কাজের খোঁজে বাংলাদেশ থেকে ভারতে এসেছিলেন বলে অভিযোগ। পরে তাঁরা ছড়িয়ে পড়েছিলেন বেঙ্গালুরুর বিভিন্ন এলাকায়। সম্প্রতি তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযান চালায় কর্ণাটক পুলিশ। সেই অভিযানে আটক হওয়া ৩১ জন বাংলাদেশিকে এবার পশ্চিমবঙ্গের মালদহে আনা হল।

মঙ্গলবার রাতে মালদহ টাউন স্টেশনে পৌঁছয় ওই ৩১ জনকে নিয়ে বিশেষ ট্রেন। নিরাপত্তার জন্য স্টেশনে আগে থেকেই মোতায়েন ছিল পুলিশ। কর্ণাটক পুলিশের ২০ সদস্যের একটি দল তাঁদের সঙ্গে ছিল। পরে রাতেই আটক ব্যক্তিদের মালদহ জেলা পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আপাতত তাঁদের একটি হোল্ডিং সেন্টারে রাখা হয়েছে। এরপর শুরু হবে তাঁদের দেশে ফেরানোর আইনি প্রক্রিয়া। মালদহের সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হতে পারে বলে জানা গিয়েছে।
কর্ণাটক পুলিশ গত ৯ অগস্ট ‘অপারেশন মুক্ত’ নামে বিশেষ অভিযান চালায়। বেঙ্গালুরুর হোয়াইটফিল্ড এবং ইলেকট্রনিক সিটি এলাকায় এই অভিযান হয়। সেখানে মোট ২ হাজার ৯৪৪ জনের পরিচয়পত্র ও প্রয়োজনীয় নথি যাচাই করা হয়।
তদন্তে ১০৫ জনকে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে দাবি। তাঁদের মধ্যে ৩১ জনকে আটক করা হয়। পরে তাঁদের বেঙ্গালুরু থেকে মালদহে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
পুলিশের দাবি, আটক ব্যক্তিদের কাছে ভারতে থাকার বৈধ নথি ছিল না। বিভিন্ন সময়ে তাঁরা সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন বলে অভিযোগ। ভারতে আসার পর বেঙ্গালুরুতে গিয়ে বিভিন্ন কাজেও যুক্ত হন তাঁরা। কেউ নির্মাণকাজে। কেউ অন্য ধরনের শ্রমিকের কাজ করছিলেন। এভাবে তাঁরা দীর্ঘদিন বেঙ্গালুরুর বিভিন্ন এলাকায় বসবাস করছিলেন বলে জানা গিয়েছে। এখন তাঁদের পরিচয় এবং ভারতে প্রবেশের পথ আরও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কোনও দালাল বা পাচারচক্র তাঁদের ভারতে ঢুকতে সাহায্য করেছিল কি না, সেটিও তদন্তের বিষয় হতে পারে।
{{/usCountry}}পুলিশের দাবি, আটক ব্যক্তিদের কাছে ভারতে থাকার বৈধ নথি ছিল না। বিভিন্ন সময়ে তাঁরা সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন বলে অভিযোগ। ভারতে আসার পর বেঙ্গালুরুতে গিয়ে বিভিন্ন কাজেও যুক্ত হন তাঁরা। কেউ নির্মাণকাজে। কেউ অন্য ধরনের শ্রমিকের কাজ করছিলেন। এভাবে তাঁরা দীর্ঘদিন বেঙ্গালুরুর বিভিন্ন এলাকায় বসবাস করছিলেন বলে জানা গিয়েছে। এখন তাঁদের পরিচয় এবং ভারতে প্রবেশের পথ আরও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কোনও দালাল বা পাচারচক্র তাঁদের ভারতে ঢুকতে সাহায্য করেছিল কি না, সেটিও তদন্তের বিষয় হতে পারে।
{{/usCountry}}বাংলাদেশি নাগরিকদের বেঙ্গালুরু থেকে মালদহে আনার ঘটনাকে ঘিরে ফের সামনে এসেছে অনুপ্রবেশের প্রশ্ন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আগেই অনুপ্রবেশ নিয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। কেন্দ্রের নীতিতে ‘জিরো টলারেন্স’-এর কথা বলা হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গেও অনুপ্রবেশ ঠেকাতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় হোল্ডিং সেন্টার তৈরি করা হয়েছে। সেখানে আটক অনুপ্রবেশকারীদের রাখা হচ্ছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর।
এর আগে বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি নাগরিককে সীমান্তের মাধ্যমে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এবার বেঙ্গালুরু থেকে ৩১ জনকে মালদহে আনা সেই প্রক্রিয়ারই অংশ বলে মনে করা হচ্ছে।
মালদহ সীমান্ত বাংলাদেশের খুব কাছাকাছি। তাই সীমান্ত পেরিয়ে কাউকে ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে এই জেলার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তবে প্রত্যাবাসনের আগে তাঁদের পরিচয় যাচাই, প্রয়োজনীয় নথিপত্র পরীক্ষা এবং আইনি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে হবে।
এই ঘটনায় আরও একটি বিষয় সামনে এসেছে। শুধু সীমান্তবর্তী রাজ্য নয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কাজের জন্য পৌঁছে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ অনুপ্রবেশকারীদের একাংশ। ফলে এক রাজ্যে ধরা পড়ার পর অন্য রাজ্যের সীমান্ত দিয়ে তাঁদের ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এখন নজর রয়েছে মালদহের হোল্ডিং সেন্টারে। ৩১ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত কীভাবে এগোয়, তাঁদের প্রকৃত পরিচয় কী এবং শেষ পর্যন্ত কবে তাঁদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়—সেদিকেই নজর প্রশাসনের।