পরিকল্পনা ছিল এক হাজার শয্যার হাসপাতাল। তার অর্ধেকেই রাজ্যের দরিদ্র রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়ার কথা। কিন্তু সেই হিসাব বদলে গিয়েছে। নিউ টাউনে আদানি গোষ্ঠীর প্রস্তাবিত হাসপাতালটি এ বার তৈরি হবে দু’হাজার শয্যা নিয়ে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রস্তাবেই হাসপাতালের পরিসর বাড়ানো হয়েছে বলে রাজ্য সরকারের তরফে জানানো হয়েছে। ২৪ সেপ্টেম্বর কলকাতায় এসে গৌতম আদানি এই প্রকল্পের ভূমিপুজোয় অংশ নিয়েছেন।

প্রাথমিক পরিকল্পনায় হাসপাতালটি এক হাজার শয্যার হওয়ার কথা ছিল। তার মধ্যে ৫০০টি শয্যা আর্থিক ভাবে দুর্বল রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসার জন্য রাখার প্রস্তাব ছিল। পরে মুখ্যমন্ত্রীর অনুরোধে প্রকল্পের আকার দ্বিগুণ করার সিদ্ধান্তের কথা প্রকাশ্যে আসে। এখন রাজ্য সরকারের বক্তব্য, দু’হাজার শয্যার মধ্যে এক হাজারটি দরিদ্র মানুষের বিনামূল্যে চিকিৎসার জন্য রাখা হবে। বাকি এক হাজার শয্যায় বাণিজ্যিক ভাবে চিকিৎসা পরিষেবা চলবে।
অর্থাৎ, শুধু হাসপাতালের আয়তনই বাড়ছে না, বাড়ছে বিনামূল্যে চিকিৎসার সম্ভাবনাও। তবে সেই এক হাজার শয্যার সুবিধা কারা পাবেন, রোগী বাছাই কী ভাবে হবে এবং কোন কোন চিকিৎসা বিনামূল্যে দেওয়া হবে—এখনও তার সব খুঁটিনাটি প্রকাশ্যে আসেনি। শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত চুক্তি ও পরিষেবা পরিচালনার নিয়মেই বিষয়গুলি স্পষ্ট হবে।
প্রাথমিক প্রকল্প নিয়ে করা মূল্যায়নে ৫০০টি বিনামূল্যের শয্যার চিকিৎসার আর্থিক মূল্য বছরে প্রায় ৮১৭ কোটি টাকা হতে পারে বলে অনুমান করা হয়েছিল। তার মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের চিকিৎসার মূল্য প্রায় ৭৩০ কোটি, বিনামূল্যের বহির্বিভাগের পরিষেবা প্রায় ৬২ কোটি এবং রোগ নির্ণয়ের পরিষেবা প্রায় ২৫ কোটি টাকা ধরা হয়েছিল। এই হিসাব অবশ্য কিছু নির্দিষ্ট অনুমানের উপর তৈরি—শয্যার প্রায় ৮০ শতাংশ ব্যবহার, রোগীপিছু গড়ে পাঁচ দিন হাসপাতালে থাকা এবং গড় চিকিৎসা ব্যয় প্রায় আড়াই লক্ষ টাকা। ফলে এটি নিশ্চিত আর্থিক লাভের অঙ্ক নয়, সম্ভাব্য সামাজিক পরিষেবার একটি হিসাব।
এখন শয্যা দ্বিগুণ হওয়ায় বিনামূল্যে চিকিৎসার পরিমাণও একই অনুপাতে বাড়তে পারে। কিন্তু আগের ৮১৭ কোটি টাকাকে সরাসরি দ্বিগুণ করে নতুন প্রকল্পের লাভ হিসাব করা যাবে না। রোগীর সংখ্যা, চিকিৎসার ধরন, শয্যার ব্যবহার এবং পরিষেবার প্রকৃত খরচের উপর নির্ভর করে সেই অঙ্ক বদলাবে।
{{/usCountry}}এখন শয্যা দ্বিগুণ হওয়ায় বিনামূল্যে চিকিৎসার পরিমাণও একই অনুপাতে বাড়তে পারে। কিন্তু আগের ৮১৭ কোটি টাকাকে সরাসরি দ্বিগুণ করে নতুন প্রকল্পের লাভ হিসাব করা যাবে না। রোগীর সংখ্যা, চিকিৎসার ধরন, শয্যার ব্যবহার এবং পরিষেবার প্রকৃত খরচের উপর নির্ভর করে সেই অঙ্ক বদলাবে।
{{/usCountry}}প্রকল্পটি অবশ্য শুধু হাসপাতালেই আটকে থাকছে না। স্বাস্থ্যশিক্ষা, চিকিৎসা গবেষণা, দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী তৈরি এবং মেডিক্যাল ট্যুরিজ়মের মতো ক্ষেত্রকেও পরিকল্পনায় রাখা হয়েছে। আগের মূল্যায়নে হাসপাতালটি চালু হলে চিকিৎসা, কর্মসংস্থান, শিক্ষা, গবেষণা এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কর্মকাণ্ড মিলিয়ে বছরে প্রায় ৪,০৮৫ কোটি টাকার সামাজিক ও অর্থনৈতিক সুবিধা তৈরি হতে পারে বলে অনুমান করা হয়েছিল। এই অঙ্ক রাজ্য সরকারের হাতে আসা সরাসরি রাজস্ব নয়; হাসপাতালকে ঘিরে তৈরি হতে পারে এমন সামগ্রিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুবিধার হিসাব।
প্রকল্পের বাস্তবায়ন কত দ্রুত হয়, তার উপরও অনেক কিছু নির্ভর করছে। বৃহস্পতিবার নিউ টাউনে ‘আদানি আরোগ্য মন্দির’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হয়েছে। রাজ্য সরকারের তরফে প্রকল্পটির উপর নজর রাখার কথা জানানো হয়েছে। লক্ষ্য, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্মাণ শেষ করে হাসপাতালকে পূর্ণাঙ্গ ভাবে চালু করা।
ফলে নিউ টাউনের এই হাসপাতাল এখন শুধু একটি নতুন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের প্রকল্প নয়। দু’হাজার শয্যার পরিকাঠামোর পাশাপাশি এক হাজার শয্যায় বিনামূল্যে চিকিৎসার ঘোষণায় এর সামাজিক গুরুত্বও বাড়ছে। তবে ঘোষণার পর বাস্তবে কত রোগী পরিষেবা পান, কখন হাসপাতাল পুরোপুরি চালু হয় এবং বিনামূল্যের চিকিৎসার কাঠামো কী ভাবে কার্যকর হয়—সেই উত্তর মিলবে প্রকল্পটি চালু হওয়ার পরেই।