সকাল ৭টা বাজতেই শুরু হয়েছিল ভোটগ্রহণ। আর ভোট শুরুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রেজিনগরে নতুন করে উত্তেজনা। আজুপ নেতা তথা নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে দলীয় কার্যালয় থেকে পুলিশের গাড়িতে তুলে থানায় নিয়ে যাওয়া হল। তাঁকে ঘিরে ছিলেন দলের কর্মী সমর্থকেরা। পুলিশ তাঁকে নিয়ে যাওয়ার সময় দুপক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তিও হয় বলে জানা গিয়েছে। আপাতত তাঁকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এদিকে হুমায়ুনের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তির ঘটনায় রিপোর্ট তলব করেছে জেলা নির্বাচনী দপ্তর।

দিনের শুরু থেকেই রেজিনগরের ভোটের পরিবেশ ছিল উত্তপ্ত। সকাল ৭টার আগে সপরিবারে নিজের বুথে পৌঁছে যান হুমায়ুন। ভোট দেন তিনি। ভোট দিয়ে বেরিয়েই পুলিশের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ তোলেন আজুপ নেতা। তাঁর দাবি, তাঁর বাড়ির চারপাশে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। একই সঙ্গে দলীয় এজেন্টদের বুথে ঢুকতে বাধা দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
শুধু তাই নয়, সকাল থেকেই রেজিনগরে ভোট লুট চলছে বলে দাবি করেন হুমায়ুন। তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্রীয় বাহিনী বাইরে রয়েছে। অথচ বুথের ভিতরে পুলিশই একতরফা ভাবে কাজ করছে। বিজেপির হয়ে পুলিশ কাজ করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন আজুপ নেতা। ভোট দিয়ে বেরিয়ে হুমায়ুন বলেছিলেন, "ভোটলুট হচ্ছে সকাল থেকে। রেজিনগরে ভোট লুট হচ্ছে। গণতন্ত্রকে হত্যা করা হচ্ছে।"
এর পরেই পুলিশের বিরুদ্ধে আরও আক্রমণাত্মক হন তিনি। তাঁর অভিযোগ, সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে পুলিশ দুর্ব্যবহার করছে। এমন পরিস্থিতিতে মানুষকে প্রতিরোধ গড়ে তোলার কথাও বলেন তিনি। প্রয়োজনে পুলিশের সঙ্গে যুদ্ধে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেন নওদার বিধায়ক। রেজিনগরের ওসিকে উদ্দেশ করেও কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন তিনি।
হুমায়ুনের এই মন্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁকে দলীয় কার্যালয় থেকে থানায় নিয়ে যাওয়ার ঘটনা সামনে আসে। দলের কর্মী সমর্থকেরা তাঁকে ঘিরে রাখার চেষ্টা করেন। পুলিশ তাঁকে বাইরে নিয়ে আসার সময় উত্তেজনা তৈরি হয়। তখনই ধস্তাধস্তির পরিস্থিতি তৈরি হয় বলে জানা গিয়েছে। পরে পুলিশ তাঁকে নিজেদের গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়।
{{/usCountry}}হুমায়ুনের এই মন্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁকে দলীয় কার্যালয় থেকে থানায় নিয়ে যাওয়ার ঘটনা সামনে আসে। দলের কর্মী সমর্থকেরা তাঁকে ঘিরে রাখার চেষ্টা করেন। পুলিশ তাঁকে বাইরে নিয়ে আসার সময় উত্তেজনা তৈরি হয়। তখনই ধস্তাধস্তির পরিস্থিতি তৈরি হয় বলে জানা গিয়েছে। পরে পুলিশ তাঁকে নিজেদের গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়।
{{/usCountry}}রেজিনগরের এই ঘটনার রাজনৈতিক গুরুত্বও যথেষ্ট। কারণ, এই উপনির্বাচন হুমায়ুনের ছেড়ে দেওয়া আসনেই হচ্ছে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তিনি রেজিনগর এবং নওদা দুই কেন্দ্র থেকেই জিতেছিলেন। পরে নওদা আসনটি রেখে রেজিনগর ছেড়ে দেন। সেই কারণেই এই উপনির্বাচন। তাঁর দল আজুপ সেখানে তাঁর ছেলে গোলাম নবী আজাদকে প্রার্থী করেছে।
ভোটের আগে থেকেই পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সরব ছিলেন হুমায়ুন। তাঁর অভিযোগ ছিল, তাঁর দলের নেতা কর্মীদের একের পর এক গ্রেফতার করা হচ্ছে এবং প্রচারে বাধা দেওয়া হচ্ছে। পুলিশ অবশ্য এই অভিযোগের পাল্টা নিরপেক্ষ তদন্ত এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজের কথাই জানিয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
রেজিনগরে মোট ৩১৫টি বুথ রয়েছে। ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে সকাল ৭টায় এবং চলবে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। প্রতিটি বুথেই কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। ভোটের ফল প্রকাশ হবে ৯ অক্টোবর।
এখন নজর একটাই, থানায় নিয়ে যাওয়ার পর হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়। একই সঙ্গে তাঁর দল এবং বিরোধীরা এই ঘটনার প্রতিবাদে পথে নামে কি না, তা নিয়েও তৈরি হয়েছে নতুন জল্পনা। ভোটের দিনই রেজিনগরে যে ভাবে উত্তেজনা বাড়ল, তাতে দিনের বাকি সময়েও পরিস্থিতি যে যথেষ্ট স্পর্শকাতর, তা বলাই যায়।