Abhishek Banerjee Security: নবান্নে পা রেখেই প্রশাসনিক সংস্কারে হাত দিয়েছেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আমলাদের সঙ্গে বৈঠকের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার রাজনৈতিক নেতাদের নিরাপত্তা নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিল নতুন সরকার। নবান্ন সূত্রে খবর, তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য বরাদ্দ বিশাল নিরাপত্তা বাহিনী এবং বিশেষ পাইলট কারের সুবিধা আর থাকছে না। সোমবার বিকেলেই এই সংক্রান্ত কড়া প্রশাসনিক নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।

টানা ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘জেড প্লাস’ ক্যাটাগরির নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছিল। তাঁর যাতায়াতের সময়ে রাস্তা ব্লক করা থেকে শুরু করে কয়েক ডজন পুলিশ কর্মী ও কমান্ডো মোতায়েন থাকত। ডায়মন্ড হারবারের সাংসদের সেই বাড়তি সুরক্ষা তো বটেই, এমনকী তাঁর কনভয়ে থাকা বিশেষ ‘পাইলট কার’-এর সুবিধাও আর থাকছে না। প্রশাসনের স্পষ্ট বার্তা, একজন সাধারণ সাংসদ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের গাইডলাইন অনুযায়ী যেটুকু নিরাপত্তা পাওয়ার যোগ্য, অভিষেক কেবল সেটুকুই পাবেন। সোমবারই নবান্নে সব জেলার জেলা শাসক ও পুলিশ সুপারদের সঙ্গে এক ম্যারাথন বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, কোনও রাজনৈতিক নেতার উপর হামলার আশঙ্কা না থাকলে অহেতুক নিরাপত্তা পাবেন না। কারও স্টেটাস দেখানোর জন্য সরকার অর্থের অপচয় করবে কেন?
এরপরই নবান্ন সূত্রে জানা যায়, এবার থেকে একজন সাধারণ সাংসদ হিসাবে যেটুকু নিরাপত্তা পাওয়ার সেটুকুই পাবেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। গত ১৫ বছর রাজ্যে ক্ষমতায় ছিল তৃণমূল। সেই সময় অভিষেকের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বারবার প্রশ্ন ওঠে। জেড প্লাস নিরাপত্তা পান অভিষেক। হরিশ মুখোপাধ্যায় রোডে তাঁর বাড়ির সামনে কয়েকদিন আগেও কড়া পুলিশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকত। ক্যামাক স্ট্রিটে তাঁর অফিসের সামনেও ছিল কড়া নিরাপত্তা। তবে রাজ্য সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই অভিষেকের নিরাপত্তায় কাটছাঁট শুরু হয়েছিল। এবার সেই প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত রূপ দেখা গেল। আগেই তাঁর বাসভবনে ও অফিসে কলকাতা পুলিশের যে স্ক্যানার ছিল তা সম্প্রতি তুলে নেওয়া হয়। বাড়ির বাইরে পুলিশ পোস্টও সরিয়ে দেওয়া হয়। এবার রাজ্য পুলিশের পক্ষ থেকে দেওয়া বিশেষ স্পেশাল সিকিউরিটি ইউনিটর বড় অংশই সরিয়ে নেওয়া হবে। প্রশাসনের দাবি, আড়ম্বর নয় বরং কাজের প্রয়োজনেই পুলিশের শক্তি ব্যয় করা হবে।