রাজ্যে পালাবদলের পরে বহু তৃণমূল কংগ্রেস নেতা-কর্মী বিজেপিতে যোগ দেওয়ার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে পড়েছেন। আবার মাথার ওপর মামলা ঝুলতে থাকা কিছু তৃণমূল নেতা আবার লুকিয়ে বেড়াচ্ছেন। তাঁদেরই মধ্যে একজন ছিলেন চোপড়ার দাপুটে তৃণমূল নেতা গোপাল ভৌমিক। এহেন গোপালকে পড়শি দেশে পালানোর পথে গ্রেফতার করা হয়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, নেপালে পালানোর চেষ্টা করছিলেন গোপাল ভৌমিক।

ধৃত এই গোপাল ভৌমিক পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতির স্বামী বলে জানা গিয়েছে। চোপড়া ব্লক তৃণমূল কোর কমিটির সদস্য তিনি। স্থানীয়দের অভিযোগ, সভাপতি স্ত্রী হলেও দফতরে স্ত্রীর পরিবর্তে গোপাল ভৌমিক নিজেই বসতেন এবং প্রশাসনিক নানা কাজে প্রভাব খাটাতেন। এদিকে বিরোধীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় ঘটে আসা বিভিন্ন অবৈধ কাজকর্মের সঙ্গে গোপাল ভৌমিকের নাম জড়িয়েছিল। এরই সঙ্গে পাশাপাশি এলাকার চা বাগানগুলিতে শ্রমিক শোষণেরও অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। তবে এর আগে তৃণমূল শাসনে প্রশাসন কোনও পদক্ষেপ করেনি তাঁর বিরুদ্ধে। তবে এবার পালাবদল হতেই পুলিশের কর্মপদ্ধতি বদল হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ১৭ এপ্রিল ওই এলাকায় বিজেপি প্রার্থী শংকর অধিকারীর গাড়ি ভাঙচুর ও হামলার ঘটনাতেও তাঁর নাম জড়িয়েছিল।
এই আবহে ভোটের ফলাফল প্রকাশিত হতেই গা ঢাকা দিয়েছিলেন তৃণমূলের গোপাল ভৌমিক। উল্লেখ্য, পুলিশকে দুষ্কৃতীদের ধরতে নির্দেশ দিয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। এই আবহে গোপাল ভৌমিককে গত কয়েকদিন ধরেই খুঁজছিল পুলিশ। শেষ পর্যন্ত মোবাইলের লোকেশন ট্র্যাক করে সোমবার নেপাল সীমান্ত এলাকা থেকে ধরা হয় তাঁকে। পরে বিকেলে তাঁকে চোপড়া থানায় নিয়ে আসা হয়।