...
...
Next Story

Abhaya Diwas:অভয়াকে স্মরণে রাজ্যজুড়ে ‘অভয়া দিবস’, আসানসোলে নিজের লেখা কবিতা পাঠ অগ্নিমিত্রার

অভয়াকে স্মরণ করে অনুষ্ঠানে নিজের লেখা একটি কবিতাও পাঠ করেন অগ্নিমিত্রা পাল। তরুণী চিকিৎসকের মৃত্যুর পর তাঁর পরিবারের পাশে থাকার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ঘটনার খবর পাওয়ার পরই তিনি সেখানে পৌঁছে গিয়েছিলেন।

Published on: Aug 9, 2026, 13:20:54 IST
Advertisement

আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার দু’বছর পূর্ণ। সেই নারকীয় ঘটনার স্মরণে আজ, রবিবার রাজ্যজুড়ে পালিত হচ্ছে ‘অভয়া দিবস’। রাজ্যের সমস্ত সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সকাল ১১টায় দু’মিনিট নীরবতা পালন এবং প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে অভয়াকে স্মরণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন জায়গায় আয়োজন করা হয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও।

অভয়াকে স্মরণ করে অনুষ্ঠানে নিজের লেখা একটি কবিতাও পাঠ করেন অগ্নিমিত্রা পাল।
অভয়াকে স্মরণ করে অনুষ্ঠানে নিজের লেখা একটি কবিতাও পাঠ করেন অগ্নিমিত্রা পাল।

আসানসোল জেলা হাসপাতালেও এদিন বিশেষ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। হাসপাতালের কনফারেন্স হলে চিকিৎসক, নার্স এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের উপস্থিতিতে অভয়ার স্মরণে দু’মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, পশ্চিম বর্ধমানের মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডা. শেখ মহম্মদ ইউনুস এবং জেলা হাসপাতালের সুপারিন্টেন্ডেন্ট-সহ স্বাস্থ্য দফতরের আধিকারিকরা।

অভয়াকে স্মরণ করে অনুষ্ঠানে নিজের লেখা একটি কবিতাও পাঠ করেন অগ্নিমিত্রা পাল। তরুণী চিকিৎসকের মৃত্যুর পর তাঁর পরিবারের পাশে থাকার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ঘটনার খবর পাওয়ার পরই তিনি সেখানে পৌঁছে গিয়েছিলেন। অন্যান্য বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গেও তিনি অভয়ার বাবা-মায়ের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন বলে জানান অগ্নিমিত্রা।

এদিনের অনুষ্ঠানে চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তার বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব পায়। অগ্নিমিত্রা বলেন, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত প্রতিটি স্তরের কর্মী ও চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। ভবিষ্যতে যাতে কোনও চিকিৎসক বা স্বাস্থ্যকর্মীর সঙ্গে এই ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়, সে বিষয়ে সকলকে সতর্ক এবং সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।

রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর ফের নতুন করে আর জি কর কাণ্ডের তদন্তের বিষয়টি সামনে এসেছে। রাজ্য সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্য নতুন করে খতিয়ে দেখা হবে। ঘটনার রাতে হাসপাতালে কারা উপস্থিত ছিলেন, কারা তরুণী চিকিৎসকের সঙ্গে ডিউটিতে ছিলেন এবং কারা তাঁর সঙ্গে ছিলেন—সেই তথ্যও তদন্তের আওতায় আনা হচ্ছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. শারদ্বত মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ঘটনার পর যাঁরা আর জি কর হাসপাতালে এসেছিলেন এবং সিসিটিভি ফুটেজে যাঁদের দেখা গিয়েছিল, তাঁদের তলব করা হবে। তদন্ত থেকে যে তথ্য উঠে আসবে, তার নির্যাস রাজ্য সরকারের হাতে তুলে দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। ফলে দু’বছর পর ফের তদন্তের গতিপ্রকৃতি নিয়ে নতুন করে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

এদিকে, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে রাজ্যের সমস্ত সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আজ ‘অভয়া দিবস’ পালন করা হচ্ছে। সকাল ১১টায় একযোগে দু’মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। অভয়ার স্মৃতিতে প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের পাশাপাশি বিভিন্ন স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে ছোট সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়েছে।

অভয়ার মা তথা বিজেপি বিধায়ক রত্না দেবনাথও নিজের বিধানসভা কেন্দ্রে বিশেষ স্মরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছেন। বিকেলে সেই অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রীর উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

দু’বছর পরেও আর জি কর কাণ্ডের স্মৃতি এবং তার তদন্ত ঘিরে মানুষের মনে একাধিক প্রশ্ন রয়েছে। ‘অভয়া দিবস’-এর কর্মসূচির মধ্য দিয়ে একদিকে যেমন মৃতা চিকিৎসককে শ্রদ্ধা জানানো হচ্ছে, অন্যদিকে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবিও ফের সামনে এসেছে। এখন নতুন তদন্তে সেই অমীমাংসিত প্রশ্নগুলির কতটা উত্তর পাওয়া যায়, সেদিকেই নজর রাজ্যের।

 
ABOUT THE AUTHOR
Abhijit Chowdhury

২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe