Alipurduar University: আলিপুরদুয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ইউনিয়ন রুম থেকে কন্ডোম, মদের বোতল, গাঁজার সরঞ্জাম এবং নেশার সিরিঞ্জ উদ্ধারের দাবিকে ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে শিক্ষাঙ্গনে। সোমবার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে বিক্ষোভও দেখায় অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ। অভিযোগ অনুযায়ী, এদিন আদালতের নির্দেশে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা ছাত্র ইউনিয়ন রুমের দরজার তালা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করেন এবিভিপির সদস্যরা। তাঁদের দাবি, ঘরের ভিতরে বিপুল সংখ্যক কন্ডোমের প্যাকেট, ভাঙা মদের বোতল, গাঁজার কল্কে, নেশার সিরিঞ্জ এবং অন্যান্য সামগ্রী ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভিতরে এমন সামগ্রী কীভাবে এল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এবিভিপির অভিযোগ, তৃণমূল আমলে ওই ইউনিয়ন রুমটি তৃণমূল ছাত্র পরিষদ-এর নিয়ন্ত্রণে ছিল এবং সেখানে নানা অসাধু কার্যকলাপ চলত। তবে এই অভিযোগের সমর্থনে এখনও কোনও সরকারি তদন্তের রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসেনি। আলিপুরদুয়ার নগর মণ্ডলের এবিভিপি সম্পাদক রজত দে সরকার দাবি করেছেন, ইউনিয়ন রুম থেকে গাঁজার সরঞ্জাম, কন্ডোম, নেশার সিরিঞ্জ, ভাঙা মদের বোতল-সহ একাধিক সামগ্রী পাওয়া গিয়েছে। তাঁর বক্তব্য, ছাত্র ইউনিয়নের ঘরে এই ধরনের জিনিস কীভাবে এল, তা তদন্ত করে দেখার প্রয়োজন রয়েছে।
ঘটনার প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে বিক্ষোভ দেখিয়ে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছে এবিভিপি। অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই বিষয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। আলিপুরদুয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সরিৎকুমার চৌধুরি জানিয়েছেন, ঘটনাটি তাঁদের সামনে ঘটেনি। তাঁর বক্তব্য, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ইউনিয়ন রুম এখনও তালাবন্ধ অবস্থাতেই রয়েছে। ফলে এই বিষয়ে তিনি কোনও মন্তব্য করতে চান না।জানা গিয়েছে, ঘটনার পর ছাত্ররাই পুনরায় ইউনিয়ন রুমে তালা লাগিয়ে দেয়। অভিযোগগুলির সত্যতা এবং উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর উৎস সম্পর্কে এখনও পর্যন্ত কোনও স্বাধীন প্রশাসনিক বা পুলিশি তদন্তের ফল সামনে আসেনি। ফলে বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক এবং রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।