আইএসআইয়ের নেটওয়ার্কের অভিযোগের মধ্যেই এবার দক্ষিণ ২৪ পরগনায় আল কায়দার মডিউল সক্রিয় করার চেষ্টার অভিযোগ। ভাঙড় ও নোদাখালি এলাকায় অভিযান চালিয়ে রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স বা এসটিএফ গ্রেপ্তার করেছে দুই সন্দেহভাজন জঙ্গিকে। তদন্তকারীদের দাবি, ধৃত দু’জনই আল কায়দা ইন ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্ট বা আকিসের সঙ্গে যুক্ত এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা-সহ আশপাশের এলাকায় সংগঠনের নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করছিল।

এসটিএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, সামাজিক মাধ্যমে ‘মুঘলে আজম’ এবং ‘জিহাদ-ই-সবিবিল্লাহ’ নামে দুটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে দীর্ঘদিন ধরে ভারতবিরোধী প্রচার চালানো হচ্ছিল। অভিযোগ, ওই অ্যাকাউন্টগুলির মাধ্যমে উসকানিমূলক বার্তা ছড়ানোর পাশাপাশি নির্দিষ্ট এলাকায় মানুষের মধ্যে দাওয়াতের মাধ্যমে সংগঠনের প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা চলছিল। অভিযোগ পাওয়ার পরই বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করে এসটিএফ।
তদন্তের সূত্র ধরেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড় এলাকায় অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে গ্রেপ্তার করা হয় জিন্নাতুল কিবরিয়া ওরফে জানাতুল বেগ ওরফে টুটুলকে। ভাঙড়ের পানাপুকুর এলাকার একটি ভাড়া বাড়িতে থাকতেন তিনি। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই একা সেখানে বসবাস করছিলেন টুটুল। খুব একটা বাইরে বেরোতেন না। দিনের বেশিরভাগ সময় ঘরের মধ্যেই মোবাইলে ব্যস্ত থাকতেন বলে জানিয়েছেন প্রতিবেশীরা।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, আগে ল্যাপটপ বা কম্পিউটার ব্যবহার করলেও সাম্প্রতিক সময়ে যাবতীয় কাজ মোবাইল ফোনের মাধ্যমেই করতেন টুটুল। মাঝে মধ্যে কিছু লোক তাঁর সঙ্গে দেখা করতে আসত বলেও স্থানীয়দের দাবি। তবে তাঁদের পরিচয় বা কী ধরনের কাজ চলত, সে বিষয়ে তাঁরা কিছু জানতেন না।
অন্যদিকে, নোদাখালি এলাকা থেকে সফিক শেখ নামে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করেছে এসটিএফ। তদন্তকারীদের দাবি, টুটুল ও সফিক দু’জনই আকিসের সদস্যপদ গ্রহণ করেছিল। তাঁদের বিরুদ্ধে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জুড়ে একটি আল কায়দা মডিউল তৈরির চেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছে।
{{/usCountry}}অন্যদিকে, নোদাখালি এলাকা থেকে সফিক শেখ নামে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করেছে এসটিএফ। তদন্তকারীদের দাবি, টুটুল ও সফিক দু’জনই আকিসের সদস্যপদ গ্রহণ করেছিল। তাঁদের বিরুদ্ধে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জুড়ে একটি আল কায়দা মডিউল তৈরির চেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছে।
{{/usCountry}}গোয়েন্দাদের দাবি, স্থানীয় মানুষের সঙ্গে মিশে গিয়ে সংগঠনের প্রভাব বিস্তারের কৌশল নেওয়া হয়েছিল। কখনও দাওয়াতের নামে লোকজনকে নির্দিষ্ট স্থানে ডাকা, আবার কখনও মাদ্রাসাকে কাজে লাগিয়ে মানসিক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ। শুধু দক্ষিণ ২৪ পরগনা নয়, আশপাশের জেলাগুলিতেও ধীরে ধীরে নেটওয়ার্ক বিস্তারের পরিকল্পনা ছিল বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।
এসটিএফের দাবি, ধৃত দু’জন দীর্ঘদিন ধরেই ভারতবিরোধী কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত ছিল। সামাজিক মাধ্যমে তাদের প্রচার, যোগাযোগের ধরন এবং সম্ভাব্য সংগঠন বিস্তারের পরিকল্পনা—সবকিছুই এখন খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাঁদের সঙ্গে আরও কেউ যুক্ত ছিল কি না, সেই বিষয়েও তদন্ত শুরু হয়েছে।
ভাঙড় ও নোদাখালি থেকে এই দুই গ্রেপ্তারের পর দক্ষিণবঙ্গে জঙ্গি নেটওয়ার্কের সম্ভাব্য বিস্তার নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে সামাজিক মাধ্যমকে ব্যবহার করে তরুণদের প্রভাবিত করার চেষ্টা এবং স্থানীয় স্তরে সংগঠনের ভিত্তি তৈরির অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে এসটিএফ।
ধৃতদের জেরা করে তাঁদের যোগাযোগ, অর্থের উৎস, সামাজিক মাধ্যমের নেটওয়ার্ক এবং দক্ষিণবঙ্গের অন্য কোথাও এমন কোনও মডিউল সক্রিয় রয়েছে কি না, তা খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। ফলে ভাঙড়ে দুই সন্দেহভাজন জঙ্গির গ্রেপ্তারি তদন্তকে আরও বড় পরিসরে নিয়ে যেতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।