তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনি জটিলতা আরও বাড়ল। এবার তাঁর একটি বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের সাইবার ক্রাইম থানায় নতুন করে অভিযোগ দায়ের হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, অভিষেকের বক্তব্যে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এবং ভবিষ্যতে প্রতিশোধ নেওয়ার ইঙ্গিত রয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে বলে জানা গিয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত সম্প্রতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমতলার কার্যালয়ে প্রশাসনের বুলডোজার অভিযানকে কেন্দ্র করে। বেআইনি নির্মাণের অভিযোগে ওই কার্যালয়ের একটি অংশে ভাঙার কাজ চালানো হয়। সেই ঘটনার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অভিষেক দাবি করেন, তাঁর কার্যালয়ের সমস্ত বৈধ নথি, বিল্ডিং প্ল্যান এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন রয়েছে। তা সত্ত্বেও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রশাসন এই পদক্ষেপ করেছে বলে অভিযোগ তোলেন তিনি।
সাংবাদিক বৈঠকে ক্ষোভ প্রকাশ করতে গিয়ে অভিষেক বলেন, 'এই বিল্ডিংয়ের প্ল্যান-সহ যা বৈধ নথি প্রয়োজন সব রয়েছে। তা সত্ত্বেও স্রেফ ক্ষমতা দেখাতে অনেক কিছু করা হচ্ছে। তবে মনে রাখবেন, সব ক্রিয়ার প্রতিক্রিয়া রয়েছে।' এরপর আরও একধাপ এগিয়ে তিনি মন্তব্য করেন, 'বেঁচে থাকলে ২০৩১ সালে সুদ-সহ সব ফিরিয়ে দেব।'
এই মন্তব্য ঘিরেই নতুন বিতর্কের সূত্রপাত। রাজীব সরকার নামে এক যুবক বিধাননগর কমিশনারেটের সাইবার ক্রাইম বিভাগে অভিযোগ দায়ের করেছেন। তাঁর দাবি, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য রাজনৈতিক প্রতিহিংসার হুমকি এবং ভবিষ্যতে ক্ষমতায় ফিরে প্রতিশোধ নেওয়ার ইঙ্গিত বহন করে। অভিযোগের সঙ্গে ওই বক্তব্যের ভিডিওও জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সেই ভিডিও খতিয়ে দেখে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রের খবর, অভিযোগে একাধিক আইনি ধারা প্রয়োগের আবেদন জানানো হয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে কোন কোন ধারায় মামলা রুজু হয়েছে, সে বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। ভিডিওটির সত্যতা, বক্তব্যের প্রেক্ষাপট এবং অভিযোগের আইনি ভিত্তি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
{{/usCountry}}পুলিশ সূত্রের খবর, অভিযোগে একাধিক আইনি ধারা প্রয়োগের আবেদন জানানো হয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে কোন কোন ধারায় মামলা রুজু হয়েছে, সে বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। ভিডিওটির সত্যতা, বক্তব্যের প্রেক্ষাপট এবং অভিযোগের আইনি ভিত্তি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
{{/usCountry}}উল্লেখ্য, রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই একাধিক মামলায় নাম জড়িয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। নিয়োগ দুর্নীতি, কয়লা ও বালি পাচার সংক্রান্ত তদন্তের পাশাপাশি সেবাশ্রয় প্রকল্পে অনিয়ম, সই জালিয়াতি, বিতর্কিত মন্তব্য-সহ বিভিন্ন অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন মামলায় তাঁকে সিআইডি এবং রাজ্য পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হয়েছে।
এই নতুন অভিযোগের ফলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনি চাপ আরও বাড়ল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বা তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সালের পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে সামনে রেখে শাসক ও বিরোধী শিবিরের সংঘাত ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। সেই আবহে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ২০৩১ সালের মন্তব্য নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এখন তদন্তে কী উঠে আসে এবং পুলিশ এই অভিযোগের ভিত্তিতে কী পদক্ষেপ করে, সেদিকেই নজর থাকবে।