সই-কাণ্ডের তদন্তে ফের সিআইডির হাজিরা এড়ালেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তদন্তকারী সংস্থা তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকেছিল বলে সূত্রের খবর। তবে নির্ধারিত দিনে হাজির হননি তিনি। জানা গিয়েছে, শনিবারই দিল্লির উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বর্তমানে তিনি রাজধানীতেই রয়েছেন এবং ইন্ডিয়া ব্লকের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে যোগ দিচ্ছেন। সেই কারণেই সিআইডির সামনে হাজিরা দেওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব হয়নি বলে তৃণমূল সূত্রে দাবি।

সই-কাণ্ডকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চর্চা শুরু হয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, তদন্তে সহযোগিতা না করে বারবার হাজিরা এড়িয়ে যাচ্ছেন তৃণমূলের শীর্ষ নেতা। যদিও তৃণমূলের পাল্টা দাবি, অভিষেকের দিল্লি সফর পূর্বনির্ধারিত রাজনৈতিক কর্মসূচির অংশ এবং ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে তাঁর উপস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উল্লেখ্য, এই মামলার তদন্তে এর আগেও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তলব করা হয়েছিল। কিন্তু বিভিন্ন কারণে তিনি হাজির হতে পারেননি। ফলে তদন্তের অগ্রগতি এবং পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা নিয়ে জল্পনা বাড়ছে রাজনৈতিক মহলে।
এদিকে অভিষেকের অনুপস্থিতিতে সিআইডি পরবর্তী সময়ে নতুন করে সমন পাঠাবে কি না, সেদিকেও নজর রয়েছে। সই-কাণ্ডের তদন্ত ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়তে পারে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। এদিকে সিআইডি-র জারি করা নোটিসকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা মামলার দ্রুত শুনানির আবেদন করলেও কলকাতা হাইকোর্ট তা খারিজ করে দিয়েছিল।
ঘটনার সূত্রপাত বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর। ৬ মে কালীঘাটে তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়কদের নিয়ে একটি বৈঠক হয়, যেখানে বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করা হয়েছিল। উপস্থিত বিধায়করা হাত তুলে সেই প্রস্তাবকে সমর্থন জানান। তবে বিধানসভায় জমা দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিক প্রস্তাবপত্র তখন জমা দেওয়া হয়নি। পরবর্তীতে ১৩ ও ১৪ মে বিধায়কদের শপথগ্রহণের সময় তাঁদের স্বাক্ষর নেওয়া হয়। এরপর ১৯ মে ফের কালীঘাটে বৈঠক ডাকা হয়। অভিযোগ, ওই বৈঠকে সব বিধায়ক উপস্থিত না থাকলেও পরবর্তীতে বিরোধী দলনেতার সমর্থনে ৭০ জন বিধায়কের স্বাক্ষরযুক্ত একটি নথি বিধানসভায় জমা দেওয়া হয়। সেই নথির স্বাক্ষরের সঙ্গে অন্য নথিতে থাকা কয়েকজন বিধায়কের স্বাক্ষরের অমিল ধরা পড়ে বলে অভিযোগ।
{{/usCountry}}ঘটনার সূত্রপাত বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর। ৬ মে কালীঘাটে তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়কদের নিয়ে একটি বৈঠক হয়, যেখানে বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করা হয়েছিল। উপস্থিত বিধায়করা হাত তুলে সেই প্রস্তাবকে সমর্থন জানান। তবে বিধানসভায় জমা দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিক প্রস্তাবপত্র তখন জমা দেওয়া হয়নি। পরবর্তীতে ১৩ ও ১৪ মে বিধায়কদের শপথগ্রহণের সময় তাঁদের স্বাক্ষর নেওয়া হয়। এরপর ১৯ মে ফের কালীঘাটে বৈঠক ডাকা হয়। অভিযোগ, ওই বৈঠকে সব বিধায়ক উপস্থিত না থাকলেও পরবর্তীতে বিরোধী দলনেতার সমর্থনে ৭০ জন বিধায়কের স্বাক্ষরযুক্ত একটি নথি বিধানসভায় জমা দেওয়া হয়। সেই নথির স্বাক্ষরের সঙ্গে অন্য নথিতে থাকা কয়েকজন বিধায়কের স্বাক্ষরের অমিল ধরা পড়ে বলে অভিযোগ।
{{/usCountry}}বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ তৈরি হলে বিধানসভার সচিব থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে সিআইডি। তদন্তের সূত্রে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও হাজিরার নোটিস পাঠানো হয়। তাঁকে ভবানীভবনে উপস্থিত হয়ে বক্তব্য জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তিনি নির্ধারিত দিনে হাজিরা এড়িয়ে যান এবং তদন্তকারীদের কাছে অতিরিক্ত সময় চান। এরপর সিআইডি ফের তাঁকে নতুন নোটিস পাঠায়। একইসঙ্গে তিনি আদালতের দ্বারস্থ হয়ে সিআইডি-র নোটিসকে চ্যালেঞ্জ করেন এবং তদন্তে সম্ভাব্য গ্রেপ্তারি থেকে সুরক্ষার আবেদন জানান। পাশাপাশি দ্রুত শুনানির আর্জিও করা হয়েছিল। কিন্তু বিচারপতি চৈতালী চট্টোপাধ্যায় দাস সেই দ্রুত শুনানির আবেদন গ্রহণ করেননি। ফলে মামলাটি নিয়মিত প্রক্রিয়াতেই এগোবে। আর আজ দ্বিতীয়বার হাজিরা এড়ালেন অভিষেক।