ভারতে অবৈধভাবে বসবাসের অভিযোগে তামিলনাড়ু থেকে আটক ৫০ জন বাংলাদেশি নাগরিককে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। রবিবার ভোরে তামিলনাড়ু পুলিশের একটি দল তাঁদের ডাউন তিরুচিরাপল্লি-হাওড়া এক্সপ্রেসে করে হাওড়া স্টেশনে নিয়ে আসে। এরপর কড়া নিরাপত্তার মধ্যে দুটি বাসে করে উত্তর ২৪ পরগনার হরিদাসপুর সীমান্তের উদ্দেশে রওনা করানো হয়। সেখান থেকে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) মাধ্যমে তাঁদের বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেওয়ার কথা রয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আটক হওয়া ৫০ জনের মধ্যে ৪৪ জন পুরুষ এবং ৬ জন মহিলা রয়েছেন। প্রাথমিক তদন্তে দাবি করা হয়েছে, তাঁদের কারও কাছেই ভারতে থাকার বৈধ নথি ছিল না। অভিযোগ, তাঁদের অধিকাংশই দালালদের সাহায্যে সীমান্তের কাঁটাতার পেরিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন। পরে কাজের সন্ধানে তামিলনাড়ুর বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে ভুয়ো পরিচয়ে দীর্ঘদিন বসবাস ও কাজ করছিলেন।
তামিলনাড়ু পুলিশের অভিযানে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকা থেকে তাঁদের আটক করা হয়। এরপর সালেম জেলার আট্টুর মহকুমা কমপ্লেক্সের বিশেষ শিবিরে রাখা হয়েছিল। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর তাঁদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর নির্দেশ জারি হয়। সেই অনুযায়ী গত ৩ জুলাই কড়া নিরাপত্তার মধ্যে বিশেষ পুলিশ ভ্যানে করে তাঁদের তিরুচিরাপল্লি স্টেশনে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে ট্রেনে করে হাওড়ায় আনা হয়।
রবিবার সকালে হাওড়া স্টেশনে ছিল নজিরবিহীন নিরাপত্তা। আগে থেকেই মোতায়েন ছিল বিপুল সংখ্যক পুলিশ বাহিনী। প্রস্তুত রাখা হয়েছিল বিশেষ বাস। ট্রেন স্টেশনে পৌঁছতেই একে একে আটক ব্যক্তিদের নিরাপত্তার বলয়ের মধ্যে বাসে তোলা হয়। সেই সময় সাধারণ মানুষ বা সংবাদমাধ্যমের কাউকেই তাঁদের কাছে যেতে দেওয়া হয়নি।
পুলিশ সূত্রে খবর, হরিদাসপুর সীমান্তে পৌঁছানোর পর তামিলনাড়ু পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে আটক ব্যক্তিদের বিএসএফের হাতে তুলে দেবে। এরপর নির্ধারিত কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বিএসএফ তাঁদের বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করবে। প্রশাসনের দাবি, অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধ এবং বৈধ নথি ছাড়া ভারতে বসবাসকারীদের চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে কেন্দ্র ও বিভিন্ন রাজ্যের মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করা হয়েছে। সেই নীতির অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
{{/usCountry}}পুলিশ সূত্রে খবর, হরিদাসপুর সীমান্তে পৌঁছানোর পর তামিলনাড়ু পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে আটক ব্যক্তিদের বিএসএফের হাতে তুলে দেবে। এরপর নির্ধারিত কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বিএসএফ তাঁদের বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করবে। প্রশাসনের দাবি, অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধ এবং বৈধ নথি ছাড়া ভারতে বসবাসকারীদের চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে কেন্দ্র ও বিভিন্ন রাজ্যের মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করা হয়েছে। সেই নীতির অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
{{/usCountry}}প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিক সময়ে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে ধৃত বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা নাগরিকদের জন্য বিভিন্ন জেলায় বিশেষ 'হোল্ডিং সেন্টার' তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেখানে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের রাখা হচ্ছে। এরপর আদালত ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক নির্দেশ মেনে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তবে কোনও ব্যক্তিকে বাংলাদেশি নাগরিক বা অবৈধ অনুপ্রবেশকারী হিসেবে চূড়ান্তভাবে চিহ্নিত করা এবং তাঁকে ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী পরিচয় যাচাই, প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এবং দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বয় অপরিহার্য বলে প্রশাসনিক মহল মনে করছে।