Abhishek Banerjee: বিতর্ক যেন পিছু ছাড়ছে না তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee)। একদিকে পুরোনো হামলার অভিযোগে থানার দ্বারস্থ বিজেপি নেতা, অন্যদিকে সরকারি জমির মাটি কেটে কোটি কোটি টাকায় বিক্রির মামলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ পুলিশি তদন্তের নির্দেশ বিচার ব্যবস্থার-জোড়া নতুন আইনি ধাক্কায় অস্বস্তি বাড়ল ঘাসফুল শিবিরের।
২০২০ সালে শমীক ভট্টাচার্যের কনভয়ে হামলা!

প্রথম ঘটনাটির সূত্রপাত দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবারে (Diamond Harbour)। ২০২০ সালের একটি পুরোনো হিংসার ঘটনা সামনে এনে স্থানীয় ডায়মন্ড হারবার থানার দ্বারস্থ হয়েছেন বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস ওরফে ববি। ২০২০ সালের ৬ অক্টোবর তৎকালীন বিজেপি নেতৃত্ব তথা বর্তমান রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Shamik Bhattacharya) ও ও তাঁর সহযোগীদের উপর ডায়মন্ড হারবারের স্রোতেরপোল এলাকায় আয়োজিত হামলার মূল চক্রান্তকারী হিসেবে সরাসরি স্থানীয় সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম তুলে ধরা হয়েছে। আইসি-কে পাঠানো ১০ পাতার বিস্তারিত অভিযোগপত্রে বিজেপির দাবি, ডায়মন্ড হারবারের সাংসদের নির্দেশেই তাঁর অনুগামী ‘গুন্ডাবাহিনী’ বিজেপি প্রতিনিধিদলের ওপর হামলা চালিয়েছিল। অভিযোগপত্রে অভিষেক ছাড়াও জাহাঙ্গির খান, সুমিত রায়, গৌতম অধিকারী, শামিম আহমেদ এবং আরও ৭৮ জনের নাম যুক্ত করা হয়েছে এবং পুরো বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ দাবি করা হয়েছে।
ববি স্পষ্ট করেছেন যে, ঘটনার সময়ে তিনি শমীক ভট্টাচার্যের সওয়ার হওয়া গাড়িতে না থাকলেও খবর পেয়ে দ্রুত সেখানে পৌঁছান। ইতিপূর্বে বিষ্ণুপুর থানায় বিষয়টি জানানো হলেও পুলিশ নিষ্ক্রিয় ছিল বলে তাঁর অভিযোগ। সেই ঘটনার গুরুত্ব অনুধাবন করে এবার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি।
নদিয়া-মুর্শিদাবাদে ‘মাটি চুরির’ অভিযোগ, তদন্তে পুলিশ
অন্যদিকে, নদিয়া ও মুর্শিদাবাদে হাজার হাজার বিঘা সরকারি জমি থেকে বেআইনিভাবে মাটি কেটে বিক্রির মহা কেলেঙ্কারির অভিযোগে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। কৃষ্ণনগর আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১৫ জুলাই নদিয়ার কালীগঞ্জের বাসিন্দা বাপন ঘোষ একটি মামলা দায়ের করেন। নদিয়ার কৃষ্ণনগর বিচারবিভাগীয় আদালতে (Krishnanagar Court) দায়ের হওয়া মামলায় মূল অভিযুক্ত হিসেবে নাম উঠে এসেছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। আদালতের বিচারক তরুণ মণ্ডল সম্পূর্ণ বিষয়টির সত্যতা অনুসন্ধানে পুলিশকে সরাসরি পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
{{/usCountry}}অন্যদিকে, নদিয়া ও মুর্শিদাবাদে হাজার হাজার বিঘা সরকারি জমি থেকে বেআইনিভাবে মাটি কেটে বিক্রির মহা কেলেঙ্কারির অভিযোগে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। কৃষ্ণনগর আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১৫ জুলাই নদিয়ার কালীগঞ্জের বাসিন্দা বাপন ঘোষ একটি মামলা দায়ের করেন। নদিয়ার কৃষ্ণনগর বিচারবিভাগীয় আদালতে (Krishnanagar Court) দায়ের হওয়া মামলায় মূল অভিযুক্ত হিসেবে নাম উঠে এসেছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। আদালতের বিচারক তরুণ মণ্ডল সম্পূর্ণ বিষয়টির সত্যতা অনুসন্ধানে পুলিশকে সরাসরি পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
{{/usCountry}}মামলাকারীর লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৬ সাল থেকে কালীগঞ্জ ব্লক ও শক্তিপুর সংলগ্ন এলাকার প্রায় ৩৩ হাজার বিঘা ‘ভেস্টেড’ ও সরকারি জমির মূল্যবান মাটি এবং বহু পরিবেশবান্ধব গাছ কেটে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। মামলাকারীর দাবি, এই সুবিশাল বেআইনি কর্মকাণ্ডের নেপথ্যে মূল মদতদাতা হিসেবে ভূমিকা রয়েছে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেকের। এই মামলায় অভিষেক ছাড়াও অভিযুক্তের তালিকায় স্থান পেয়েছেন কালীগঞ্জের বর্তমান তৃণমূল বিধায়ক আলিফা আহমেদ ও প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক হাসানুজ্জামান শেখ-সহ মোট ৩০ জন। মামলাকারীর আইনজীবী শীর্ষেন্দু দাস অভিযোগ করেন, বহু দিন ধরে বন দফতর ও স্থানীয় পুলিশ-প্রশাসনকে লিখিত জানালেও কোনও সদর্থক পদক্ষেপ করা হয়নি; বরং মামলাকারীকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। যাবতীয় নথি ও যুক্তি খতিয়ে দেখার পর বিচারক তরুণ মণ্ডল ঘটনাটি খতিয়ে দেখে পুলিশকে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দেন। আদালতের এই নির্দেশে স্বস্তি প্রকাশ করে মামলাকারী বাপন জানান, দীর্ঘদিন ধরে পরিবেশ ও সরকারি সম্পত্তি রক্ষার লড়াইয়ের পর অবশেষে বিচার ব্যবস্থার ওপর আস্থা জোরদার হলো।
এদিকে, সমস্ত আইনি নথিপত্র পর্যালোচনা করে আদালত তদন্তের নির্দেশ জারি করতেই শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে নতুন করে তরজা শুরু হয়েছে। এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চক্রান্ত বলে দাবি করেছেন বিধায়ক আলিফা আহমেদ। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, নির্বাচনের পর দুটি ভিন্ন প্রান্তে নতুন করে একই সময়ে অভিষেকের বিরুদ্ধে আইনি চাপ বৃদ্ধি পাওয়ার ঘটনা রাজ্য রাজনীতিতে দূরগামী প্রভাব ফেলতে চলেছে।