ছাব্বিশের মহারণে এক সময়ের অপরাজেয় ‘বহরমপুরের রবিন হুড’ কী ফিরছেন চেনা ময়দানে? আড়াই দশক পর ফের রাজ্য রাজনীতির অন্দরে অধীর রঞ্জন চৌধুরীর প্রত্যাবর্তন ঘিরে এখন বঙ্গ রাজনীতিতে জল্পনা তুঙ্গে। টানা ২৫ বছর দিল্লির সংসদ সামলানোর পর এবার বিধানসভার লড়াইয়ে অধীর চৌধুরীকে নামানোর কথা গুরুত্ব দিয়ে ভাবছে কংগ্রেস হাইকম্যান্ড। যদিও এখনও তাঁর নাম আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেনি কংগ্রেস নেতৃত্ব, তবুও বহরমপুরে দেওয়াল লিখন যেন স্পষ্ট পড়া যাচ্ছে।

গত তিন দশকে বাংলা তথা জাতীয় রাজনীতিতে অধীরবাবুর যাত্রা ছিল এক কথায় অনবদ্য। পরিবারতন্ত্রের মধ্যে দিয়ে উঠে আসা নয়। রাজনীতিতে কোনও গডফাদারও ছিল না। প্রায় একার লড়াইয়ে লোকসভায় পরপর পাঁচ বারের সাংসদ। সনিয়া গান্ধীর আগ্রহে কেন্দ্রে রেল প্রতিমন্ত্রী। পরবর্তী সময়ে লোকসভায় কংগ্রেস নেতা ও পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির চেয়ারম্যান। গত লোকসভা ভোটে অবশ্য বহরমপুরে তৃণমূল প্রার্থী ইউসুফ পাঠানের কাছে পরাস্ত হয়েছিলেন তিনি। এই আবহে কংগ্রেস শীর্ষ নেতৃত্ব সূত্রে খবর, নিজের গড় বহরমপুরে প্রার্থী করা হতে পারে অধীর চৌধুরীকে। প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্বের তরফে আগেই জানানো হয়েছিল, প্রার্থী করা হতে পারে অধীর চৌধুরীকে। সূত্রের খবর, কংগ্রেস হাইকম্যান্ডও অধীরকে ব্যবহার করতে চাইছেন বাংলার রাজনীতিতে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির বৈঠকে। বলে রাখা ভালো, চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনে হেরে যাওয়ায় এখন অধীর প্রাক্তন সাংসদ। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির দায়িত্বও শুভঙ্কর সরকারের কাঁধে। সব মিলিয়ে এই মুহূর্তে বাড়তি কোনও ‘চাপ’ নেই অধীরের। আর এই ‘চাপহীন’ অধীরকেই বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী করতে চায় কংগ্রেস নেতৃত্ব।
বহরমপুরের ‘রবিন হুড’
২৫ বছর লোকসভার সাংসদ থাকলেও বিধানসভায় যাওয়ারও অভিজ্ঞতা রয়েছে বহরমপুরের ‘রবিন হুড’ অধীরের। রাজীব গান্ধী প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীনই ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসে যোগ দিয়েছিলেন অধী ররঞ্জন চৌধুরী। ১৯৯১ সালে তিনি পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে মুর্শিদাবাদের নবগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন, সেবার তিনি জয় পাননি। কিন্তু ১৯৯৬ সালে কংগ্রেসের টিকিটে সেই নবগ্রাম থেকে তিনি বিধায়ক নির্বাচিত হন। ১৯৯৯ সালের লোকসভা ভোট পর্যন্ত বিধায়ক ছিলেন। তারপর ১৯৯৯ সালে লোকসভা নির্বাচনে বহরমপুর কেন্দ্রে জিতে প্রথমবার সংসদে পা রাখেন অধীর। দীর্ঘ ২৫ বছর বহরমপুরের সাংসদ থেকেছেন। ২০২৪ সালের তৃণমূলের ইউসুফ পাঠানের কাছে লোকসভা নির্বাচনে পরাজিত হন। এই বহরমপুর লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত একটি বিধানসভা হল বহরমপুর। এই কেন্দ্রে অধীরের প্রভাবও যথেষ্ট ছিল একসময়। কিন্তু, একুশের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির সুব্রত মৈত্র বহরমপুরে জয়ী হন। এবারও জয়ী বিধায়ককেই প্রার্থী করেছে বিজেপি। আর তৃণমূল প্রার্থী করেছে নাড়ুগোপাল মুখোপাধ্যায়কে। এই পরিস্থিতিতে অধীর এই কেন্দ্রে দাঁড়ালে ত্রিমুখী লড়াইয়ের জোর সম্ভাবনা রয়েছে। এখন দেখার, প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতিকে তাঁর দল প্রার্থী করে, নাকি রাজ্যব্যাপী প্রচারের কাছে লাগায়।
{{/usCountry}}২৫ বছর লোকসভার সাংসদ থাকলেও বিধানসভায় যাওয়ারও অভিজ্ঞতা রয়েছে বহরমপুরের ‘রবিন হুড’ অধীরের। রাজীব গান্ধী প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীনই ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসে যোগ দিয়েছিলেন অধী ররঞ্জন চৌধুরী। ১৯৯১ সালে তিনি পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে মুর্শিদাবাদের নবগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন, সেবার তিনি জয় পাননি। কিন্তু ১৯৯৬ সালে কংগ্রেসের টিকিটে সেই নবগ্রাম থেকে তিনি বিধায়ক নির্বাচিত হন। ১৯৯৯ সালের লোকসভা ভোট পর্যন্ত বিধায়ক ছিলেন। তারপর ১৯৯৯ সালে লোকসভা নির্বাচনে বহরমপুর কেন্দ্রে জিতে প্রথমবার সংসদে পা রাখেন অধীর। দীর্ঘ ২৫ বছর বহরমপুরের সাংসদ থেকেছেন। ২০২৪ সালের তৃণমূলের ইউসুফ পাঠানের কাছে লোকসভা নির্বাচনে পরাজিত হন। এই বহরমপুর লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত একটি বিধানসভা হল বহরমপুর। এই কেন্দ্রে অধীরের প্রভাবও যথেষ্ট ছিল একসময়। কিন্তু, একুশের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির সুব্রত মৈত্র বহরমপুরে জয়ী হন। এবারও জয়ী বিধায়ককেই প্রার্থী করেছে বিজেপি। আর তৃণমূল প্রার্থী করেছে নাড়ুগোপাল মুখোপাধ্যায়কে। এই পরিস্থিতিতে অধীর এই কেন্দ্রে দাঁড়ালে ত্রিমুখী লড়াইয়ের জোর সম্ভাবনা রয়েছে। এখন দেখার, প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতিকে তাঁর দল প্রার্থী করে, নাকি রাজ্যব্যাপী প্রচারের কাছে লাগায়।
{{/usCountry}}