'বাঙালি কী, জ্ঞানেশ কুমারকে গিয়ে বুঝিয়ে দিয়ে এসেছি। এরপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যাবেন।'এসআইআর-র আবহে বাংলার ‘দম’ নিয়ে ফের মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়লেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সম্প্রতি দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের দফতরে গিয়েছিলেন তিনি। এরপরেই বারুইপুরের সভামঞ্চ থেকেই কমিশনের বিরুদ্ধে তীব্র সুর চড়ালেন অভিষেক।
মৃত ভোটার?

শুক্রবার বারুইপুরে সাগর সংঘ মাঠের জনসভায় হাজির হন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। গোটা র্যাম্প হেঁটে জনতার মাঝে আসেন তৃণমূলের ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড।' মঞ্চে হাঁটু গেড়ে বসে মাথা নত করে জনতাকে প্রণাম করেন তিনি। এরপর ভাষণের মাঝপথেই ব়্যাম্পের দিকে ইঙ্গিত করে অভিষেক বলেন, 'অনেকে ভাবছেন, এই ব়্যাম্পটা কেন করা হয়েছে। আজ এই ব়্যাম্পে আমি তিন জন ‘ভূত’কে হাঁটাব। কমিশন যাঁদের মৃত বলেছে, তাঁরা আজ এখানে দাঁড়িয়ে প্রত্যক্ষ।' তারপরই মঞ্চে উঠে আসেন মনিরুল ইসলাম মোল্লা, হরেকৃষ্ণ গিরি ও মায়া দাস। তাঁদের দিকে ইঙ্গিত করে জনতার উদ্দেশে তৃণমূল নেতার প্রশ্ন, 'দেখতে কী মৃত মনে হচ্ছে? এঁরা বেঁচে আছেন, আপনারা দেখছেন। কিন্তু কমিশন নাকি দেখতে পাচ্ছে না। দু’জনের বাড়ি মেটিয়াবুরুজ, একজনের কাকদ্বীপ। এভাবে জ্যান্ত লোকেদের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে ভোটার তালিকা থেকে, তাই এই ব়্যাম্প ‘মৃতদের’ হাঁটতে দেখানোর জন্যই।'
দিল্লিতে মুখ্যমন্ত্রী
এরপরই কেন্দ্র ও কমিশনকে এক বন্ধনীতে রেখে অভিষেকের সাফ বার্তা, 'আমরা একজনের নামও কাটতে দেব না। আগামী দিনে তৃণমূল দিল্লিতে যাবে। ভ্যানিশ কুমাররা তৈরি থাকুন-জ্ঞানেশ কুমার, অমিত শাহ, সবাই ভোটের জলোচ্ছ্বাসে ভেসে যাবেন।' পাশাপাশি এসআইআরের আতঙ্কে গত কয়েক সপ্তাহে রাজ্যের নানা প্রান্ত থেকে যে সমস্ত ভোটার এবং বিএলও-র মৃত্যুর খবর এসেছে, তাঁদের পরিবারকে সমবেদনা জানিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সম্প্রতি দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে তাঁর বাদানুবাদের কথা আগেই জানা গিয়েছিল। বারুইপুরের মঞ্চ থেকে সে কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তৃণমূল সাংসদ বলেন, ‘আমার সঙ্গে আঙুল তুলে কথা বলছিলেন জ্ঞানেশ কুমার। আমি বলেছি, আপনি মনোনীত, আমি নির্বাচিত। বাঙালি কী, দিল্লিতে গিয়ে বুঝিয়ে দিয়ে এসেছি। এরপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যাবেন।’
বাংলার ভোট
{{/usCountry}}এরপরই কেন্দ্র ও কমিশনকে এক বন্ধনীতে রেখে অভিষেকের সাফ বার্তা, 'আমরা একজনের নামও কাটতে দেব না। আগামী দিনে তৃণমূল দিল্লিতে যাবে। ভ্যানিশ কুমাররা তৈরি থাকুন-জ্ঞানেশ কুমার, অমিত শাহ, সবাই ভোটের জলোচ্ছ্বাসে ভেসে যাবেন।' পাশাপাশি এসআইআরের আতঙ্কে গত কয়েক সপ্তাহে রাজ্যের নানা প্রান্ত থেকে যে সমস্ত ভোটার এবং বিএলও-র মৃত্যুর খবর এসেছে, তাঁদের পরিবারকে সমবেদনা জানিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সম্প্রতি দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে তাঁর বাদানুবাদের কথা আগেই জানা গিয়েছিল। বারুইপুরের মঞ্চ থেকে সে কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তৃণমূল সাংসদ বলেন, ‘আমার সঙ্গে আঙুল তুলে কথা বলছিলেন জ্ঞানেশ কুমার। আমি বলেছি, আপনি মনোনীত, আমি নির্বাচিত। বাঙালি কী, দিল্লিতে গিয়ে বুঝিয়ে দিয়ে এসেছি। এরপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যাবেন।’
বাংলার ভোট
{{/usCountry}}আগামী ১৯ দিনে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় ২৬টি সভা করার পরিকল্পনার কথা জানান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর মন্তব্য, 'যতই করো হামলা, আবার জিতবে বাংলা-আজ তারই শুভসূচনা করলাম।' তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি দক্ষিণ ২৪ পরগণা। তবু কেন এখান থেকেই সূচনা? তার জবাবে অভিষেক বলেন, 'শুভ কাজে বেরোতে গেলে বাবা-মায়ের আশীর্বাদ নিতে হয়। কালীঘাট আমার জন্মভূমি, দক্ষিণ ২৪ পরগণা আমার কর্মভূমি। এই মাটিতে যেন আমার মৃত্যু হয়। বাম আমলে এখান থেকেই পালাবদলের শুরু হয়েছিল। তাই এখান থেকেই ছাব্বিশের প্রচার শুরু করলাম।' কর্মীদের উদ্দেশে অভিষেক বলেন, এটা শুধু একটা নির্বাচন নয়, এটা মানুষের মরণ বাঁচন লড়াই। তাঁর কথায়, 'তৃণমূল জিতলে দু'মুঠো ভাত, আর বিজেপি থাকলে ধর্মে ধর্মে আঘাত।' বারুইপুর থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘আমি কথা দিয়েছি, ২০২১-এর চেয়ে তৃণমূলের ভোট ২০২৬-এ বাড়বে। একটা হলেও আসন বাড়বে। আপনারা কথা দিন, সেই একটা আসন যেন এই জেলা থেকে হয়। ভাঙড়ও এবার আমাদের জিততে হবে। যত পরিশ্রম দরকার, করতে হবে। সঙ্ঘবদ্ধ ভাবে লড়তে হবে। আপনারা যেখানে বলবেন, আমি যাব।’
বাঙালি হেনস্থা ও চাকরির তোপ
মহারাষ্ট্রে গিয়ে বাংলায় কথা বলার অপরাধে গ্রেফতারির অভিযোগ উঠেছে। হেনস্থার শিকার হয়েছেন বালুরঘাটের বাসিন্দা বিজেপির বুথ সভাপতি। তা সত্ত্বেও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার একটা ফোন করে সাহায্য করেননি, অভিযোগ করেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল লড়াই করে বিজেপির সেই বুথ সভাপতিকে বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘নিজেদের বুথ সভাপতিকে যে বিজেপি রক্ষা করতে পারে না, তারা বাংলার মানুষকে কী ভাবে রক্ষা করবে? এরা শুধু কাড়তে জানে, দিতে জানে না।’ ২০১৪ সালে দেশের ক্ষমতায় বসার সময় বিজেপির স্লোগান ছিল বছরে ২ কোটি চাকরি। এদিন সেই প্রসঙ্গ টেনে অভিষেক বলেন, 'বছরে ২ কোটি চাকরি দেবে বলেছিল, ১১ বছরে কত চাকরি হয়? বাংলার কথা ছেড়ে দিলাম, গুজরাট বা উত্তরপ্রদেশে যদি দেখাতে পারে এক একটা বিধানসভায় অন্তত ৫ হাজার চাকরি দিয়েছে, তাহলে রাজনীতির আঙিনায় পা রাখব না।'
বাংলাদেশ ও প্যাটিস-কাণ্ড
এদিনের সভা থেকে বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতন প্রসঙ্গ তুলে বিজেপিকে তোপ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যের একটি অংশ শোনান তিনি। যাতে শুভেন্দুকে বলতে শোনা যাচ্ছে, 'এর চেয়ে বাংলাদেশে ইউনুস সরকার ভালো।' এই মন্তব্যের তীব্র নিন্দা করে অভিষেক বলেন, 'বাংলাদেশে নৃশংস ভাবে দীপু দাসকে মারা হয়েছে। বিজেপির নেতা বলছেন, পশ্চিমবঙ্গের চেয়ে সেখানে ভাল ভাবে সরকার চলছে। এরা নিজেদের হিন্দুদের রক্ষাকর্তা বলে।'
অন্যদিকে, ব্রিগেডে চিকেন প্যাটিস বিতর্ক নিয়েও বারুইপুরে সরব হয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘গীতাপাঠের অনুষ্ঠানে চিকেন প্যাটিস বিক্রির জন্য যারা হামলা চালিয়েছে, তাহলে কিছু বলার নেই। গীতায় শ্রীকৃষ্ণ স্বয়ং বলেছেন, কুকুর-মানুষ সকলের মধ্যে আমি বিরাজমান। এর জবাব বাংলা দেবে। কে কী খাবে, কী বিক্রি করবে, কী পরবে, সেটা কী বিজেপির দালালরা ঠিক করবে? আমাদের সংস্কৃতিকে ওরা বাংলাদেশি বলে দাগিয়ে দেয়। যতদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আছে, বাংলার মানুষের দিকে চোখ তুলে তাকালে জবাব পাবে। ২০২৬-এও ব্যতিক্রম হবে না।’