২১ জুলাইয়ের শহিদ দিবসের কর্মসূচিতে তৃণমূল কংগ্রেসের মঞ্চে দেখা গেল অস্বস্তিকর পরিস্থিতি। তারামণ্ডলের সামনে কালীঘাট তৃণমূলের সভামঞ্চে বক্তব্য রাখার সময় দলের শীর্ষস্থানীয় নেতা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভাষণ সংক্ষিপ্ত করার নির্দেশ দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু অভিযোগ, সেই নির্দেশ পাওয়ার পরও বক্তব্য চালিয়ে যান কল্যাণ। পরে কুণাল ঘোষ এগিয়ে গিয়ে তাঁকে থামানোর পরই বক্তব্য শেষ করেন তিনি। এরপর মঞ্চ থেকে নামতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়ে চেয়ারে না বসেই মঞ্চ ছেড়ে চলে যান কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।

এদিন মঞ্চে একের পর এক নেতা বক্তব্য রাখছিলেন। মমতা যখন সভাস্থলে এসে পৌঁছান, সেই সময় বক্তব্য রাখছিলেন লোকসভার সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। এর মধ্যেই সভাস্থলে পৌঁছন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি মঞ্চে উঠে উপস্থিত নেতাদের উদ্দেশে জানান, সময়ের কথা মাথায় রেখে বক্তব্য সংক্ষেপে শেষ করতে হবে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, মমতার এই নির্দেশের পরও বক্তব্য চালিয়ে যেতে থাকেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। পরিস্থিতি দেখে দলের নেতা কুণাল ঘোষ তাঁর কাছে গিয়ে বক্তব্য শেষ করার অনুরোধ করেন। এরপরই কল্যাণ তাঁর ভাষণ শেষ করেন। বক্তৃতা শেষ করে মঞ্চ থেকে নামতেই আরও একবার কল্যাণকে উদ্দেশ্য করে মন্তব্য করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি বলেন, 'কম করে বলবে। বেশি হয়ে গেছে।' এই মন্তব্যেই দৃশ্যত অসন্তুষ্ট হয়ে পড়েন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
জানা গিয়েছে, মমতার মন্তব্য শোনার পর তিনি আর মঞ্চে নিজের নির্ধারিত আসনে বসেননি। বরং সেখান থেকে সোজা মঞ্চ ছেড়ে বেরিয়ে যান। এই ঘটনার পর কিছু সময়ের জন্য মঞ্চে উপস্থিত নেতাদের মধ্যেও অস্বস্তির পরিবেশ তৈরি হয়।
তবে এই বিষয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বা তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি। ফলে ঘটনাটি নিছক সময় ব্যবস্থাপনা নিয়ে মতপার্থক্য, নাকি এর পিছনে অন্য কোনও রাজনৈতিক কারণ রয়েছে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে।
{{/usCountry}}তবে এই বিষয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বা তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি। ফলে ঘটনাটি নিছক সময় ব্যবস্থাপনা নিয়ে মতপার্থক্য, নাকি এর পিছনে অন্য কোনও রাজনৈতিক কারণ রয়েছে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে।
{{/usCountry}}উল্লেখ্য, ২১ জুলাইয়ের এবারের কর্মসূচি এমনিতেই ছিল ব্যতিক্রমী। রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর প্রথমবার বিরোধী দল হিসেবে শহিদ দিবস পালন করছে তৃণমূল কংগ্রেস। তাই কর্মসূচি ঘিরে রাজনৈতিক গুরুত্বও ছিল অনেক বেশি। সেই আবহেই মঞ্চে এই ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, প্রকাশ্য মঞ্চে এমন ঘটনা দলের অভ্যন্তরীণ সমন্বয় নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে। যদিও তৃণমূল নেতৃত্ব এখনও বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেনি। ফলে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই আচরণ এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল আরও বেড়েছে।
সব মিলিয়ে, শহিদ দিবসের কর্মসূচিতে রাজনৈতিক বার্তার পাশাপাশি মঞ্চের এই ঘটনাও দিনের অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে। এখন নজর, এই বিষয়ে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব বা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় পরবর্তী সময়ে কোনও ব্যাখ্যা দেন কি না।