সন্দেশখালিতে বাসন্তী হাইওয়ের কাছে কুমিরখালি এলাকায় বড়সড় অভিযানে নামল বেঙ্গল স্পেশাল টাস্ক ফোর্স। এসটিএফ সূত্রে খবর, অভিযানে এখনও পর্যন্ত ১৮টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। উল্লেখ্য, গতরাতেই এনআইএ গ্রেফতার করেছে তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক শওকত মোল্লাকে। আর যেখান থেকে এই অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে, তা শওকতের বাড়ির কাছেই। এদিকে যেখান থেকে এই সব অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে, তা শেখ সাহাজাহানের এলাকা হিসেবে পরিচিত ছিল। এই আবহে স্থানীয় দুই তৃণমূল নেতার বাড়িতেও অভিযান চালাচ্ছে এসটিএফ। এই ঘটনায় সব মিলিয়ে ৪ জন গ্রেফতার হয়েছেন। ধৃতরা শেখ শাহজাহানের ঘনিষ্ঠ বলেই জানা গিয়েছে।

তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে কুমিরখালি এলাকায় তল্লাশি অভিযান চালানো হয়। সেই সময় বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্রের সন্ধান মেলে। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রগুলির মধ্যে কী ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে এবং সেগুলি কোথা থেকে আনা হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এসটিএফ-এর দাবি, উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। কারণ এলাকায় এখনও তল্লাশি অভিযান চলছে। তদন্তকারীদের একাংশের অনুমান, এটি কোনও বড় অস্ত্র মজুত চক্রের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। সেই কারণেই উদ্ধার হওয়া আগ্নেয়াস্ত্রগুলির উৎস, সরবরাহের রুট এবং এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।
প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, দীর্ঘদিন ধরেই ওই এলাকায় অস্ত্র মজুত করা হয়ে থাকতে পারে। তবে এই বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র কে বা কারা সেখানে জমা করেছিল এবং এর পিছনে কোনও অপরাধচক্র বা সংগঠিত নেটওয়ার্ক রয়েছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এদিকে এনআইএ ইতিমধ্যেই ধৃত সওকত মোল্লাকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। তাঁর কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার আশায় রয়েছেন তদন্তকারীরা। আজ শওকতকে আদালতে তোলা হবে। এদিকে উদ্ধার হওয়া অস্ত্রগুলির ফরেনসিক পরীক্ষা করানো হবে বলেও জানা গিয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় নিরাপত্তা সংক্রান্ত একাধিক প্রশ্নও সামনে এসেছে।