এক ফোন নয়, একাধিক মোবাইল নম্বর ব্যবহার করতেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়। পুলিশের দাবি, তার মধ্যে একটি সিম ছিল তাঁর নিজের নামে। বাকি সিমগুলি তোলা হয়েছিল অন্য কয়েক জনের পরিচয়ে। আরও তাৎপর্যপূর্ণ, ওই সিমের মালিকেরা সকলেই কালীঘাট এবং সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা বলে তদন্তে উঠে এসেছে। এই তথ্য সামনে আসার পরই মামলার তদন্তে নতুন করে তৎপর হয়েছে শালবনী থানার পুলিশ।

বেআইনি বালি পাচারের মামলায় ধৃত সুমিতকে জেরা করে এই তথ্য পাওয়া গিয়েছে বলে আদালতে জানিয়েছে পুলিশ। তদন্তকারীদের আরও দাবি, অন্যের নামে নেওয়া বেশ কয়েকটি সিম এখনও সক্রিয় রয়েছে। সেগুলি কী ভাবে সুমিতের হাতে এল, কার অনুমতিতে ব্যবহার করা হত এবং এতগুলি নম্বর রাখার প্রয়োজনই বা কেন হয়েছিল, এখন সেটাই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
শুক্রবার শুনানিতে সরকারি আইনজীবী সৈয়দ নাজিম হাবিব জানান, এর আগে সুমিতকে দীর্ঘ সময় পুলিশি হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। সেই জেরায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলেছে বলে দাবি তদন্তকারীদের। বিশেষ করে তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোন এবং তাতে থাকা সিম সংক্রান্ত তথ্য তদন্তের নতুন দিক খুলে দিয়েছে।
পুলিশের অনুমান, একাধিক নম্বর ব্যবহারের পিছনে আর্থিক লেনদেনের যোগ থাকতে পারে। তদন্তকারীদের একটি অংশ মনে করছেন, ইউপিআইয়ের মাধ্যমে বড় অঙ্কের টাকা পাঠানো বা গ্রহণ করার ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন মোবাইল নম্বর ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে। তবে এই অনুমান এখনও নিশ্চিত নয়। এমন কোনও লেনদেনের নির্দিষ্ট প্রমাণ আদালতে সামনে আনা হয়নি বলেই জানা গিয়েছে।
তদন্তকারীরা এখন যাঁদের পরিচয় ব্যবহার করে সিমগুলি তোলা হয়েছিল, তাঁদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করতে চান। পুলিশ সূত্রের খবর, ওই ব্যক্তিদের একে একে ডেকে তাঁদের কাছ থেকে জানতে চাওয়া হতে পারে, তাঁরা সত্যিই নিজেদের নথি দিয়ে সিম তুলেছিলেন কি না, সিমগুলি সুমিতকে ব্যবহারের জন্য দিয়েছিলেন কি না এবং পুরো বিষয়টি সম্পর্কে তাঁরা কতটা জানতেন।
{{/usCountry}}তদন্তকারীরা এখন যাঁদের পরিচয় ব্যবহার করে সিমগুলি তোলা হয়েছিল, তাঁদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করতে চান। পুলিশ সূত্রের খবর, ওই ব্যক্তিদের একে একে ডেকে তাঁদের কাছ থেকে জানতে চাওয়া হতে পারে, তাঁরা সত্যিই নিজেদের নথি দিয়ে সিম তুলেছিলেন কি না, সিমগুলি সুমিতকে ব্যবহারের জন্য দিয়েছিলেন কি না এবং পুরো বিষয়টি সম্পর্কে তাঁরা কতটা জানতেন।
{{/usCountry}}প্রয়োজনে সুমিতের সঙ্গে ওই ব্যক্তিদের মুখোমুখি বসিয়েও জেরা করা হতে পারে। এই কারণেই আরও কয়েক দিনের পুলিশি হেফাজত চেয়েছিল তদন্তকারী দল। তবে আদালত সেই আবেদন পুরোপুরি মঞ্জুর করেনি। শুনানির পরে সুমিতের জামিনের আবেদন খারিজ করে তাঁকে আরও দুদিন পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সুমিতের বিরুদ্ধে এর আগেও পৃথক মামলায় তদন্ত চলেছে। শালবনীর জমি সংক্রান্ত মামলায় গ্রেফতারের পর নতুন করে তাঁকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখিয়ে বালি পাচারের মামলাতেও যুক্ত করা হয়। ফলে তাঁর বিরুদ্ধে চলা তদন্তের পরিধি আরও বাড়ছে।
এখন পুলিশের সামনে মূলত কয়েকটি প্রশ্ন। অন্যের নামে সিম ব্যবহার করার অনুমতি সুমিত কী ভাবে পেলেন, ওই নম্বরগুলির মাধ্যমে কার সঙ্গে যোগাযোগ করা হত, কোনও আর্থিক লেনদেন হয়েছিল কি না এবং সেই লেনদেনের সঙ্গে বালি পাচারের মামলার কোনও যোগ রয়েছে কি না। সব দিক খতিয়ে দেখছে তদন্তকারীরা।
কালীঘাটের বাসিন্দাদের নামে সিম ব্যবহারের তথ্য সামনে আসায় রাজনৈতিক আলোচনাও শুরু হয়েছে। তবে এই মুহূর্তে তদন্তে যা উঠে এসেছে, তা পুলিশের দাবি এবং অভিযোগের পর্যায়েই রয়েছে। সিমের মালিকেরা এই ঘটনার সঙ্গে আদৌ যুক্ত কি না, তা স্পষ্ট হবে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং পরবর্তী তদন্তের পরেই।