ঘিঞ্জি রাস্তার দু’পাশে হোটেল, আশপাশে ঠাসাঠাসি নির্মাণ। তারই মাঝে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। আগুন লাগার খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পৌঁছতে দমকলকেও যথেষ্ট বেগ পেতে হয়েছে। তারাপীঠের অগ্নিদগ্ধ হোটেল পরিদর্শনের পর এবার সেই পরিকাঠামো এবং হোটেল তৈরির অনুমোদন নিয়েই প্রশ্ন তুললেন বিজেপি বিধায়ক ধ্রুব সাহা। তাঁর অভিযোগ, এত বড় ভবন নির্মাণ হলেও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার ন্যূনতম বন্দোবস্ত রাখা হয়নি।

ঘটনাস্থল ঘুরে দেখে ধ্রুব সাহা সরাসরি পূর্বতন সরকারের আমলে তৈরি তারাপীঠ রামপুরহাট উন্নয়ন পর্ষদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর অভিযোগ, নিয়ম মেনে অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে কি না, তা যাচাই না করেই হোটেল নির্মাণের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এত বড় একটি ভবনকে কার্যত ‘জতুগৃহে’ পরিণত করা হয়েছিল। তাঁর দাবি, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা আছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দায়িত্ব ছিল উন্নয়ন পর্ষদের। মানুষের নিরাপত্তার দায় তাহলে কে নেবে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
ধ্রুব সাহার বক্তব্যের পর তারাপীঠ রামপুরহাট উন্নয়ন পর্ষদের কার্যকলাপ নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিশেষ করে হোটেল নির্মাণের অনুমোদন, অগ্নি নিরাপত্তা সংক্রান্ত ছাড়পত্র এবং নিয়ম মেনে পরিকাঠামো তৈরি হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠছে।
ঘটনার পর বীরভূমের পুলিশ সুপার বিদিত রাজ ভুন্দেশ জানান, ভোর ৫টার দিকে থানায় হোটেলে আগুন লাগার খবর আসে। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ ও দমকল ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। কিন্তু হোটেলের কাচের দরজা এবং জানলা বন্ধ থাকায় বাইরে থেকে প্রথম দিকে ধোঁয়া সহজে টের পাওয়া যায়নি। ফলে ভিতরে আগুনের ভয়াবহতা বোঝার ক্ষেত্রে সমস্যা হয়েছিল।
পুলিশ সুপারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মই ব্যবহার করে হোটেলের ভিতর থেকে মানুষজনকে উদ্ধারের কাজ শুরু হয়। মোট ২২ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ১১ জনকে হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডে এখনও পর্যন্ত সাতজনের মৃত্যু হয়েছে।
{{/usCountry}}পুলিশ সুপারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মই ব্যবহার করে হোটেলের ভিতর থেকে মানুষজনকে উদ্ধারের কাজ শুরু হয়। মোট ২২ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ১১ জনকে হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডে এখনও পর্যন্ত সাতজনের মৃত্যু হয়েছে।
{{/usCountry}}অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং হোটেলে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা কার্যকর ছিল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ইতিমধ্যেই হোটেলের মালিককে আটক করা হয়েছে। পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, যাঁদের গাফিলতি বা উদাসীনতার কারণে এই ঘটনা ঘটেছে, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনাস্থলে ফরেনসিক টিমও পৌঁছচ্ছে। আগুন লাগার সম্ভাব্য কারণ, বৈদ্যুতিক ত্রুটি ছিল কি না, এবং অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার কোনও ঘাটতি ছিল কি না—সবদিক খতিয়ে দেখা হবে। পাশাপাশি হোটেলটির ফায়ার লাইসেন্স বৈধ ছিল কি না, সেটিও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
এই অগ্নিকাণ্ডের আবহে তারাপীঠের মতো গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় পর্যটনকেন্দ্রে হোটেল নির্মাণ ও অগ্নিনিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন সামনে এসেছে। বিশেষ করে ঘিঞ্জি এলাকায় বহুতল হোটেল তৈরির ক্ষেত্রে অনুমোদন দেওয়ার আগে কী কী নিরাপত্তা যাচাই করা হয়েছিল, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির পর এখন তদন্তের পাশাপাশি দায় নির্ধারণের দাবিও জোরালো হচ্ছে।