Doctor Protests: দিন কয়েক আগেই পূর্ব বর্ধমানে চার বছরের শিশু অরণ্য রায়ের মৃত্যুতে শোরগোল পড়ে গিয়েছিল। অভিযোগ, নার্সিংহোমে ‘ভুয়ো’ চিকিৎসকের চিকিৎসার জেরে প্রাণ গিয়েছে ওই শিশুর। সেই শিশুর বাবা জয়ন্ত রায় এবং মা শিল্পী রায়ও মঙ্গলবার যোগ দিলেন সল্টলেকে ওয়েস্ট বেঙ্গল মেডিক্যাল কাউন্সিলের দফতরের সামনে বিজেপিপন্থী চিকিৎসকদের বিক্ষোভে।

‘ভুয়ো’ চিকিৎসক নিয়োগের অভিযোগের ঘটনায় ওয়েস্ট বেঙ্গল মেডিক্যাল কাউন্সিলের সল্টলেকের দফতরের সামনে এদিন বিক্ষোভ করেছেন বিজেপি মনোভাবাপন্ন চিকিৎসকদের একাংশ। সরকারি এবং বেসরকারি দুই ক্ষেত্রের চিকিৎসকেরাই বিক্ষোভে শামিল হন। তাঁদের দাবি, রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিলের সভাপতি সুদীপ্ত রায়, সহ-সভাপতি সুশান্ত রায়কে পদত্যাগ করতে হবে। সন্তানের মৃত্যুর সুবিচারের দাবিতে মন্তেশ্বর থেকে কলকাতায় এই চিকিৎসকদের বিক্ষোভে যোগ দেন অরণ্য রায়ের বাবা-মা। শিশুর বাবা জয়ন্ত রায় বলেন, ‘২৭ দিনে মাত্র তিন জন (আনিসুর মণ্ডল, সুরজ আহমেদ, কৌশিক দত্ত) গ্রেফতার হয়েছেন। চিকিৎসক-সহ আরও পাঁচ-ছ’জন অভিযুক্ত অধরা।’ মায়ের বক্তব্য, ‘আমার ছেলে ফিরবে না। কিন্তু আর যাতে কারও কোল খালি না হয়, তাই চিকিৎসকদের বিক্ষোভে এসেছি।’ বিক্ষোভস্থল থেকে সরাসরি বিধাননগর দক্ষিণ থানাতে গিয়েও দ্রুত তদন্তের আর্জি জানান সন্তানহারা বাবা-মা। এই প্রসঙ্গে বিজেপির সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি মধুছন্দা কর জানিয়েছেন, ওই সন্তানহারা দম্পতি অবশ্যই বিচার পাবেন। বিচার যাতে বিলম্বিত না হয়, তাই এই বিক্ষোভ হচ্ছে।
গত ২ সেপ্টেম্বর, পূর্ব বর্ধমানের নবাবহাটের নার্সিংহোমে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় শিশু অরণ্য রায়ের। পরিবারের অভিযোগ ছিল, চিকিৎসায় চরম গাফিলতিই এই মর্মান্তিক পরিণতির কারণ। মৃত শিশুর মা শিল্পা রায় অভিযুক্ত চিকিৎসক সাইদুল হক-সহ কয়েকজন চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে বর্ধমান থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। সেই নার্সিংহোমে অরণ্যের ফাইমোসিসের চিকিৎসা করেছিলেন সাইদুল হক, যাঁর রেজিস্ট্রেশন ইতিমধ্যে বাতিল করা হয়েছে।
{{/usCountry}}গত ২ সেপ্টেম্বর, পূর্ব বর্ধমানের নবাবহাটের নার্সিংহোমে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় শিশু অরণ্য রায়ের। পরিবারের অভিযোগ ছিল, চিকিৎসায় চরম গাফিলতিই এই মর্মান্তিক পরিণতির কারণ। মৃত শিশুর মা শিল্পা রায় অভিযুক্ত চিকিৎসক সাইদুল হক-সহ কয়েকজন চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে বর্ধমান থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। সেই নার্সিংহোমে অরণ্যের ফাইমোসিসের চিকিৎসা করেছিলেন সাইদুল হক, যাঁর রেজিস্ট্রেশন ইতিমধ্যে বাতিল করা হয়েছে।
{{/usCountry}}অন্যদিকে, এখন পর্যন্ত পাঁচ জন ‘ভুয়ো’ চিকিৎসকের নামে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। সেই পাঁচজন ‘ভুয়ো’ চিকিৎসকদের মধ্যে দু’জনের আবার রেজিস্ট্রেশন নম্বর একই। সম্প্রতি শেখ ইউনুস হাসান, উত্তম মাইতি, হাফিজুর হালদার, জুলফিকার মণ্ডল, সাইদুল হক নামে পাঁচ জন চিকিৎসকের রেজিস্ট্রেশন বাতিল হয়েছে বলে সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে জানিয়েছে রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিল। সেই বিজ্ঞপ্তিতে দেখা যায়, জুলফিকার, সাইদুলের রেজিস্ট্রেশন নম্বর এক— ৩৬৪৪২। স্বাস্থ্যভবন সূত্রের খবর, পরিস্থিতি এমনই যে ২০১০ সাল থেকে ভিন্রাজ্যের মেডিক্যাল কাউন্সিলের রেজিস্ট্রেশনের ভিত্তিতে যাঁরা এ রাজ্যের মেডিক্যাল কাউন্সিলে নাম নথিভুক্ত করিয়েছেন, তাঁদের নথি ফের যাচাই করা হচ্ছে। রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিল সূত্রের খবর, সংখ্যাটা অন্তত ছ’হাজার।