...
...
Next Story

'সামনা-সামনি খেলুন...,' বিতর্কিত চিঠি ঘিরে কমিশনকে তোপ মুখ্যমন্ত্রীর, সরব অভিষেকও

বিতর্কের শুরু সাত বছরের পুরনো নির্বাচন কমিশনের এক চিঠিকে কেন্দ্র করে। ২০১৯ সালের ১৯ মার্চের ওই চিঠিটি মুখ্য নির্বাচন কমিশনের দফতর থেকে বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকদের পাঠানো হয়েছিল।

Published on: Mar 24, 2026, 14:13:28 IST
Advertisement

সাত বছরের পুরনো নির্বাচন কমিশনের একটি চিঠি, অথচ তার ঠিক নিচে জ্বলজ্বল করছে বিজেপির সিলমোহর। এই ঘটনায় তীব্র বিতর্কের জেরে কেরলে নির্বাচনের কমিশনের এক আধিকারিককে সাসপেন্ড করা হয়। আর বিধানসভা ভোটের মুখে এই ঘটনায় বিতর্ক শুরু হতেই কমিশনের সঙ্গে ফের বিজেপির আঁতাতের অভিযোগ তুললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা ও বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, এই ধরনের ঘটনা এবং সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তগুলি বিচারব্যবস্থার উপর রাজনৈতিক প্রভাব বাড়িয়ে দিচ্ছে। তাঁর কথায়, 'এই ধারা চলতে থাকলে সুপ্রিম কোর্টের রায়গুলোতে রাজনৈতিক ছাপ স্পষ্ট হয়ে যাবে।'

বিতর্কের সূত্রপাত

মমতা ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
মমতা ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

বিতর্কের শুরু সাত বছরের পুরনো নির্বাচন কমিশনের এক চিঠিকে কেন্দ্র করে। ২০১৯ সালের ১৯ মার্চের ওই চিঠিটি মুখ্য নির্বাচন কমিশনের দফতর থেকে বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকদের পাঠানো হয়েছিল। পশ্চিমবঙ্গ-সহ পাঁচ বিধানসভা নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে সাত বছরের পুরনো ওই চিঠি। সোমবার তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র সোশ্যাল মিডিয়ার ওই চিঠি পোস্ট করে তোপ দাগেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে। যদিও ওই পোস্ট মুছে ফের নতুন করে একটি পোস্ট করেন। যেখানে চিঠির তলায় বিজেপির নির্বাচনী প্রতীক ‘পদ্ম’ চিহ্নের সিলমোহর রয়েছে। নয়া পোস্টে নির্বাচন কমিশনকে দুষেছেন তৃণমূল নেত্রী মহুয়া মৈত্র। কমিশন সূত্রের খবর, ২০১৯ সালের ওই ঘটনার জেরে সংশ্লিষ্ট আধিকারিককে সাসপেন্ড করা হয়েছে।

সরব মুখ্যমন্ত্রী

মঙ্গলবার প্রচার যুদ্ধে যাওয়ার আগে ফের নির্বাচন কমিশনকে নিশানা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। কেন কমিশনের লেটার হেডে বিজেপির লোগো? উত্তরবঙ্গে প্রচারে যাওয়ার আগে প্রশ্ন তুললেন তিনি। কলকাতা বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাফ কথা, 'নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ নয়। তাই ওদের নোটিফিকেশনে বিজেপির ভোটের সিম্বল।' আর মুখ্যমন্ত্রীর এ মন্তব্য নিয়েই রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাপানউতোর শুরু হয়েছে। খোঁচা দিয়েই তিনি বলেছেন, ঝুলি থেকে বিড়াল বেরিয়ে পড়েছে। কমিশনের পাশাপাশি বিজেপির বিরুদ্ধে সুর আরও চড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'পিছনের দরজা খেলছেন কেন? সামনা-সামনি খেলুন। ক্ল্যারিক্যাল মিসটেক বললে হয়ে যাবে? নাকি এটা ইচ্ছা করে করা হয়েছে? আমরা সব রাজনৈতিক দলকে একসঙ্গে লড়াইয়ের জন্য বলছি। এক দলীয় শাসনের বিরুদ্ধে লড়তে হবে।'

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কড়া প্রতিক্রিয়া

উল্লেখ্য, এই ঘটনার জেরে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে বিরোধী শিবির। পুরোনো চিঠি হলেও বিরোধীরা এই ইস্যুকে এত সহজে হালকা হতে দিতে নারাজ। আধিকারিকের ভুল হলেও ঘটনাটা যে ঘটেছিল, কার্যত তা মেনে নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। সত্যিই যদি ভুল হয়, কী ভাবে এমন ‘ভুল’ হলে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। বিশেষ করে আসন্ন নির্বাচনের আগে এই ধরনের তথ্য সামনে আসায় রাজনৈতিক চাপ আরও বাড়ছে।

 
SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe