শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ফের নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের সূচনা। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর এবার বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে জামিনে মুক্ত মধ্যস্থতাকারী তাপস মণ্ডল। একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেছেন, তৎকালীন শাসকদলের শীর্ষ নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ই গোটা নিয়োগ দুর্নীতির ‘মাস্টারমাইন্ড’। তাঁর অভিযোগ, চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে টাকা না এলে নিয়োগের ভেরিফিকেশন ইচ্ছাকৃতভাবে আটকে রাখা হত এবং সেই অর্থ একাধিক স্তর পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত পৌঁছত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোনও প্রতিক্রিয়া এখনও সামনে আসেনি।

শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গত কয়েক বছরে প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়-সহ একাধিক সরকারি আধিকারিককে গ্রেপ্তার করেছিল তদন্তকারী সংস্থা। পরে অনেকেই জামিনে মুক্তি পান। তদন্তের শুরু থেকেই বিরোধীদের প্রশ্ন ছিল, এত বড় দুর্নীতির ঘটনা সম্পর্কে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা শাসকদলের শীর্ষ নেতৃত্ব কিছুই জানতেন না, তা কীভাবে সম্ভব? তদন্ত চলাকালীন সুজয়কৃষ্ণ ভদ্র ওরফে 'কালীঘাটের কাকু'-র মুখে বারবার উঠে আসা 'সাহেব' পরিচয় নিয়েও নানা জল্পনা তৈরি হয়েছিল। তবে এতদিন পর্যন্ত প্রকাশ্যে কেউ সেই 'সাহেব'-এর নাম উল্লেখ করেননি।
সেই জল্পনাতেই এবার নতুন মাত্রা যোগ করেছেন তাপস মণ্ডল। তাঁর দাবি, তিনি ব্যক্তিগতভাবে ১৯ কোটিরও বেশি টাকা বিভিন্ন সময়ে লেনদেন করেছেন এবং সেই সমস্ত হিসাব একটি ডায়েরিতে লিখে রাখতেন। তাপসের অভিযোগ, টাকা না দিলে চাকরিপ্রার্থীদের নথি যাচাইয়ের প্রক্রিয়া আটকে দেওয়া হত। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কালীঘাটের কাকু সুজয়কৃষ্ণ ভদ্র জানাতেন যে 'সাহেব' টাকার জন্য চাপ দিচ্ছেন। তিনি আরও দাবি করেন, কুন্তল ঘোষের হাতে টাকা তুলে দিতেন তিনি, আর কুন্তল সেই টাকা পৌঁছে দিতেন সুজয়কৃষ্ণ ভদ্রের কাছে। তাপসের অভিযোগ, সেই অর্থ শেষ পর্যন্ত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছেই যেত।
এতেই থেমে থাকেননি তাপস মণ্ডল। তাঁর দাবি, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশ ছাড়া এত বড় নিয়োগ দুর্নীতি সম্ভব ছিল না। একইসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও গোটা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ছিলেন। তাপসের কথায়, "তিনি কিছুই জানতেন না, এটা বিশ্বাস করা যায় না।" পাশাপাশি তিনি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের গ্রেপ্তারির দাবিও তুলেছেন।
{{/usCountry}}এতেই থেমে থাকেননি তাপস মণ্ডল। তাঁর দাবি, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশ ছাড়া এত বড় নিয়োগ দুর্নীতি সম্ভব ছিল না। একইসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও গোটা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ছিলেন। তাপসের কথায়, "তিনি কিছুই জানতেন না, এটা বিশ্বাস করা যায় না।" পাশাপাশি তিনি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের গ্রেপ্তারির দাবিও তুলেছেন।
{{/usCountry}}এছাড়াও অভিনেত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী সায়নী ঘোষকে নিয়েও একটি দাবি করেছেন তাপস মণ্ডল। তাঁর অভিযোগ, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নাকি সায়নী ঘোষকে একটি ফ্ল্যাট উপহার দিয়েছিলেন। তবে কোথায় বা কী পরিস্থিতিতে সেই ফ্ল্যাট দেওয়া হয়েছিল, সে বিষয়ে কোনও নির্দিষ্ট তথ্য তাঁর কাছে নেই বলেও স্বীকার করেছেন তিনি। উল্লেখ্য, তাপস মণ্ডলের এই সমস্ত অভিযোগ এখনও স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। অভিযুক্তদের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি। তদন্ত বা আদালতের রায়ের আগে অভিযোগগুলিকে প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।