জোরপূর্বক বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় নাবালিকাকে অপহরণ করার অভিযোগে শোরগোল পড়ে গিয়েছে হাওড়ায়। আর এই ঘটনায় পুলিশের ‘নিষ্ক্রিয়তা’ এবং স্থানীয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে বারবার সাহায্যের আবেদন জানানো সত্ত্বেও কোনও পদক্ষেপ না নেওয়ার অভিযোগ তুলেছে ওই ছাত্রীর পরিবার।

হাওড়ার বাসিন্দা ১৭ বছর বয়সি নাবালিকার মা গুলশন বেগমের অভিযোগ, একাদশ শ্রেণীর ছাত্রীকে রাজা এবং ডাকুয়া নামে দুই ব্যক্তি অপহরণ করে নিয়ে গিয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, তাদের মেয়ের উপর জোরপূর্বক বিয়ের জন্য ক্রমাগত চাপ দেওয়া হচ্ছিল। কিন্তু তাঁরা বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন, কারণ ওই ছাত্রী আইনত নাবালিকা এবং পাত্রকে তাঁদের উপযুক্ত বলে মনে হয়নি। সংবাদমাধ্যম মকতুবকে গুলশন বেগম বলেন, 'সুলতানপুরের বাসিন্দা ওই যুবক এবং তার কাকা আমাদের সরাসরি হুমকি দেয়, 'যদি আপনারা বিয়েতে রাজি না হন, তাহলে আমরা মেয়েকে তুলে নিয়ে যাব।' তিনি আরও বলেন, 'আমরা বিয়ের প্রস্তাবে না বলেছিলাম কারণ, ওর বয়স মাত্র ১৭ বছর এবং এখনও পড়াশোনা করছে। ও পড়াশোনা করতে চায়। এছাড়াও ওই ছেলেটিকে পছন্দ করে না ও।'
পরিবারের দাবি, হুমকির দেওয়ার পর ওই নাবালিকাকে অপহরণ করা হয়। গুলশন বেগম বলেন, তাঁর মেয়েকে জোরপূর্বক আটকে রাখা হয়েছে। কাঁদতে কাঁদতে তিনি বলেন, 'আমার মেয়েকে জোর করে তুলে নিয়ে গিয়েছে। ও তো বাচ্চা। সেই দিনের পর থেকে আমরা তাকে আর দেখিনি।' ওই নাবালিকার পরিবার জানিয়েছে, ইতিমধ্যে তারা স্থানীয় থানায় যোগাযোগ করেছে এবং ২২ জানুয়ারি একটি এফআইআর দায়ের করেছে। সেখানে হুমকি, জোরপূর্বক বিয়ের চেষ্টা এবং অপহরণের অভিযোগের বিস্তারিত বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। তবে, তারা দাবি করেছে যে পুলিশের তরফে কোনও সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। গুলশন বেগম বলেন, 'দুই দিন কেটে গেছে। আমরা এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ছুটছি। আমরা গরীব মানুষ। আমরা আমাদের সন্তানের জন্য দিনরাত কাঁদছি, কিন্তু প্রশাসন চুপ করে বসে রয়েছে।' তিনি আরও অভিযোগ করেছেন, এফআইআর দায়ের হওয়ার পরেও, অভিযুক্ত এবং তাদের সহযোগীরা অভিযোগ প্রত্যাহারের জন্য তাঁদেরকে চাপ দিচ্ছে। তাঁর কথায়, 'ওরা আবার আমাদের হুমকি দিচ্ছে, মামলাটি তুলে নিতে বলছে। আমরা ভয়ে রয়েছি, কিন্তু একজন মা কীভাবে চুপ করে থাকতে পারে যখন তার মেয়ে নিখোঁজ?'
এই ঘটনায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় হাওড়ার জগাছা থানায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। জগাছা থানার এক পুলিশ আধিকারিক বলেন, 'ওই নাবালিকা এবং ছেলেটি দুজনেই নিখোঁজ রয়েছে।' তাঁর কথায়, 'আমরা ছেলেটির মোবাইল নম্বর ট্র্যাক করার চেষ্টা করছি, কিন্তু তা এখনও বন্ধ। কোনও সূত্র পাওয়া মাত্রই আমরা তাকে গ্রেফতার করব এবং আরও তদন্ত শুরু করব।'
{{/usCountry}}এই ঘটনায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় হাওড়ার জগাছা থানায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। জগাছা থানার এক পুলিশ আধিকারিক বলেন, 'ওই নাবালিকা এবং ছেলেটি দুজনেই নিখোঁজ রয়েছে।' তাঁর কথায়, 'আমরা ছেলেটির মোবাইল নম্বর ট্র্যাক করার চেষ্টা করছি, কিন্তু তা এখনও বন্ধ। কোনও সূত্র পাওয়া মাত্রই আমরা তাকে গ্রেফতার করব এবং আরও তদন্ত শুরু করব।'
{{/usCountry}}