চোরবাগানের দুর্গাপুজো মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনায় শোকের ছায়া কলকাতায়। রবিবার আহতদের দেখতে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে গেলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শনিবার সন্ধ্যায় উত্তর কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজোর মণ্ডপে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন অন্তত ২৫ জন। বৃষ্টির মধ্যে আচমকা ভিড় বেড়ে যাওয়ায় এই বিপর্যয় ঘটে বলে প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে। দুর্ঘটনার পরেই রাজ্য প্রশাসন ও কলকাতা পুলিশের তৎপরতা বেড়েছে। অন্য দিকে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শহরের একাংশে তিন দিনের জন্য নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে লালবাজার।
আহতদের দেখতে হাসপাতালে শাহ

রবিবার কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পৌঁছে আহতদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন অমিত শাহ। তাঁদের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে চান তিনি। দুর্ঘটনায় মৃতদের পরিবারের প্রতিও সমবেদনা জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। শনিবারের এই ঘটনাকে অত্যন্ত মর্মান্তিক বলে উল্লেখ করেছিলেন তিনি।
অমিত শাহ জানিয়েছেন, পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজ নিতে তিনি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে কথা বলেছেন। দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকাজ এবং আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা নিয়ে প্রশাসনের পদক্ষেপ সম্পর্কে খোঁজখবর নেন তিনি। উৎসবের আবহে এমন বিপর্যয়ে শোক প্রকাশ করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
বৃষ্টির মধ্যে ভিড় বাড়তেই বিপর্যয়
শনিবার সন্ধ্যায় চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজোর মণ্ডপে দর্শনার্থীদের ভিড় ক্রমশ বাড়ছিল। সেই সময় বৃষ্টি শুরু হয়। বৃষ্টি থেকে বাঁচতে এবং মণ্ডপে প্রবেশ করতে বহু মানুষ একসঙ্গে এগিয়ে আসেন। তার জেরেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় বলে প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে। পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনায় বহু মানুষ আহত হন। তাঁদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
ঘটনার পরেই তদন্তে নামে কলকাতা পুলিশ। দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, অনিচ্ছাকৃত খুনের অভিযোগে তদন্ত শুরু হয়েছে। পাশাপাশি, মৃতদের পরিচয় শনাক্ত করার কাজও চলছে। কী ভাবে ভিড়ের চাপ সামলানোর ব্যবস্থা ভেঙে পড়ল, নিরাপত্তারক্ষীদের ভূমিকা কী ছিল, মণ্ডপে প্রবেশ ও বেরোনোর পথে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ছিল কি না, সেই সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তিন দিনের জন্য নিষেধাজ্ঞা
{{/usCountry}}ঘটনার পরেই তদন্তে নামে কলকাতা পুলিশ। দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, অনিচ্ছাকৃত খুনের অভিযোগে তদন্ত শুরু হয়েছে। পাশাপাশি, মৃতদের পরিচয় শনাক্ত করার কাজও চলছে। কী ভাবে ভিড়ের চাপ সামলানোর ব্যবস্থা ভেঙে পড়ল, নিরাপত্তারক্ষীদের ভূমিকা কী ছিল, মণ্ডপে প্রবেশ ও বেরোনোর পথে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ছিল কি না, সেই সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তিন দিনের জন্য নিষেধাজ্ঞা
{{/usCountry}}চোরবাগানকাণ্ডের পর শহরের সংশ্লিষ্ট এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তিন দিনের জন্য নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে কলকাতা পুলিশ। ১৮ অক্টোবর থেকে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত এই নির্দেশ কার্যকর থাকবে। কলকাতা পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দের জারি করা নির্দেশ অনুযায়ী, বউবাজার থানা এলাকার নির্দিষ্ট কয়েকটি রাস্তায় পাঁচ বা তার বেশি মানুষের বেআইনি জমায়েত করা যাবে না। লাঠি বা অন্য কোনও বিপজ্জনক অস্ত্র বহন এবং শান্তিভঙ্গ করতে পারে, এমন কাজের উপরেও নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে।
কলেজ স্ট্রিট, সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ, কলুটোলা স্ট্রিট এবং ইডেন হাসপাতাল রোড দিয়ে ঘেরা এলাকায় এই বিধিনিষেধ বলবৎ থাকবে। কোনও মিছিল, সভা বা জমায়েত থেকে যাতে নতুন করে অশান্তি না ছড়ায়, সেই কারণেই এই পদক্ষেপ বলে পুলিশ সূত্রে খবর। চোরবাগানের ঘটনায় এক দিকে চলছে তদন্ত, অন্য দিকে আহতদের চিকিৎসার দিকে নজর রাখছে প্রশাসন। পুজোর মরসুমে এমন বিপর্যয় কী ভাবে ঘটল, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা। ভিড় নিয়ন্ত্রণে কোথায় ঘাটতি ছিল, তা স্পষ্ট হলে পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে।