Anubrata Mondal Update: রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলের পর তৃণমূল কংগ্রেস কার্যত দুই শিবিরে বিভক্ত। একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবির, অন্যদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা ‘আসল তৃণমূল’। আর এই নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের মধ্যেই আসন্ন ২১ জুলাইয়ের কর্মসূচিকে ঘিরে শুরু হয়েছে শক্তি প্রদর্শনের লড়াই। সেই লড়াইয়ে বড় বার্তা দিলেন বীরভূমের প্রভাবশালী নেতা অনুব্রত মণ্ডল। তাঁর দাবি, একুশে জুলাইয়ের সমাবেশে বীরভূম জেলা থেকেই ২৫ থেকে ৩০ হাজার কর্মী-সমর্থক যোগ দেবেন।

গরুপাচার মামলায় দীর্ঘদিন দিল্লির তিহার জেলে থাকার পর রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে ফিরেছিলেন অনুব্রত মণ্ডল। সেই সময় তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জেলবন্দি অবস্থায়ও বীরভূম জেলা সংগঠনের দায়িত্ব অন্য কারও হাতে তুলে দেননি তিনি। বরং জেলার সাংগঠনিক বিষয় নিজেই দেখভাল করেছিলেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, এর মাধ্যমে অনুব্রতর প্রতি নিজের আস্থা ও সমর্থনের বার্তাই দিয়েছিলেন তৎকালীন তৃণমূল সুপ্রিমো।
জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর অবশ্য পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। অনুব্রত আর জেলা সভাপতির দায়িত্ব ফিরে পাননি। পরিবর্তে তাঁকে দলের কোর কমিটির সদস্য করা হয়। যদিও সেই পদে সাংগঠনিক ক্ষমতা আগের মতো ছিল না। ফলে দীর্ঘদিন ধরে বীরভূমে সংগঠন গড়ে তোলা এই নেতার রাজনৈতিক ভূমিকা অনেকটাই সীমিত হয়ে যায়।
পরবর্তীকালে রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলের পর অনুব্রত মণ্ডল ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে যোগ দেন। সেই সঙ্গে ফের গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্বও পান। বর্তমানে তিনি ঋত শিবিরের বীরভূম জেলা সভাপতির দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই জেলায় নিজের সাংগঠনিক শক্তি প্রদর্শনে আরও সক্রিয় হয়েছেন তিনি।
এরই মধ্যে সামনে এসেছে ২১ জুলাই। দীর্ঘদিন ধরে এই দিনটি তৃণমূলের শহিদ দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। কিন্তু এবার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। তৃণমূলের দুই শিবিরই পৃথকভাবে ২১ জুলাই পালন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে কর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতি এবং জনসমাগম নিয়েই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা।
{{/usCountry}}এরই মধ্যে সামনে এসেছে ২১ জুলাই। দীর্ঘদিন ধরে এই দিনটি তৃণমূলের শহিদ দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। কিন্তু এবার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। তৃণমূলের দুই শিবিরই পৃথকভাবে ২১ জুলাই পালন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে কর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতি এবং জনসমাগম নিয়েই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা।
{{/usCountry}}ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির ইতিমধ্যেই সমাবেশের প্রস্তুতি শুরু করেছে। বিভিন্ন জেলার নেতৃত্ব, বিধায়ক, কাউন্সিলর এবং সংগঠনের দায়িত্বপ্রাপ্তদের উপর নির্দিষ্ট সংখ্যক কর্মী-সমর্থক আনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সেই দায়িত্ব পেয়েছেন অনুব্রত মণ্ডলও।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অনুব্রত বলেন, ‘একুশে জুলাই বীরভূম থেকে লোকজন যাবে। ১০০ বার যাবে। ২৫ থেকে ৩০ হাজার লোক যাবে।’ তাঁর এই বক্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। কারণ, বীরভূম দীর্ঘদিন ধরেই অনুব্রত মণ্ডলের রাজনৈতিক ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। সেই জেলা থেকে এত বিপুল সংখ্যক কর্মী নিয়ে যাওয়ার দাবি নিঃসন্দেহে ঋত শিবিরের শক্তি প্রদর্শনেরই ইঙ্গিত বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
তবে অনুব্রতের এই দাবি বাস্তবে কতটা সফল হয়, তা নজরে থাকবে রাজনৈতিক মহলের। কারণ, একই দিনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরও নিজেদের কর্মসূচিতে বিপুল জনসমাগমের লক্ষ্য নিয়েছে। ফলে ২১ জুলাই শুধু শহিদ স্মরণের দিনই নয়, রাজ্যের নতুন রাজনৈতিক সমীকরণে দুই তৃণমূল শিবিরের শক্তি পরীক্ষার মঞ্চেও পরিণত হতে চলেছে।