রাজ্যের পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী-সমর্থকদের সরাসরি কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী। মুর্শিদাবাদে এক কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি দাবি করেন, তৃণমূলের অন্দরেই এখন গভীর অস্থিরতা তৈরি হয়েছে এবং সেই পরিস্থিতিতে বহু কর্মী ও নেতা রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছেন। এই আবহেই তাঁদের কংগ্রেসের পতাকার তলায় আসার ডাক দেন তিনি।

অধীর রঞ্জন চৌধুরী বলেন, তৃণমূলের বর্তমান পরিস্থিতি প্রমাণ করছে যে দলের ভিতরে অসন্তোষ ক্রমশ বাড়ছে। একাধিক বিধায়ক ও নেতার অবস্থান নিয়ে যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে, তা সাধারণ কর্মীদের মধ্যেও বিভ্রান্তির সৃষ্টি করেছে বলে তাঁর দাবি। এই অবস্থায় কংগ্রেসই প্রকৃত রাজনৈতিক বিকল্প হতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি। উল্লেখ্য, একদা কংগ্রেসের হাত ধরেই রাজ্যে ক্ষমতায় এসেছিল তৃণমূল। পরে কংগ্রেস ভাঙিয়ে তাদের প্রায় নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছিলেন মমতা। এমনকী উপনির্বাচনে কংগ্রেসের জয়ের পরও তাদের বিধায়ককে ছিনিয়ে নিয়েছিল তৃণমূল। মুর্শিদাবাদ জেলায় অধীরের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত বহু নেতাকে তৃণমূল ভাঙিয়েছিল দীর্ঘ সময় ধরে। সেই মুর্শিদাবাদে এবার খাতা খুলেছে কংগ্রেসের। আর ২২টির মধ্যে তৃণমূল মাত্র ৯টি আসনে জিতেছিল এবার। তার মধ্যে ৮ জন বিধায়কও আবার মমতাকে সঙ্গ না দিয়ে ঋতব্রতর দলে। এই পরিস্থিতিতে সাংগঠনিক ভাবে তৃণমূলকে আরও দুর্বল করতে নীচু তলার কর্মীদের হাত শিবিরে হাত মেলাতে বলছেন অধীর।
অধীরের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত অনেক কর্মী আজ নিজেদের রাজনৈতিকভাবে উপেক্ষিত বলে মনে করছেন। তাঁদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কংগ্রেসের দরজা খোলা রয়েছে এবং যারা গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক পরিসরে কাজ করতে চান, তাঁদের স্বাগত জানানো হবে। তিনি আরও দাবি করেন, তৃণমূলের অনেক কর্মী ইতিমধ্যেই কংগ্রেসের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন।
{{/usCountry}}অধীরের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত অনেক কর্মী আজ নিজেদের রাজনৈতিকভাবে উপেক্ষিত বলে মনে করছেন। তাঁদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কংগ্রেসের দরজা খোলা রয়েছে এবং যারা গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক পরিসরে কাজ করতে চান, তাঁদের স্বাগত জানানো হবে। তিনি আরও দাবি করেন, তৃণমূলের অনেক কর্মী ইতিমধ্যেই কংগ্রেসের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন।
{{/usCountry}}মুর্শিদাবাদের রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে অধীর বলেন, এই জেলায় কংগ্রেসের সংগঠন এখনও শক্তিশালী ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে রয়েছে। ফলে তৃণমূল ছেড়ে আসা কর্মীদের জন্য এখানে রাজনৈতিকভাবে কাজ করার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। তাঁর মতে, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে যে রাজনৈতিক পুনর্বিন্যাস শুরু হয়েছে, তার প্রভাব মুর্শিদাবাদেও পড়বে।
সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের পর তৃণমূলের একাংশের মধ্যে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে আলোচনা চলছে। সেই পরিস্থিতিকেই সামনে রেখে অধীর রঞ্জন চৌধুরী কংগ্রেসের সংগঠন সম্প্রসারণের বার্তা দিয়েছেন। তিনি মনে করেন, তৃণমূলের হতাশ কর্মীদের জন্য কংগ্রেস একটি গ্রহণযোগ্য রাজনৈতিক মঞ্চ হতে পারে। সব মিলিয়ে, তৃণমূল কর্মীদের উদ্দেশে অধীর রঞ্জন চৌধুরীর এই প্রকাশ্য আহ্বান মুর্শিদাবাদের রাজনীতিতে নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছে। রাজ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের আবহে তাঁর এই মন্তব্য আগামী দিনে দলবদল বা রাজনৈতিক পুনর্গঠনের সম্ভাবনাকে আরও উসকে দিতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।