তদন্তকারী সংস্থার জেরার মুখে টানা তৃতীয় দিন। নিয়োগ দুর্নীতি মামলা থেকে বিধানসভায় সই জালিয়াতির অভিযোগ— একের পর এক তদন্তের আবহে এবার নির্বাচনী প্রচারে করা ‘ডিজে বাজানো’ মন্তব্যের জেরে সিআইডির মুখোমুখি হলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

মঙ্গলবার সিআইডির তলবে সাড়া দিয়ে বেলা প্রায় ১১টা ৪৫ মিনিট নাগাদ কালীঘাটের বাসভবন থেকে ভবানীভবনের উদ্দেশে রওনা দেন অভিষেক। তাঁর সঙ্গে ছিলেন আইনজীবীও। নির্ধারিত সময়ের ঠিক আগে, দুপুর ১২টার দু’মিনিট আগেই তিনি সিআইডি দপ্তরে পৌঁছন। তাঁকে ঘিরে ভবানীভবন চত্বরে ছিল কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে মোতায়েন করা হয়েছিল বিপুল সংখ্যক পুলিশকর্মী।
তদন্তকারী সূত্রে খবর, নির্বাচনী প্রচারের সময় বিজেপিকে উদ্দেশ্য করে করা একাধিক মন্তব্যের মধ্যে ‘ডিজে বাজানো’ মন্তব্যটিকেই বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ, ওই মন্তব্যে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হুমকি দেওয়ার ইঙ্গিত ছিল। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই প্রথমে বিধাননগর সাইবার থানায় মামলা দায়ের হয়। পরে তদন্তভার হস্তান্তর করা হয় সিআইডির হাতে।
জানা গিয়েছে, মঙ্গলবারের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আগে থেকেই একাধিক প্রশ্ন তৈরি করেছিলেন তদন্তকারীরা। কয়েকজন আধিকারিক মিলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করতে পারেন বলে সূত্রের খবর। তাঁর বয়ানও রেকর্ড করা হতে পারে।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রচার চলাকালীন এক জনসভা থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, ৪ মে-র পর তৃণমূল আবার ক্ষমতায় ফিরবে এবং তখন বিজেপি নেতাদের বাড়ির সামনে ডিজে বাজানো হবে। তাঁর কথায়, “কান ঝালাপালা হয়ে যাবে।” বিরোধীদের অভিযোগ, এই মন্তব্য নিছক রাজনৈতিক রসিকতা ছিল না, বরং এতে পরোক্ষ হুমকির সুর ছিল। সেই অভিযোগকেই ভিত্তি করে তদন্ত শুরু হয়েছে।
{{/usCountry}}উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রচার চলাকালীন এক জনসভা থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, ৪ মে-র পর তৃণমূল আবার ক্ষমতায় ফিরবে এবং তখন বিজেপি নেতাদের বাড়ির সামনে ডিজে বাজানো হবে। তাঁর কথায়, “কান ঝালাপালা হয়ে যাবে।” বিরোধীদের অভিযোগ, এই মন্তব্য নিছক রাজনৈতিক রসিকতা ছিল না, বরং এতে পরোক্ষ হুমকির সুর ছিল। সেই অভিযোগকেই ভিত্তি করে তদন্ত শুরু হয়েছে।
{{/usCountry}}প্রসঙ্গত, এর আগের দিনই নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-র জেরার মুখে পড়েছিলেন অভিষেক। তারও আগে বিধানসভায় সই জাল সংক্রান্ত মামলায় তাঁকে সিআইডির সামনে হাজিরা দিতে হয়েছিল। ফলে টানা তিন দিন ধরে তিনটি পৃথক মামলায় তদন্তকারী সংস্থার প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হল তৃণমূলের শীর্ষ নেতাকে। এই পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা আরও তীব্র হয়েছে। তদন্তের অগ্রগতি এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জিজ্ঞাসাবাদ থেকে কী তথ্য সামনে আসে, এখন সেদিকেই নজর রাজ্যের রাজনৈতিক মহলের।