা কেটে গিয়ে সংসারে সুখ-শান্তি নেমে আসে।

জ্যোতিষ ও ধর্মশাস্ত্রের বক্তব্য

চালিশা পাঠ থেকে পূর্ণ ফল পেতে হলে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট শাস্ত্রীয় নিয়ম মেনে চলা জরুরি:

১. প্রাতঃ স্নান ও পরিচ্ছন্নতা: বুধবারে সকালে সূর্যোদয়ের পূর্বে উঠে স্নান সেরে পরিষ্কার সবুজ, সাদা বা হলুদ রঙের বস্ত্র পরিধান করুন।

২. পূজা বেদী প্রস্তুত: ঘরের ঠাকুরঘরে বা শান্ত স্থানে গণপতি বাপ্পার মূর্তি বা ছবির সামনে বসুন। পূজার স্থানটি পূর্ব বা উত্তর দিকে মুখ করে প্রস্তুত করুন।

৩. দূর্বা ও মোদক অর্পণ: শ্রী গণেশকে অত্যন্ত প্রিয় দূর্বা ঘাস (জোড়ায় জোড়ায় ২১টি), লাল ফুল এবং মোদক বা বেসনের লাড্ডু নিবেদন করুন।

৪. দীপ-ধূপ প্রজ্জ্বলন: একটি শুদ্ধ ঘিউয়ের প্রদীপ এবং সুগন্ধি ধূপকাঠি জ্বালান।

৫. একাগ্র মনে পাঠ: এরপর শান্ত মনে সিদ্ধিদাতার রূপ ধ্যান করে স্পষ্ট উচ্চারণে গণেশ চালিশা পাঠ করুন। পাঠ শেষে গণপতি বাপ্পার আরতি করুন এবং ক্ষমা প্রার্থনা জানান।

(বিশেষ দ্রষ্টব্য: বহু ভক্তের মনে হনুমান চালিশা ও গণেশ চালিশার মধ্যে বিভ্রান্তি দেখা যায়। শ্রী হনুমান চালিশা হলো মহাবীর হনুমানজির বীরত্ব ও রামভক্তির চল্লিশ পদের স্তোত্র, যা মূলত মঙ্গল ও শনিবারে পাঠ করা হয়। আর বুধবারে বুদ্ধি ও সাফল্য পেতে পাঠ করা হয় শ্রী গণেশ চালিশা।)

গণেশ চালিশা

জয় গণেশ গিরিজা-সুত, জয় গজানন।

মঙ্গলমূর্তি সদা, করো ভক্ত জন রক্ষণ॥

শ্রী গণেশ শরণে আসি, করি তোমায় প্রণাম।

দুর্জয় বাধা হটাও, রাখো নিত্য ধাম।

পীত বসন শোভে গায়ে, কণ্ঠে ফুলের মালা।

মুকুট মণি রত্নজটিত, দীপ্ত শোভা বালা।

তুন্ড বড়, নেত্র টানাটানি, কর জোড়া চার।

ডান হাতে অঙ্কুশ ধরি, বাঁ হাতে লাড্ডু ধার।

সিঁদুর চন্দন ললাটে, কত সুন্দর সাজ।

দর্শনে পাপ কাটে, পূর্ণ হয় কাজ।

শিব-পার্বতীর নন্দন, তুমি গুণনিধি।

চরণে শরণ লয়ে, পাই যেন সিদ্ধি।

মোতলায় চড়ে প্রভু, করহ ভ্রমণ।

দুরিত হরণ কর, হে ভকত পবন।

বুদ্ধি দাতা জ্ঞান দাতা, তুমি হে ঈশ্বর।

সঙ্কট মোচন নাম, করো দয়া মনোহর।

প্রভুর কৃপা পেতে কোনো জটিল আড়ম্বরের প্রয়োজন হয় না। বুধবারে কেবল পবিত্র মন এবং অকৃত্রিম ভক্তি নিয়ে শ্রী গণেশ চালিশা পাঠ করলেই বিঘ্নহর্তা বাপ্পার আশীর্বাদে জীবনের প্রতিটি পদপদে শুভ সূচনা ও পরম সাফল্য অর্জন করা সম্ভব।

 
ABOUT THE AUTHOR
Suman Roy

সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe