২১ জুলাইয়ের কর্মসূচিকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে। একদিকে মেয়ো রোডে শহিদ তর্পণের আয়োজন করেছে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির। অন্যদিকে, আদালতের অনুমতি নিয়ে বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে নিজেদের সভার আয়োজন করেছে কালীঘাট তৃণমূল। তবে কর্মসূচি শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে থেকেই নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কালীঘাট তৃণমূলের অভিযোগ, তাদের সভার মঞ্চে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়েছে।

সোমবার সন্ধ্যায় সভাস্থল পরিদর্শনে যান প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে গিয়ে তিনি মঞ্চের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখেন এবং কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন। কিন্তু রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ হঠাৎ উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে আবার সভাস্থলে পৌঁছে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
এরপর সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও পোস্ট করে কালীঘাট তৃণমূলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, রাতের অন্ধকারে বিজেপির কর্মীরা বাইক নিয়ে এসে সভার মঞ্চে হামলা চালিয়েছে। দলের দাবি, এটি শুধু একটি মঞ্চ ভাঙচুরের ঘটনা নয়, বরং সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার এবং কর্মী-সমর্থকদের অনুভূতির উপর পরিকল্পিত আক্রমণ।
সভাস্থলে দাঁড়িয়ে বিজেপিকে সরাসরি নিশানা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি অভিযোগ করেন, বিভিন্ন জায়গায় তাঁদের মঞ্চ ভাঙার চেষ্টা হচ্ছে। তাঁর দাবি, বিদ্যুতের লাইন কেটে দেওয়া হয়েছে এবং পোস্টার-ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে। মমতার আরও অভিযোগ, প্রায় ৬০ থেকে ৬৫ জন বাইক আরোহী সেখানে এসেছিল এবং তাঁদের নেতৃত্বে ছিলেন এক ব্যক্তি, যিনি আদালতের নির্দেশে জামিনে বাইরে রয়েছেন। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, কর্মী-সমর্থকদের সভাস্থলে পৌঁছাতেও বাধা দেওয়া হচ্ছে।
এই ঘটনার বিষয়ে পুলিশকে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছে কালীঘাট তৃণমূল। যদিও ঘটনার বিষয়ে পুলিশের তরফে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তৃণমূল নেতা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বিজেপির কর্মীরা বিভিন্ন জায়গায় জড়ো হয়েছে বলে তাঁদের কাছে খবর রয়েছে। তাঁর দাবি, ভোর হওয়ার আগেই মঞ্চ ভেঙে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। তাই মঞ্চ রক্ষা করতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ দলের নেতারা রাতভর সভাস্থলেই ছিলেন।
{{/usCountry}}এই ঘটনার বিষয়ে পুলিশকে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছে কালীঘাট তৃণমূল। যদিও ঘটনার বিষয়ে পুলিশের তরফে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তৃণমূল নেতা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বিজেপির কর্মীরা বিভিন্ন জায়গায় জড়ো হয়েছে বলে তাঁদের কাছে খবর রয়েছে। তাঁর দাবি, ভোর হওয়ার আগেই মঞ্চ ভেঙে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। তাই মঞ্চ রক্ষা করতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ দলের নেতারা রাতভর সভাস্থলেই ছিলেন।
{{/usCountry}}দলের আরেক নেতা কুণাল ঘোষও ঘটনার তীব্র নিন্দা করেন। তিনি বলেন, আদালতের অনুমতি নিয়েই তাঁদের কর্মসূচি হচ্ছে। তবুও বারবার বাধা দেওয়া হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, কারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত, সে বিষয়ে তাঁদের কাছে নির্দিষ্ট তথ্য রয়েছে এবং তা প্রশাসনের নজরে আনা হয়েছে।
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘোষণামতো রাত থেকেই বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে অবস্থান করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, ডেরেক ও'ব্রায়েন, মহুয়া মৈত্র-সহ দলের একাধিক শীর্ষ নেতা। তাঁরা দফায় দফায় মঞ্চের নিরাপত্তার খোঁজ নেন। মঙ্গলবার সকালে সভাস্থলের সামনেই দলের একটি অভ্যন্তরীণ বৈঠকও করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরে তিনি সেখান থেকে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন। এদিকে, শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি জোরকদমে চলছে। সকাল থেকেই কর্মী-সমর্থকেরা সভাস্থলে আসতে শুরু করেছেন। এখন নজর ২১ জুলাইয়ের কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয় কি না, সেদিকেই।