ক্যামাক স্ট্রিটকাণ্ডে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জিজ্ঞাসাবাদ ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও বাড়ল। এবার সরাসরি অভিষেককে নিশানা করলেন বিজেপি নেত্রী প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়াল। তাঁর দাবি, অভিষেককে আরও দীর্ঘ সময় জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিত ছিল। ৭ ঘণ্টা নয়, ১৪ ঘণ্টা ধরে তাঁকে জেরা করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসে বিলবোর্ড সরানোকে কেন্দ্র করে গত সপ্তাহে তুমুল অশান্তি হয়েছিল। পুরসভার কর্মী এবং পুলিশের সঙ্গে তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের ধস্তাধস্তি হয়। ঘটনায় একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা হয়। সেই মামলাতেই অভিষেককে থানায় ডেকে পাঠায় কলকাতা পুলিশ।
১ সেপ্টেম্বর শেক্সপিয়র সরণি থানায় হাজির হন অভিষেক। প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা ধরে তাঁর জিজ্ঞাসাবাদ চলে। থানা থেকে বেরিয়ে অভিষেক দাবি করেন, তাঁর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে মামলা করা হয়েছে। পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। এই পরিস্থিতিতেই প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়ালের পাল্টা আক্রমণ। তাঁর বক্তব্য, আইন সবার জন্য সমান হওয়া উচিত। কেউ আইন ভাঙলে তাঁকে তার ফল ভোগ করতেই হবে। পুলিশের বর্তমান পদক্ষেপকেও তিনি সঠিক বলে দাবি করেন।
প্রিয়াঙ্কার বক্তব্য, ‘এ ধরনের মানুষকে ৭ ঘণ্টা নয়, ১৪ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিত।’ তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাবের কারণে কাউকে আইনের বাইরে রাখা চলবে না। তদন্তে কোনও চাপ থাকা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিজেপি নেত্রীর মতে, পুলিশ যদি নিরপেক্ষভাবে কাজ করে, তাহলে আইনশৃঙ্খলা আরও শক্তিশালী হবে। তিনি বলেন, পুলিশকে নিজের দায়িত্ব অনুযায়ী কাজ করতে দিতে হবে। কেউ আইনের বিরুদ্ধে গেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
{{/usCountry}}বিজেপি নেত্রীর মতে, পুলিশ যদি নিরপেক্ষভাবে কাজ করে, তাহলে আইনশৃঙ্খলা আরও শক্তিশালী হবে। তিনি বলেন, পুলিশকে নিজের দায়িত্ব অনুযায়ী কাজ করতে দিতে হবে। কেউ আইনের বিরুদ্ধে গেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
{{/usCountry}}অন্যদিকে অভিষেকের বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তিনি পুলিশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক চাপের অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, মিথ্যা মামলা করে তাঁকে বা তাঁর কর্মীদের দমিয়ে রাখা যাবে না। ক্যামাক স্ট্রিটের ঘটনার ভিডিয়োও তাঁদের কাছে রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
এই মামলায় একাধিক ধারা যুক্ত হয়েছে। তার মধ্যে শ্লীলতাহানির ধারাও রয়েছে। যদিও অভিষেক সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, বরং পুলিশ ও আধিকারিকেরা তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের টেনে সরিয়েছিলেন।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই একাধিক মামলা হয়েছে। পুলিশ ১৩ জনকে গ্রেফতারও করেছে বলে টিভি৯ বাংলার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে ক্যামাক স্ট্রিটের ঘটনাটি এখন প্রশাসনিক গণ্ডি পেরিয়ে রাজনৈতিক সংঘাতের বড় ইস্যু হয়ে উঠেছে।
একদিকে অভিষেকের দাবি, তাঁকে রাজনৈতিকভাবে নিশানা করা হচ্ছে। অন্যদিকে বিজেপির অভিযোগ, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নন। প্রিয়াঙ্কার ১৪ ঘণ্টা জেরার মন্তব্য সেই রাজনৈতিক সংঘাতকে আরও তীব্র করল।
এখন নজর পুলিশের তদন্তের দিকে। মামলায় পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, সেটাই দেখার। একই সঙ্গে অভিষেকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্ত কতটা নিরপেক্ষভাবে এগোয়, তা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।